
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: বেসিক ব্যাংকে নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুকে তলবের জন্য নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবেদন হাইকোর্টের নজরে এনে এ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তাইতাস হিল্লোল রেমা এসব প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। পরে তিনি বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।
বেসিক ব্যাংকে নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স, লিখিত-মৌখিক পরীক্ষা, নিয়োগ সংক্রান্ত বিধি-বিধান- কোনো কিছুই মানা হয়নি। রাষ্ট্রায়ত্ত এ ব্যাংকে স্থান হয়নি যোগ্য-মেধাবীদের। দুর্নীতি-অনিয়ম করে খেয়াল খুশিমতো নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যা অকল্পনীয়।
শেখ আবদুল হাই বাচ্চু বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকার সময় ক্ষমতার চূড়ান্ত অপব্যবহার, নজিরবিহীন অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি করে এক হাজার ১৭৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যার প্রমাণ উঠে এসেছে কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (সিএজি) নিরীক্ষা প্রতিবেদনে। সেখানে এ নিয়োগ-দুর্নীতির ঘটনাকে ‘নজিরবিহীন’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বেতন-ভাতার নামে বাড়তি অর্থ আত্মসাতের প্রমাণাদিও তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে।
আইনজীবী তাইতাস হিল্লোল রেমা পরে সাংবাদিকদের বলেন, বেসিক ব্যাংকে নিয়োগ নিয়ে এমন অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুকে তলবের জন্য নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সংশ্লিষ্ট সাতজনকে বিবাদী করা হয়েছে।
গত ২৯ নভেম্বর বেসিক ব্যাংকের নিয়োগে অনিয়ম নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় ও টেলিভিশনে সংবাদ প্রচার হয়। তদন্তের আবেদনে সেসব প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়েছে।
রোববার (২২ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানির অনুমতি নেয়া হয়।
(এসআর / ২২ডিসেম্বর ২০১৯)