
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র ক্রমেই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরে এসে সুলভ গ্যাস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। এতে গত দুই বছর বাড়লেও চলতি বছর বিশ্বে কয়লার চাহিদা উল্লেখযোগ্য কমেছে। খবর গার্ডিয়ান ও ব্লুমবার্গ।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুসারে, দুই বছর বাড়ার পর কয়লার বৈশ্বিক চাহিদা চলতি বছর কমেছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ব্যবহার কমায় এটি সম্ভব হয়েছে।
জ্বালানি বিষয়ে নজরদারি করা সংস্থাটি বলছে, তবে এটাও ঠিক, বৈশ্বিকভাবে কয়লার চাহিদা কমেছে, এমনটা এখনই বলা যাবে না। কেননা কয়লার চাহিদা হ্রাসের বিষয়টি বহুলাংশে নির্ভর করছে চীনা নীতিনির্ধারকদের হাতে।
বিশ্বে বিদ্যুৎ উৎপাদনে এখনো একক বৃহত্তম উৎস কয়লা। বিশ্বের মোট কয়লার অর্ধেক উৎপাদন হয় চীনে এবং চীনা বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রগুলোয় ব্যবহার করা হয়।
গতকাল প্যারিসে প্রকাশ করা প্রতিবেদনটিতে বলা হচ্ছে, কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে বড় পতন দেখা গেছে, তাতে অবদান রেখেছে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে কয়লার চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে কমা।
গ্যাস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো বিকল্প উৎসগুলো সুলভে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যাওয়ায় পশ্চিমা দেশগুলো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে ক্রমেই সরে আসছে। এছাড়া বিদ্যুতের চাহিদা স্থিতিশীল থাকাও একটি বড় কারণ।
আইইএর পরিচালক কইসুকে সাদামোরি বলেন, তবে এখনই কয়লার
ব্যবহার শেষ হচ্ছে না, কারণ শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আরো বেশি করে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার প্রচেষ্টার কারণে আগামী বছরগুলোয় এশিয়ায় বিদ্যুৎ চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে থাকবে।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে এ অঞ্চলের ভাগ ১৯৯০ সালের ২০ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১৯ সালে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮০ শতাংশে। তাই কয়লার ভাগ্য নির্ধারণ আরো বেশি করে এশিয়ার মূল শক্তিগুলোর ওপর বর্তিয়েছে।
২০২০-২৪ সাল পর্যন্ত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সীমিত হারে বাড়বে বলে মনে করছে আইইএ, অন্তত ১ শতাংশের কম হারে। এমনটা হলে বৈশ্বিক কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন হার গত বছরের ৩৮ শতাংশ থেকে কমে ২০২৪ সালে হবে ৩৫ শতাংশ। আর কয়লার ব্যবহার বাড়তে থাকার অর্থ হচ্ছে, গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন কমানোর প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
তবে এ পূর্বাভাস বহুলাংশে নির্ভর করছে চীনের আগামী পাঁচ বছরের (২০২১-১৫) জ্বালানিসংক্রান্ত নীতি সিদ্ধান্তের ওপর। বায়ুদূষণ ও জলবায়ু সংকটের কারণে জীবাশ্ম জ্বালানিটির বিরুদ্ধে ক্রমেই জনমত গড়ে উঠছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও গ্যাস আরো সস্তা হয়ে ওঠায় অনেক দেশের সরকার কঠোরতর জলবায়ু ও পরিবেশনীতি গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। সাদামোরি বলেন, যদি চীনা কয়লানীতিতে পরিবর্তন হয়, তবে সবকিছুতে পরিবর্তন আসবে।
তিনি বলেন, অনেক উন্নত দেশে কয়লার ব্যবহার একেবারেই কমে এসেছে কিন্তু উন্নয়নশীল এশিয়ায় কয়লার উল্লেখযোগ্য ব্যবহার চলছে, এমনকি বাড়ছে।
প্যারিসভিত্তিক আইইএর জ্যেষ্ঠ জ্বালানি বিশ্লেষক ফার্নান্দেজ আলভারেজ বলেন, চলতি বছর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে, আর এর পেছনে অন্যতম অবদান রয়েছে ভারত ও চীনে জলবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়া ও তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ চাহিদা।
তবে এটাও ঠিক, এমন পতনের দেখা গেলেও ভারত, চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমেই বাড়তে থাকায় আগামী বছরগুলোয় কয়লার ব্যবহার বাড়বে। ২০১৮ সালে কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছিল প্রায় ২ শতাংশ, যা যেকোনো সময়ের সর্বোচ্চ।
আইইএর হিসাব অনুসারে, অর্থনীতিতে গতি আনতে ১৩০ কোটির বেশি লোকের দেশ ভারতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাড়বে গড়ে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কয়লার চাহিদা বাড়বে বছরে ৫ শতাংশের বেশি। তবে বিশ্বের অর্ধেকের বেশি কয়লা ব্যবহারকারী দেশ চীনে বৃদ্ধি সীমিত থাকবে, তবে ২০২২ সালে ব্যবহার সর্বোচ্চে পৌঁছতে পারে।
আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফেইথ বিরোল বলেন, কয়লা ব্যবহার কমাতে বৈশ্বিকভাবে নেয়া যেকোনো প্রচেষ্টার সফলতা নির্ভর করবে এশিয়ার দিকটি কীভাবে সামলানো যায়, তার ওপর।
(এসআর /১৮ডিসেম্বর ২০১৯)