Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Tuesday, 28 Jul 2026 06:48
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক,ঢাকা: আসন্ন বাজেটে সরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর জন্য (পিএসবি) মূলধন বরাদ্দের ঘোষণা দেয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই ভারত সরকারের। বরং মন্দ ঋণ আদায় ও বাজার থেকে তহবিল সংগ্রহের জন্য সরকারি খাতের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করা হবে। বিষয়সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। খবর লাইভমিন্ট।

সূত্রগুলো আরো জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে তহবিল সংগ্রহের অংশ হিসেবে ব্যাংকগুলো ব্যবসায় বৈচিত্র্য আনার অথবা নিজেদের মূল-বহির্ভূত (নন-কোর) ব্যবসা বিক্রি করে দেয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারে।

আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় বাজেট উত্থাপন করতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্রগুলোর দেয়া তথ্য অনুসারে, চলতি পঞ্জিকা বর্ষে ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনাল (এনসিএলটি) ও এনসিএলটি-বহির্ভূত মামলাগুলোর নিষ্পত্তির ফলে পুনরুদ্ধারের শক্তিশালী পাইপলাইন রয়েছে ভারতের ব্যাংকগুলোর। একই সঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজার থেকে মূলধন সংগ্রহেরও যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

চলতি বছরে ভারতের সরকারি খাতের ব্যাংকগুলো মন্দঋণের বিপরীতে ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে পেরেছে, যা সাত বছরের সর্বোচ্চ। বেশকিছু খেলাপি ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলো শতভাগ পর্যন্ত সঞ্চিতি সংরক্ষণে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে বেশকিছু ব্যাংকের শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভারতের বৃহত্তম ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (এসবিআই) এরই মধ্যে নিজেদের সাবসিডিয়ারি কোম্পানি এসবিআই কার্ডস অ্যান্ড পেমেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড ও ইউটিআই মিউচুয়াল ফান্ড থেকে অংশীদারিত্ব কমানোর প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ৫০ লাখ শেয়ার বিক্রি করে দেয়ার পরিকল্পনা করেছে।

মূলধন সংগ্রহের প্রক্রিয়া হিসেবে অন্যান্য রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ঋণদাতাগুলোও একই ধরনের চর্চা শুরু করে দিয়েছে।

এদিকে ২০১৯ সালের আগস্টে ঘোষিত মেগা-মার্জার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চলতি অর্থবছরে বরাদ্দকৃত ৭০ হাজার কোটি রুপির মধ্যে সরকার এরই মধ্যে ৬৮ হাজার ৮৫৫ কোটি রুপি মূলধন অবমুক্ত করেছে।

ভারতের প্রধান চারটি সরকারি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংককে (পিএনবি) ১৬ হাজার ৯১ কোটি রুপি, ইউনিয়ন ব্যাংক অব ইন্ডিয়াকে ১১ হাজার ৭৬৮ কোটি রুপি, কানাড়া ব্যাংককে ৬ হাজার ৫৭১ কোটি রুপি ও ইন্ডিয়ান ব্যাংককে ২ হাজার ৫৩৪ কোটি রুপি দেয়া হয়েছে।

একীভবনের অধীনে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এলাহাবাদ ব্যাংককে ২ হাজার ১৫৩ কোটি রুপি, ইউনাইটেড ব্যাংক অব ইন্ডিয়াকে ১ হাজার ৬৬৬ কোটি রুপি ও অন্ধ্র ব্যাংককে ২০০ কোটি রুপি দেয়া হয়েছে।

এর বাইরে মূলধন হিসেবে ব্যাংক অব বারোদা ৭ হাজার কোটি রুপি, ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাংক ৪ হাজার ৩৬০ কোটি রুপি, ইউসিও ব্যাংক ২ হাজার ১৪২ কোটি রুপি, পাঞ্জাব অ্যান্ড সিন্ধ ব্যাংক ৭৮৭ কোটি রুপি ও সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ৩ হাজার ৩৫৩ কোটি রুপি পেয়েছে।

এছাড়া অনুদানের প্রথম সম্পূরক দাবির মাধ্যমে অতিরিক্ত ৪ হাজার ৫৫৭ কোটি রুপি মূলধন পাবে লাইফ ইন্স্যুরেন্স করপোরেশন (এলআইসি) নিয়ন্ত্রিত আইডিবিআই ব্যাংক। গত মাসে পার্লামেন্টে এটি অনুমোদন করা হয়।

এদিকে ভারতের তিনটি সরকারি ব্যাংকের একীভূতকরণের জন্য চলতি বছরের ৩১ মার্চের সময়সীমার মধ্যে অন্যান্য রেগুলেটরি শর্ত পূরণ করতে হবে। ফলে আগামী অর্থবছরের শুরুতেই একীভূত সংস্থাটি অস্তিত্ব প্রকাশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ভারত সরকারের অল্টারনেটিভ মেকানিজম এরই মধ্যে পাঞ্জাব ব্যাংকের সঙ্গে ইউনাইটেড ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ও ওরিয়েন্টাল ব্যাংক অব কমার্সের একীভবনের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। একীভবন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলে প্রস্তাবিত সংস্থাটি ভারতের দ্বিতীয় বৃহৎ সরকারি খাতের ব্যাংক (পিএসবি) হবে।

এর বাইরে কানাড়া ব্যাংকের সঙ্গে সিন্ডিকেট ব্যাংক, ইন্ডিয়া ব্যাংকের সঙ্গে এলাহাবাদ ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে অন্ধ্র ব্যাংক ও করপোরেশন ব্যাংক একীভূত হবে।

(এসআর / ০৬ জানুয়ারি, ২০২০)