
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব এবং বিভিন্ন কারণে প্রায় ৩৭৭টি প্রকল্পে ৩ দশমিক ৯৪ ট্রিলিয়ন রুপি অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে ভারতের। দেশটির পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রণালয় এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও পিটিআই।
১৫০ কোটি বা তার চেয়ে অধিক অর্থ ব্যয়ে নির্মিত ১ হাজার ৬৩৫টি প্রকল্পের মধ্যে ৩৭৭টিতেই অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময় অতিক্রম করলেও শেষ হয়নি ৫৬৫টি প্রকল্প।
২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, ১ হাজার ৬৩৫টি প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৯ লাখ ৪৭ হাজার ৪৬২ কোটি রুপি। কিন্তু তাদের আনুমানিক বাস্তবায়ন ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ২৩ লাখ ৪১ হাজার ৭৮৪ কোটি রুপি, যা প্রাথমিক সম্ভাব্য ব্যয় থেকে ২০ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ লাখ ৯৬ হাজার ৬১৪ কোটি রুপি ব্যয় হয়েছে, যা প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় থেকে ৪২ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেশি।
যদি সর্বশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন সময়সীমা বিবেচনা করা হয়, তাহলে বিলম্বিত প্রকল্পের সংখ্যা ৪৯৫-এ দাঁড়াবে বলে জানা গেছে। এছাড়া প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, প্রায় ৬৯৩টি প্রকল্প কবে শুরু হবে এবং তা কখন বাস্তবায়ন হবে, তা জানানো হয়নি।
৫৬৫টি বিলম্বিত প্রকল্পের মধ্যে ১৮২টি প্রকল্পে ১ থেকে ১২ মাস বিলম্ব হয়েছে, ১২৯টি প্রকল্পে ১৩ থেকে ২৪ মাস, ১৪০টি প্রকল্পে ২৫ থেকে ৬০ মাস এবং ১১৪টি প্রকল্পে ৬১ মাস বা তার চেয়ে বেশি বিলম্ব হচ্ছে। ৫৬৫টি বিলম্বিত প্রকল্পের গড় বিলম্ব দাঁড়িয়েছে ৩৮ দশমিক ৪১ মাস।
ভূমি অধিগ্রহণ, ফরেস্ট ক্লিয়ারেন্সে ও যন্ত্রপাতি সরবরাহে বিলম্ব প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বে প্রধান ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে তহবিল সংকট, আকস্মিক ভৌগোলিক ও ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতি, গণপূর্তের ধীরগতি, শ্রমিক সংকট এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অপর্যাপ্ত সমন্বয়, মাওবাদী সংকট, আদালতে মামলা, চুক্তিসংক্রান্ত বিষয়, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ইত্যাদি।
মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, প্রকল্প বাস্তবায়ন সংস্থাগুলো তাদের ব্যয় পূর্বাভাস ও পরবর্তী বাস্তবায়ন তারিখ সংশোধন করছে না। যে কারণে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের সময়সীমা বা আনুমানিক ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি হিসাবের বাইরে থেকে যাচ্ছে।
এদিকে আর্থিক সংকট কাটিয়ে ভারত আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার ব্যবসায়ী সংগঠন অ্যাসোচেমের বার্ষিক সম্মেলনে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে দাঁড়াবে ভারত। পাশাপাশি তিনি এও জানিয়েছেন, অবকাঠামো উন্নয়নে ১ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে তার সরকার।
বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, দেশের অর্থনৈতিক শ্লথগতি নিয়ে কে কী বলছেন, তা তার জানা আছে। তিনি এ নিয়ে কোনো পাল্টা মন্তব্য করতে চান না। তবে এই শ্লথগতি কাটিয়ে শিগগিরই ভারত আগের চেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠবে বলে মনে করেন তিনি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৪ সালে প্রথমবার দায়িত্ব গ্রহণের আগেও দেশের অবস্থা চরম সংকটজনক দিকে যাচ্ছিল। তার সরকার শুধু তা প্রতিরোধই করেনি, বরং ভারতের অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা নিয়ে এসেছে। এ প্রসঙ্গে মোদি উল্লেখ করেন, এর আগে ইউপিএ সরকারে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হার সাড়ে ৩ শতাংশে নেমে গিয়েছিল। বিজেপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিস্থিতির উন্নতি হয়।
ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (আরবিআই) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৫ শতাংশ বেড়েছে। সেপ্টেম্বর নাগাদ ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৩ হাজার ৩৭০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত মার্চে ছিল ৪১ হাজার ২৮৭ কোটি ডলার। আরবিআইয়ের অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ আরবিআইয়ের নিয়ন্ত্রণে স্বর্ণ ছিল ৬১৮ দশমিক ১৭ টন।
(এসআর / ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯)