
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: চীনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির প্রথম ধাপে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর অংশ হিসেবে ১৫ ডিসেম্বর চীনের ১৬ হাজার কোটি ডলারের ভোক্তাপণ্যে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে ওয়াশিংটন। এদিকে চুক্তির অংশ হিসেবে ৫ হাজার কোটি ডলারের মার্কিন কৃষিপণ্য আমদানিতে সম্মত হয়েছে বেইজিং। বিষয়সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর ব্লুমবার্গ, রয়টার্স।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের সামনে তার উপদেষ্টারা যে চুক্তিটি উপস্থাপন করেন, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের অধিক কৃষিপণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতির বিষয়টি রয়েছে বলে জানায় সূত্রগুলো। বর্তমানে যে শুল্ক কার্যকর রয়েছে, তা কমানোর ব্যাপারেও কর্মকর্তারা আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে। উভয় পক্ষ শর্তগুলোতে ঐকমত্যে পৌঁছেছে; তবে চুক্তির আইনি ভাষা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন হোয়াইট হাউজের এক মুখপাত্র।
পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত সূত্রগুলো বলছে, স্থানীয় সময় শুক্রবারে ওয়াশিংটনের ঘোষণা আসতে পারে। ১৫ ডিসেম্বর চীনের ১৬ হাজার কোটি ডলারের ভোক্তাপণ্যে নতুন দফা শুল্ক আরোপ করছে না যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে ২০২০ সালে মার্কিন কৃষিপণ্য আমদানি বৃদ্ধির অঙ্গীকার করেছে চীন, যা ২০১৭ সালের দ্বিগুণ।
বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ইতিবাচক খবরে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে রেকর্ড চড়াভাব দেখা গেছে এবং বন্ডের ইল্ড বেড়েছে। বৃহস্পতিবার এক টুইটে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একটি বড় চুক্তি স্বাক্ষরের খুবই কাছাকাছি চলে এসেছে। তারাও এটা চাচ্ছে, আমরাও চাচ্ছি। নিউইয়র্ক শেয়ারবাজার খোলার ৫ মিনিট আগের এ টুইটে শেয়ারদর বাড়িয়ে দিয়েছে। চীনের ইউয়ানের মান চলতি বছরের সর্বোচ্চে উঠে এসেছে।
সূত্রগুলো বলছে, ঘোষণার পর যেন সব মহল থেকে সমর্থন পায়, সেজন্য ক্যাপিটাল হিলের মিত্র ও ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথা বলছে ট্রাম্প প্রশাসন। বাণিজ্য উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকের আগে বিজনেস গোলটেবিলের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিত্ব করছে বিজনেস গোলটেবিল।
চীনের সঙ্গে চুক্তিতে এর আগেও বেশ কয়েকবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন ট্রাম্প। চুক্তির প্রাথমিক ধাপ কার্যকর করা নিয়ে উভয়পক্ষ কয়েক মাসব্যাপী আলোচনা চালিয়েছে। গত অক্টোবরে এক ঘোষণায় ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দুই পক্ষ কাগজে-কলমে চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে।
প্রায় ২০ মাস ধরে চলা বাণিজ্যযুদ্ধে চীনের ২৫ হাজার কোটি ডলারের পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া আরো ১১ হাজার কোটি ডলারের পণ্যে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। নয় সপ্তাহ আগে ট্রাম্পের ঘোষণার পর শুল্কহার অন্তত অর্ধেক কমানো নিয়ে উভয়পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
শুল্কহারে ছাড় পেতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য আমদানি বাড়াতে সম্মত হয়েছে চীন। সূত্রগুলো বলছে, মেধাস্বত্ব চুরি ও মুদ্রা কারসাজি করা থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে চুক্তির প্রাথমিক ধাপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনীতি। পরবর্তীতে আলোচনার জন্য যে বিষয়গুলো ফেলে রাখা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে চীনের বিশালাকারের ভর্তুকি ও স্বল্পব্যয়ী ঋণ। এ পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে সস্তায় বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে শুরু করে নিজেদের শিল্প উৎপাদন ক্ষমতা মজবুত করেছে বেইজিং।
রোববার স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিটে চীনের ওপর শুল্ক বৃদ্ধির কথা ছিল। এমনটা হলে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, খেলনার মতো ভোক্তাপণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতো বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। গতকালের আগ পর্যন্ত মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা মিশ্র ইঙ্গিত দিয়ে আসছিলেন। পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে যাচ্ছে ট্রাম্প সে বিষয়ে এখনো ভেবে উঠতে পারেননি বলে জানাচ্ছিলেন তারা।
চীনের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা নিয়ে উভয় সংকটে আছেন ট্রাম্প। তার সামনে এখন দুটো পথ, হয় তার পছন্দের শুল্কযুদ্ধ অব্যাহত রেখে চলমান তিক্ততা নিয়ে ২০২০ সালের নির্বাচনে যাবেন, না হয় বাজারমুখী উপদেষ্টা ও ব্যবসায়ী নেতাদের পরামর্শমাফিক উত্তেজনা প্রশমনে জোর দেবেন। বাণিজ্যযুদ্ধে ইস্তফা দিলে নির্বাচনী বছরে মার্কিন অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
(এসআর /১৪ ডিসেম্বর ২০১৯)