
ভৈরব প্রতিনিধি, বিনিয়োগবার্তা: প্রবীণ তিন সাংবাদিককে সম্মাননা দিয়েছে ভৈরব প্রেসক্লাব। কয়েক যুগ ধরে ভৈরবের সাংবাদিকতার বিকাশ অনেকটা তাদের হাত ধরেই হয়েছে। সম্মাননাপ্রাপ্ত সাংবাদিকরা হলেন-বশীর আহমদ, আব্দুল মতিন ও মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
শুক্রবার রাতে কিশোরগঞ্জের ভৈরব প্রেসক্লাব আয়োজিত বার্ষিক প্রীতিভোজ, গুণী সাংবাদিক সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তাদেরকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টের আপিল বিভাগের বিচারক মো: জাহাঙ্গীর হোসেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এই পৃথিবীর পদ-পদবী, অর্থ-বিত্ত ও ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী। মৃত্যুর সময় আপনি কিছুই নিয়ে যেতে পারবেন না। কোনো কিছুই তখন আপনার আর কোনো কাজে আসবে না। তাই এইসবের বাহাদুরিতে দাপট দেখাবেন না। দূর্নীতি করে, অবৈধভাবে এইসব অর্জনেরও চেষ্টা করবেন না।
এ সময় তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতা একটি চ্যালেঞ্জিং ও মহান পেশা। সামান্য লোভে পড়ে অথবা কারো দ্বারা প্রভাবিত, প্ররোচিত হয়ে সংবাদ পরিবেশন করা উচিত নয়।
তথ্যসমৃদ্ধ বস্তু-নিষ্ঠ সংবাদ এবং সংবাদকর্মীর কদর আগেও ছিলো, এখনও আছে। তাই এই বিষয়ে সকল সাংবাদিকদের সর্তক থাকতে হবে। এ সময় তিনি বরাবারের মতো ভৈরবের সাংবাদিকতাকে সমৃদ্ধশালী উল্লেখ করে বলেন, এই মাটির সন্তান হিসেবে এতে আমরা গর্ববোধ করি।
ভৈরব ভূমি অফিস চত্বরে প্রেসক্লাব সভাপতি মো: জাকির হোসেন কাজলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো: সায়দুল্লাহ মিয়া, পৌরসভার মেয়র, বীরমুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট ফখরুল আলম আক্কাছ, ময়মনসিংহ জেলা ও দায়রা জজ মো: হেলাল উদ্দিন, ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা। আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন এনটিভির স্টাফ রিপোর্টার মোস্তাফিজ আমিন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো: আনোয়ার হোসেন। পরে দৈনিক প্রথম আলোর ভৈরব অফিসের নিজস্ব প্রতিবেদক মো: সুমন মোল্লার সঞ্চালনায় ভৈরব প্রেসক্লাবের বর্তমান কমিটির পরিচিতি অনুষ্ঠিত হয়।
পরে অনুষ্ঠিত হয় প্রবীণ গুণী সাংবাদিক সংবর্ধনা। এই পর্বে জীবিত ও মরনোত্তর পাঁচ সাংবাদিককে সম্মাননা প্রদান করা হয়। প্রথমে একে একে সংবর্ধিত করা হয় জীবিত তিন প্রবীণ সাংবাদিক, দৈনিক সংবাদের সাবেক প্রতিনিধি বশীর আহমদ, অবজারভারের আব্দুল মতিন ও আজকের কাগজের মুহাম্মদ শহীদুল্লাহকে। এ সময় তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন অনুষ্ঠনের অতিথিরা। এই তিনজন প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে ভৈরব প্রেসক্লাবের বিভিন্ন পদে থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তাঁরা সবাই সাংবাদিকতা থেকে অবসরে আছেন।
এরপর সম্মাননা তুলে দেওয়া হয় ভৈরব প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি মরহুম আব্দুল হালিম মোল্লার দুই সন্তান ইত্তেফাকের বর্তমান ভৈরব প্রতিনিধি মো: তুহিন মোল্লা ও সমকালের ভৈরব প্রতিনিধি মাহিন মোল্লার হাতে। এরপর আরও একটি মরনোত্তর সম্মাননা স্মারক তুলে দেন কালেরকণ্ঠের ভৈরব প্রতিনিধি মরহুম আব্দুল্লাহ আল মনসুরের স্ত্রী শাওন মনসুর, বড় মেয়ে সুফিয়া হৃদি ও ছোট মেয়ে স্নেহার হাতে। আব্দুল্লাহ আল মনসুর ভৈরব প্রেসক্লাবের টানা দুইবারের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
আলোচনা সভার পর দৈনিক মানবকণ্ঠ পত্রিকার প্রতিনিধি মো: আক্তারুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয় প্রেসক্লাবের বার্ষিক ইনডোর ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ। বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীরা তাদের পুরস্কার গ্রহণ করেন সম্মানীত অতিথিদের হাত থেকে।
সবশেষে প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি এসএম বাকী বিল্লাহ, সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান ময়না, সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হেকিম রায়হান ও দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি কাজী আব্দুল্লাহ আল মাছুমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ র্যাফেল ড্র ও পুরস্কার বিতরণ।
এ সময় র্যাফেল ড্রয়ের কুপন তুলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: সায়দুল্লাহ মিয়া, পৌরসভার মেয়র ফখরুল আলম আক্কাছ, জেলা জজ মো: হেলাল উদ্দিন. উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা, প্রবীন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মো: আতাউর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিমাদ্রী খীসা, ভৈরব চেম্বারের সভাপতি আলহাজ্ব মো: হুমায়ূন কবীর, বাংলাদেশ ডাক বিভাগের পরিচালক গোলাম মোস্তফা, অধ্যাপক সামসুজ্জামান বাচ্চু, ডক্টর এসোসিয়েশনের সভাপতি ডা: আজিজুল হক স্বপন, অধ্যক্ষ শরীফ আহমেদ প্রমূখ। পরে র্যাফেল ড্রয়ে বিজয়ী ১০জনের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।
(এমআরবি/এসএএম/ ২৬ জানুয়ারি ২০২০)