
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: চলতি বছর জাপানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মাঝারি গোছের কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জাপান সেন্টার ফর ইকোনমিক রিসার্চ (জেসিইআর)। ভোগ কর বৃদ্ধিসহ বৈশ্বিক অর্থনীতি মন্থর থাকায় দেশটির ভোগ ব্যয় ও রফতানি কমায় প্রবৃদ্ধি হ্রাসের এ পূর্বাভাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর জাপান টুডে।
এপ্রিলে শুরু হতে যাওয়া ২০২০ অর্থবছরে দেশটির প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) দশমিক ৪৯ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস করেছেন জেসিইআরের ৩৫ অর্থনীতিবিদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ।
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিটির প্রবৃদ্ধি ২০২০ অর্থবছরে ছয় বছরের দ্বিতীয় শ্লথ অবস্থার মুখোমুখি হতে পারে। এদিকে ২০১৯ অর্থবছরে এ অর্থনীতি বেড়েছিল দশমিক ৮৭ শতাংশ, যা গত তিন বছরের সর্বোচ্চ।
অন্যদিকে আসন্ন নির্বাচনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনর্নির্বাচিত হলে জাপানের প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাসের তুলনায় বেশি খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষত নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্প অর্থনীতির ক্ষেত্রে সংরক্ষণবাদী ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি জোরদার করলে জাপানের প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় বেশি কমতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে।
এদিকে শ্লথ অবস্থা থেকে অর্থনীতি চাঙ্গা করতে হলে কর বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব কমাতে হবে বা আন্তর্জাতিক বাজারে দেশটির পণ্যের চাহিদা ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা হাজির করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন দাইওয়া গবেষণা ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ শানসুকে কোবায়াশি।
গত বছরের ১ অক্টোবর দেশটির ভোগ কর ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০ শতাংশে দাঁড়ায়। এটি দেশটির বেসরকারি ভোগ হ্রাসের ইঙ্গিত দেয় বলে জানিয়েছেন কোনো কোনো অর্থনীতিবিদ।
গত বছরের অক্টোবরে দেশটির গার্হস্থ্য ব্যয় বছরওয়ারি হিসাবে ১১ মাসের নিম্নে নেমে আসে। মাসটিতে অর্থনীতিটির খুচরা বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চার বছরের নিম্নে পৌঁছেছে।
এদিকে ২০২০ অর্থবছরে দেশটির গার্হস্থ্য কর বেড়ে ২ ট্রিলিয়ন ইয়েনে দাঁড়াতে পারে বলে জানিয়েছেন কোবায়াশি। নগদবিহীন ক্রয় বাড়াতে সরকার কেনাকাটায় যে পুরস্কার কর্মসূচি শুরু করেছে, তাও এখানে আমলে নেয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, উচ্চ করের নেতিবাচক প্রভাব কমাতে কর্মসূচিটি হাতে নিয়েছে সরকার। অন্যদিকে অর্থনীতিটির কর বৃদ্ধি সম্পর্কে মেইজি ইয়েজুদা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইউচি কোদামা বলেন, কর বৃদ্ধিতে আমাদের শ্রমবাজারের বিকাশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অর্থাৎ আমাদের অর্থনীতি ২০২০ অর্থবছরে বাড়ছে না।
দেশটির প্রবৃদ্ধির বড় হিস্যা আসে রফতানি খাত থেকে। গত বছরের নভেম্বরে তা টানা ১২ মাস মন্থরে ছিল। আগামীতে তা অনুরূপ থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। এ সময় চীনসহ বিভিন্ন দেশে জাপানের গাড়ির বিভিন্ন পার্ট ও অন্য সরঞ্জাম রফতানি কমায় এমনটি হয়েছে।
এদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের ধকল সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে বেইজিং। চীনের অর্থনৈতিক পূর্বাভাস নিয়ে এখনো নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। বিশ্ব অর্থনীতির প্রধান দুই শক্তির মধ্যে সম্প্রতি প্রথম পর্যায়ের বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা অনেক দূর এগোলেও দেশ দুটির মধ্যে বাণিজ্যিক দ্বন্দ্ব সহসা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তবে জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ট্রাম্পের উপর্যুপরি আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির রফতানি বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
(এসআর/এসএএম/ ০৭ জানুয়ারি, ২০২০)