
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক,ঢাকা: নতুন দশকের শুরুতেই বিশ্বব্যাপী আর্থিক বাজারগুলোয় লেনদেন ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। মূলত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পূর্বাভাসের উন্নয়ন বিনিয়োগকারিদের আশাবাদী করে তোলায় ইউরোপে শেয়ারবাজারগুলো চাঙ্গা হয়ে উঠেছে, ওয়াল স্ট্রিটের সূচকগুলো নতুন রেকর্ড তৈরি করছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করে তোলায় গতকাল এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোয় অবনতি দেখা গেছে। খবর গার্ডিয়ান, সিএনবিসি।
প্রবৃদ্ধি চাঙ্গা করতে ২০২০ সালের প্রথম দিনই প্রায় ১১ হাজার ৪৯০ কোটি ডলার (প্রায় ৮০ হাজার কোটি ইউয়ান) অবমুক্তির ঘোষণা দিয়েছে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপলস ব্যাংক অব চায়না (পিওবিসি)। এদিকে ১৫ জানুয়ারি বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ‘ফেজ ওয়ান’ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে নতুন দশকের প্রথম লেনদেন অধিবেশনেই বৈশ্বিক বাজারগুলোয় শেয়ারদর চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।
আশাবাদ বৃদ্ধি পাওয়ায় বৃহস্পতিবার লন্ডন এক্সচেঞ্জের এফটিএসই-১০০ সূচকটি ৬০ পয়েন্টের বেশি বা দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৭ হাজার ৬০৪ পয়েন্ট দিয়ে লেনদেন শেষ করে। এছাড়া প্যারিস, ফ্রাংকফুর্ট ও মিলানেও ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে গত মাসের অর্জন ছাড়িয়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে ওয়াল স্ট্রিটের অন্যতম সূচক ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ। বৃহস্পতিবার সূচকটি ১৮০ পয়েন্ট বা দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি দিয়ে লেনদেন শেষ করে। লেনদেনের শুরুতেই দশমিক ৯ শতাংশ বাড়ে নাসডাক সূচক। এছাড়া এসঅ্যান্ডপি-৫০০ সূচকটিকেও দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে দেখা যায়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরাক-ইরান সম্পর্কের দোলাচলে সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছেন। ফলে গতকাল এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোয় পতন দেখা যায়।
গতকাল শেষ মুহূর্তের লেনদেনে হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক প্রায় দশমিক ২ শতাংশ হ্রাস পায়। এর মধ্যে এইচএসবিসির শেয়ারদরে দশমিক ৫৭ শতাংশ পতন ঘটেছে। মূল ভূখণ্ড চীনের শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সাংহাই কম্পোজিট সামান্য কমে প্রায় ৩ হাজার ৮৩ দশমিক ৭৯ পয়েন্টে দাঁড়ায়, অন্যদিকে শেনঝেন কম্পোনেন্ট দশমিক ১৭ শতাংশ যোগ করে ১০ হাজার ৬৫৪ দশমিক ৪১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর রিজার্ভ হিসেবে রাখা নগদ অর্থের পরিমাণ হ্রাস করার ঘোষণা দেয় চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষ তুলনামূলক ক্ষুদ্র কোম্পানিগুলোর অর্থায়ন ব্যয় কমাতে ২০২০ সালজুড়ে আরো পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে বলে আভাস দেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এসব পদক্ষেপ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতিটির প্রবৃদ্ধির মন্থরগতির লাগাম টেনে ধরতে সহায়তা করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
আর্থিক লেনদেন প্রতিষ্ঠান আইজির জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক জশুয়া ম্যাহনি বলেন, চীন ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রায় ১১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার অবমুক্ত করলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কোম্পানিগুলোর ঋণ প্রদানের সক্ষমতা বাড়বে। এর মধ্য দিয়ে বৃহত্তর অর্থনীতি উপকৃত হবে।
এদিকে বছরের শুরুতে আশাবাদ সত্ত্বেও বিভিন্ন ব্যবসা জরিপে গত মাসে যুক্তরাজ্য ও ইউরো অঞ্চলের কারখানা উৎপাদনে পতন ঘটতে দেখা গেছে, যা ব্রেক্সিটসংশ্লিষ্ট উদ্বেগ ও যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাবের প্রতিফলন। যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাবে ২০১৯ সালে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও ব্যবসা বিনিয়োগ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সম্পর্কের অগ্রগতি দেখা না-ও যেতে পারে। তারা অতীত উদাহরণ টেনে বলেন, এর আগেও সমঝোতার পর পুনরায় বাণিজ্য বিরোধ ঘটতে দেখা গেছে।
আর্থিক লেনদেন প্রতিষ্ঠান ওয়ান্ডার জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক ক্রেইগ এরলাম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একটি ফেজ ওয়ান বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে বা যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ব্রেক্সিটের পর ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেই আকস্মিকভাবে সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবে এমনটা নয়। ২০২০ সালটিও আরেকটি ঝঞ্ঝাপূর্ণ বছর হয়ে উঠতে পারে, যেখানে বহু আকস্মিক ঘটনা ঘটার সম্ভবনা রয়েছে।
(এসআর / ০৪ জানুয়ারি, ২০২০)