Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Tuesday, 28 Jul 2026 14:51
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা:  দুর্বল হয়ে পড়া মার্কিন ম্যানুফ্যাকচারিং খাত ফের শক্তিশালী অবস্থানে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে জোর প্রচারণা চালাচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, হোয়াইটহাউজে তার কার্যকালে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কারখানা স্থাপন হয়েছে অন্তত ১২ হাজার। পরিকল্পনাধীন রয়েছে আরো কয়েক হাজার কারখানা। এর মধ্য দিয়ে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে দেশটিতে নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষের। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এখন ম্যানুফ্যাকচারিং রেনেসাঁর পথে হাঁটছে, যা ব্যাপক ভূমিকা রাখছে দেশের মানুষের কর্মসংস্থানে।

কিন্তু প্রাপ্ত উপাত্ত ও বিশ্লেষকদের মতামত বিশ্লেষণে ট্রাম্প প্রশাসনের এ দাবির সঙ্গে ঠিক একমত হওয়া যাচ্ছে না। কারখানা ও কর্মসংস্থান বিষয়ে ট্রাম্পের দেয়া তথ্য মোটা দাগে আপাত সঠিক হলেও এক ধরনের ফাঁক থেকেই যাচ্ছে। এটা সত্যি, গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে কারখানার কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। কিন্তু ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে মানুষের চাকরি হারানো থামছে না। বিশেষ করে গত দুই দশকে দেশটিতে ৪০ লাখ চাকরি হারানোর ঘটনা ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের কর্মসংস্থানে রক্তক্ষরণেরই প্রমাণ দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ঘটছে ওষুধ, কম্পিউটার ও সেমিকন্ডাক্টরের মতো মূলধারার বাইরের কিছু খাতে। এসব খাতে উৎপাদন বাড়লেও কর্মসংস্থান হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মোট শ্রমশক্তির খুবই সামান্য একটি অংশের। বিশেষায়িত এসব খাতে প্রথাগত কারখানার সাধারণ শ্রমিকরা অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান বাড়ছে, এমন দাবি যুক্তিসংগত নয়। বরং ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের পুনরুজ্জীবন ও ব্যাপক কর্মস্থানের দাবি ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ বলেই মনে হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হোয়াইট হাউজের প্রতিশ্রুতির পরও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানে ষাটের দশক ফিরে আসার আপাত কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ বর্তমান সময়ের কারখানা ও অবকাঠামো ওই সময়ের চেয়ে বহুলাংশে ভিন্ন। এখনকার কারখানাগুলো বিশেষায়িত ও উচ্চপ্রযুক্তিসংবলিত হওয়ায় লোকবল লাগছে তুলনামূলক কম। যাদের কর্মসংস্থান হচ্ছে, ট্রেড ইউনিয়নবহির্ভূত হওয়ায় তারাও বেতন পাচ্ছেন কম। ফলে আমেরিকান শেল ও দেশজ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের বাইরে খুব একটা কর্মসংস্থান বাড়েনি।

গত তিন বছরে ট্রাম্প যে পাঁচ লাখ কর্মসংস্থানের কথা বলেছেন, তার অধিকাংশই হয়েছে দেশটির দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল সান বেল্ট (ফ্লোরিডা থেকে ক্যালিফোর্নিয়া) বা সিলিকিন ভ্যালি কেন্দ্র করে। অন্যদিকে নিউইয়র্ক থেকে মধ্যপূর্বাঞ্চল হয়ে রাস্ট বেল্ট অংশে চাকরি হারানোর পরিমাণ বাড়ছেই। ২০১৬ সালে পেনসিলভানিয়া, মিশিগান, ওহাইও ও উইসকনসিনে ট্রাম্পের বিজয়ের অন্যতম কারণ ছিল ম্যানুফ্যাকচারিং খাতকে পুনরুজ্জীবিত করে শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি। কিন্তু উল্টো এসব রাজ্যে শুধু গত বছরই কারখানায় চাকরি হারানোর ঘটনা ঘটেছে ১৬ হাজার।

ম্যাককিনসে অ্যান্ড কোম্পানির অংশীদার শ্রী রামস্বামী বলেন, দশকব্যাপী পতনশীল বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির মুখে উৎপাদন কার্যক্রম বৃদ্ধির বিষয়ে অধিকাংশ কোম্পানি বর্তমানে পর্যবেক্ষণের মধ্যে আছে। শুল্ক ব্যয় ও চাহিদার অনিশ্চয়তা কোম্পানিগুলোকে নতুন কারখানা স্থাপন কিংবা নতুন পণ্য উৎপাদনে অনুৎসাহিত করছে।

মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পে অব্যাহত পতন চলছে দুই দশক ধরেই। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে ডলারের শক্তিশালী মূল্যমানের কারণে বৈদেশিক পণ্যের দাম কমে যায়। অন্যদিকে ব্যয় বৃদ্ধির ফলে কমে যায় ভোক্তা চাহিদা। পাশাপাশি বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তির কারণে বেড়ে যায় বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা। ফলে দেশী ম্যানুফ্যাকচারিং প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যয়সংকোচনে আগ্রহী হয়ে ওঠে, সস্তা শ্রমের জন্য বহির্বিশ্বে কারখানা খোলার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। আর ঠিক এ সময়েই যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে কর্মসংস্থানের পতন শুরু হয় বলে জানিয়েছেন আপজন ইনস্টিটিউটের গবেষণা পরিচালক সুসান হাউসম্যান। তার মতে, ২০০০ সালের আগে কর্মসংস্থান ঘাটতি দেখা দিলেও আবার তা স্বাভাবিক হয়ে যেত। কিন্তু এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের কর্মস্থানের যে পতন শুরু হলো, তা আর থামানো যায়নি।

ইকোনমিক পলিসি ইনস্টিটিউটের ট্রেড ও ম্যানুফ্যাকচারিং রিসার্চের পরিচালক রবার্ট স্কট বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগ ও নানা আশাবাদী বক্তব্যের পরও যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের কর্মসংস্থান নিয়ে সংকটের অবসান হচ্ছে না। সত্যি বলতে, ম্যানুফ্যাকচারিং খাত সামলাতে ট্রাম্পের একদম দক্ষতা নেই। তিনি ক্ষমতায় আসার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য উৎপাদন ঘাটতি বৃদ্ধি পেয়েছে ১৫ শতাংশ। একই সঙ্গে দেখা দিয়েছে বাণিজ্য ঘাটতিও।

স্কট বলেন, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষকে বলেছিলেন যে তিনি তাদের কষ্ট বোঝেন। তাই তাদের কষ্ট দূর করতে তিনি অবশ্যই ভিন্ন ধরনের কিছু একটা করবেন। তিনি আলাদা কিছু করেছেনও। কিন্তু হতাশার বিষয় হলো, তা কাজে লাগেনি।

—সিএনএন বিজনেস অবলম্বনে

(এস আর /১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০)