Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Monday, 27 Jul 2026 09:40
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: কেন্দ্রীয় মুম্বাইয়ে মোবাইল ফোনের ব্যবসা করেন গৌরব জৈন। অনলাইন খুচরা কোম্পানিগুলোর বিপুল ডিসকাউন্টের কারণে নিজের ব্যবসা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান তিনি। তিনি বলেন ক্রেতারা আসেন, দেশে-শুনে দরদাম জিজ্ঞেস করে চলে যান। পরে সস্তায় অনলাইনে কেনাকাটা করেন।

ভারতে মার্কিন ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন ও ওয়ালমার্টের মালিকানাধীন ফ্লিপকার্টের ক্রমবর্ধমান কার্যক্রমের কারণে উদ্বেগে রয়েছেন জৈনের মতো দেশটির অজস্র দোকানদার। দ্রুত সম্প্রসারণশীল অনলাইন কার্যক্রম দেশটির প্রথাগত ব্যবসায়ীদের বিচলিত করছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের দেশটির প্রথাগত ব্যবসায়ীদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। দেশটির অর্থনীতির ধরনের কারণেই তা দরকার।

অনলাইন ও অফলাইন (দোকানদার) ব্যবসায়ীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হওয়ায় সাময়িকভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে রয়েছে দেশটির ই-কমার্স কোম্পানিগুলো। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অভিযোগের ভিত্তিতে চলতি সপ্তাহে তদন্ত শুরু করেছে কম্পিটিশন কমিশন অব ইন্ডিয়া (সিসিআই)। অ্যামাজন ও ফ্লিপকার্ট দেশটির প্রতিযোগিতা আইন লঙ্ঘন করছে কিনা, তা খতিয়ে দেখবে সিসিআই।

এদিকে গত বুধবার ভারতে তিনদিনের সফরে আসেন অ্যামাজনপ্রধান জেফ বেজোস। বেজোসের আগমন উপলক্ষে কনফেডারেশন অব অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্সের (সিএআইটি) নেতৃত্বে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন দেশটির ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। বিক্ষোভকারীদের ‘ফিরে যাও জেফ বেজোস’ ও ‘ফিরে যাও অ্যামাজন’ স্লোগানসংবলিত ব্যানার বহন করতে দেখা গেছে। বিক্ষোভ সম্পর্কে সিএআইটির সাধারণ সম্পাদক প্রবীণ খানদেলওয়াল বলেন, অ্যামাজন ও ফ্লিপকার্ট লুণ্ঠনমূলক মূল্য নির্ধারণ ও বিপুল ডিসকাউন্টের মাধ্যমে ব্যবসা করছে। অথচ এটি আমাদের আইনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অনলাইন খুচরা জায়ান্টদের বেআইনি প্রতিযোগিতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ভারতের কয়েক লাখ ব্যবসায়ী। অন্যদিকে ই-কমার্সের কারণে এ পর্যন্ত ১০ হাজার দোকান বন্ধ হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।

দেশটিতে ই-কমার্সের অসম ব্যবসা পদ্ধতি নিয়ে মাঝে মধ্যে আলোচনা হলেও বর্তমানে বিষয়টি বিতর্কের কেন্দ্রে পৌঁছেছে বলে জানান বিশ্লেষকরা। এ সম্পর্কে মুম্বাইভিত্তিক অর্থনৈতিক আইনচর্চা প্রতিষ্ঠানের অন্যতম কর্ণধার রবিশেখর নায়ার বলেন, আমাদের দেশে ই-কমার্সের কয়েক বছরের বিকাশ লক্ষ করলে দেখবেন, খাতটি ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে। ই-কমার্সকেন্দ্রিক ইস্যুগুলো নিয়ে, বিশেষত ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগের (এমএসএমই) ওপর অনলাইন ব্যবসার প্রভাব নিয়ে নিজেদের জোর প্রচারণা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে গ্রস মার্চেন্ডাইজ ভ্যালুর হিসেবে বছরওয়ারি দেশটির ই-কমার্স শিল্প ৩০ শতাংশ হারে বাড়ছে। এ হারে বাড়তে থাকলে ২০২৭ সাল নাগাদ খাতটি ২০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে বলে জানিয়েছে বিনিয়োগ ব্যাংক মরগান স্ট্যানলি। মধ্যবিত্ত শ্রেণীর আয় ও স্মার্টফোনের ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে দেশটিতে অনলাইন কেনাকাটা বাড়ছে।

১৩০ কোটি মানুষের দেশ ভারতে অনলাইন ব্যবসার উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখে সম্প্রতি সেখানে বিপুল বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন অ্যামাজনপ্রধান। অন্যদিকে ২০১৮ সালে ভারতীয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের শেয়ার কিনেছে মার্কিন খুচরা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট। প্রসঙ্গত, অ্যামাজন ও ওয়ালমার্ট মার্কিন কোম্পানি দুটি পরস্পরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।

এদিকে ই-কমার্সের বিকাশের কারণে চাপ বাড়ছে দেশটির ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর। এ প্রসঙ্গে দিল্লিভিত্তিক আর্থিক সেবাপ্রতিষ্ঠান ওয়েলথ ডিসকভারির পরিচালক রাহুল আগরওয়াল বলেন, ই-কমার্স ব্যবসা কার্যক্রম একটা জটিল পর্যায়ে পৌঁছার দরুন লাখ লাখ দোকানদার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ অবস্থায় অনলাইন ব্যবসা কার্যক্রমের প্রতিটি ধাপের সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকা দরকার।

(এসআর /২০ জানুয়ারি, ২০২০)