
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক,ঢাকা: চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধ কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। শীর্ষ দুই অর্থনীতির এ দ্বন্দ্বে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বিশ্ব অর্থনীতি একে স্বাগত জানাতেই পারে। তবে ২০২০ সালে বৈশ্বিক অর্থনীতির সামনে এখনো উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। খবর সিএনএন বিজনেস।
বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদরা চলতি বছরের জন্য শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ থেকে আড়াই শতাংশ বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস দিচ্ছেন। গত বছর চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধের ধাক্কা থেকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ধীরগতিতে উঠে দাঁড়ানোয় এ পূর্বাভাস দিচ্ছেন তারা, যা তথাকথিত প্রবৃদ্ধি মন্দার গড় ৩ শতাংশের অনেক কম। চীনসহ বেশ কয়েকটি উদীয়মান অর্থনীতি নিয়ন্ত্রিত বা মডারেট এ বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে নেতৃত্ব দেবে। ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে সংকটের জেরে উন্নত অর্থনীতিগুলোর জিডিপি মাত্র ১ দশমিক ৪০ শতাংশ বাড়তে পারে, যা ২০১৯ সালের কম। উপকরণ ব্যয় বৃদ্ধি ও চাহিদায় শ্লথগতিতে গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময়ই যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানুফ্যাকচারিং খাত সংকুচিত হয়েছে।
এক সংবাদ বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংক জানায়, গত বছরের শুল্ক আরোপ ও অনিশ্চয়তায় চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের ১ দশমিক ৮০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আশা করা হচ্ছে। ২০২০ সালের জন্যও সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হতে পারে উভয় পক্ষের মধ্যে ফের বাণিজ্য উত্তেজনা শুরুর বিষয়টি।
আগামী সপ্তাহে যদিও উভয় পক্ষ প্রাথমিক ধাপের বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে, তবে দ্বিতীয় ধাপের বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরু ও সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়েও প্রথম ধাপের মতো ঝুঁকি রয়েছে।
২০২০ সালের জন্য আর যে যে ঝুঁকির কথা বলছে বিশ্বব্যাংক, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের ঋণহার বৃদ্ধি ও শ্লথগতির উৎপাদনশীলতা, যা ২০০৮-এর আর্থিক সংকট-পরবর্তী সর্বনিম্ন।
এক দশক আগে শুরু হওয়া দেশগুলোর ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বৃহত্তম, দ্রুততম ও সবচেয়ে বিস্তৃত সম্প্রসারণ হয়েছে বলে জানায় বিশ্বব্যাংক। এবং বিশ্বব্যাপী নিম্ন সুদহারের কারণে এ ঋণভার আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে নিউইয়র্কভিত্তিক এ আর্থিক সংগঠন।
প্রবৃদ্ধি চাঙ্গা করতে গত বছর সুদহার তিনবার কর্তন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড)। ফেডের পথ অনুসরণ করে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার কমাচ্ছে। সহজে ঋণগ্রহণের এ সুবিধার কারণে বিভিন্ন দেশে ঋণগ্রহণের পরিমাণ বাড়ছে, যাতে আরো সংকট সৃষ্টি হতে পারে, বিশেষ করে যখন সুদহার ফের বাড়ানো হবে তখন।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান দপ্তর বৃহস্পতিবার এক ঘোষণায় জানায়, গত নভেম্বরে ইইউতে বেকারত্ব হার (৬.৩ শতাংশ) ২০০০-পরবর্তী সর্বনিম্নে ছিল। ইউরো অঞ্চলের ১ কোটি ২৩ লাখসহ ২৮ সদস্যবিশিষ্ট ইইউতে নভেম্বরে কর্মহীন ছিল ১ কোটি ৫৬ লাখ জন। ইউরোস্টেট বলছে, ইইউতে সর্বনিম্ন বেকারত্ব হার ছিল চেক রিপাবলিক (২ দশমিক ২ শতাংশ), জার্মানি (৩ দশমিক ১ শতাংশ) ও পোল্যান্ডে (৩ দশমিক ২ শতাংশ)। আর সর্বোচ্চ বেকারত্বের হার ছিল গ্রিস (১৬ দশমিক ৮ শতাংশ, সেপ্টেম্বরে সর্বশেষ প্রাপ্ত উপাত্ত) ও স্পেনে (১৪ দশমিক ১ শতাংশ)।
উপাত্তে দেখা গেছে, ইইউ২৮-তে তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব হার ছিল ১৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। বিবৃতিতে ইউরোস্টেট বলছে, ইইউ২৮-এর ৩২ লাখ তরুণ (২৫ বছরের কম বয়সী) বেকার, যার মধ্যে ২৩ লাখ ইউরো অঞ্চলের। ২৮ সদস্যবিশিষ্ট ইইউর মধ্যে যারা ইউরোকে মুদ্রা হিসেবে গ্রহণ করেছে, সেগুলোকে একত্রে ইউরো অঞ্চল বলে।
(এসআর /১১জানুয়ারি, ২০২০)