Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Monday, 27 Jul 2026 11:25
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা:  ২০২০ সালে ইতিবাচক আভাস দিয়েই নতুন বছর শুরু করেছিল বৈশ্বিক অর্থনীতি। বিশেষ করে গত বছরের শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইট বার্তায় চীনের সঙ্গে প্রথম ধাপের বাণিজ্য চুক্তির যে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে এ ধরনের শুরু সম্ভবত প্রত্যাশিতই ছিল। মনে হচ্ছিল, ওই চুক্তির ফলে গত বছরের ঊর্ধ্বগামী অর্থনৈতিক অস্থিরতা এ বছর প্রশমিত হবে। একই সঙ্গে সব মহাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে ২০২০ সালে দূর হবে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি।

বৈশ্বিক আর্থিক বাজারগুলোয় এ ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলনও দেখা যাচ্ছিল। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত বৈশ্বিক ইকুইটির এমএসসিআই সূচক বৃদ্ধি পেয়েছিল ৩ শতাংশেরও বেশি। ওই সময় বন্ডের দামেও দেখা দিয়েছিল ইতিবাচকতা। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের ঝুঁকিমুক্ত সুদহারেও গত শরতের মন্দার আভাস পাওয়া যাচ্ছিল না।

তবে বাজারের এমন চেহারা অর্থনীতিবিদদের মধ্যে ভরসা জাগাতে পারছে না। উপাত্ত বিশ্লেষণের পর চলতি বছরে মন্দার আশঙ্কা না করলেও, তারা খুব বেশি আশাবাদও ব্যক্ত করতে পারছেন না। বরং তাদের পূর্বাভাস বলছে, অর্থনৈতিকভাবে আরো একটি দুর্বল বছর হতে যাচ্ছে ২০২০ সাল।

বিশ্বব্যাংক আশা করছে, বৈশ্বিক উৎপাদন গত বছরের ২ দশমিক ৪ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে চলতি বছরে ২ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে। ২০১৯ সালে বৈশ্বিক উৎপাদন ছিল গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। একইভাবে অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের মতে, চলতি বছর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সুস্থির থাকলেও তেমন অসাধারণ কোনো কিছু ঘটবে না।

গ্লোবাল ম্যাক্রো রিসার্চের পরিচালক বেন মে জানান, সীমিত বাড়তি উৎপাদন সক্ষমতা, ক্রমবর্ধমান ঋণের চাপ এবং সম্পদের মূল্য বৃদ্ধি নীতিনির্ধারকদের সমস্যায় ফেলবে। নেতিবাচক প্রভাব পড়বে তাদের নেয়া উদ্যোগের সুফলগুলোয়।

এইচএসবিসির প্রধান বৈশ্বিক অর্থনীতিবিদ জ্যানেট হেনরি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন প্রথম ধাপের বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনে একমত হলেও, উভয় দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের অনিশ্চয়তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বৈশ্বিক বিনিয়োগ যে সত্যিকার অর্থেই ঘুরে দাঁড়াবে তা বলা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এ বছর বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং এর প্রধান কুশলীদের বিষয়ে নেতিবাচক খবরই বেশি আসছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় চীনের কথা। দেশটির অর্থনীতি দিন দিন মন্থর হয়ে পড়ছে। তার ওপর নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণে অভাবনীয় অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে পড়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এ দেশ। দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে বন্ধ রয়েছে দেশী ও আন্তর্জাতিক বহু কোম্পানির কারখানা। চীনে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা ও সতর্কতা জারি করেছে বহু দেশ। এ অবস্থায় ২০২০ সালে দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের নিচে নামবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা গত ৩০ বছরে কখনই হয়নি। একইভাবে মন্থরতা দেখা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও। পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্য অস্থিরতার কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশের বেশি সম্প্রসারণ করতে কষ্ট করতে হবে ইউরোপের বেশকিছু দেশকে।

এছাড়া উদীয়মান বড় অর্থনৈতিক দেশগুলোর জন্য সাম্প্রতিক সময়ে তেমন ভালো কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ২০১৮ সালে বড় ও দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ ছিল ভারত। ওই বছর দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। কিন্তু বিশ্বব্যাংক গত বছর দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল মাত্র ৫ শতাংশ। একইভাবে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, সীমাবদ্ধ ঋণপ্রবৃদ্ধি ও ভোক্তা ব্যয়ের কারণে এ বছরও দেশটির জিডিপির পূর্বাভাস কমিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

মূলত বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রধান সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে উৎপাদন হ্রাস। বিশ্বের সর্বত্রই এখন উৎপাদনশীলতার প্রবৃদ্ধি থমকে আছে। এর মানে সাম্প্রতিককালে ব্যাপক প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হলেও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি না পাওয়ায় বিভিন্ন কোম্পানি ও দেশ জীবনমানের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারছে না।

এ অবস্থায় বহুদূর-বিস্তৃত অর্থনৈতিক সমস্যা থেকে মুক্তি ও চলতি দশকে প্রবৃদ্ধির উন্নয়নে বিভিন্ন দেশকে কিছু পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এর মধ্যে অন্যতম হলো, শাসন ব্যবস্থা ও ব্যবসা পরিবেশ উন্নয়নে সুচিন্তিত পুনর্গঠন পদক্ষেপ গ্রহণ, উন্নত করনীতি প্রণয়ন, একীভূত বাণিজ্যের প্রসার, উৎপাদন প্রবৃদ্ধির পুনরুদ্দীপ্তকরণ এবং দুর্বল গোষ্ঠীগুলোকে রক্ষা করা।

সব মিলিয়ে চলতি বছরের শুরুতে বাজার পরিস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যে আশাবাদ জাগিয়েছিল, নানা কারণে তা এখন স্তিমিত। তারপরও কোনোভাবে স্থিতিশীল অবস্থা ধরে রাখা গেলে ২০২০ সাল ভবিষ্যৎ সুদিনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

(এস আর /১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০)