
হাকিকুল ইসলাম খোকন, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র: জাকির চৌধুরী কুইন্সের জামাইকাস্থ ১২৮ এভিনিউতে অবস্থিত একটি দুই ফ্যামেলি বাড়ী ভূয়া/জাল কাগজপত্র বানিয়ে বিশেষ গোপনীয়তায় গত জানুুয়ারী মাসের একুশ তারিখে বিক্রি করে দেয়। বেশ কয়েকদিন পরে জালিয়াতির এই বিষয়টি গোপন সূত্রে জানাজানি হলে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি, দেওয়ানী, ডিড ফ্রড ও মোর্টগেজ স্কেম বিষয়ক গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, জামাইকায় আরেকটি বাড়ী হচ্ছে গ্র্র্যান্ড সেন্টাল পার্কওয়ের ওপর ১৬৪ স্টিটের কোনায় অবস্থিত; এটি যাঁর নামে কেনার কথা তাঁর নামে না কিনে জাকির চৌধুরী অতি গোপনে কৌশলী কায়দায় আরেকজনকে ব্যবহার করে নিজের নামে, নিজের কর্পোরেশনের নামে রেজেস্ট্রি করিয়ে নেয়। এই বাড়ীর দোতলায় ভুক্তভোগী আর প্রথম তলায় জাকির চৌধুরী নিজে বসবাস করছে; এই ধরনের সাংঘাতিক জালিয়াতির জালে ভুক্তভোগী সরলপ্রাণ এই ব্যক্তি কর্তৃক জাকির চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা কুইন্সে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। এই দু’টি ঘটনার বাহিরে তার বিরুদ্ধে ব্রুকলেন, ব্রঙ্কস সহ অন্যান্য জায়গায় এ ধরনের আরও বেশ কিছুসংখ্যক প্রতারণামূলক ঘটনা ঘটানোর খবর আসছে, যা একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দ্বারা তুলে ধরার প্রক্রিয়া এই প্রতিবেদক কর্তৃক চলমান রয়েছে।
তার অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী ভুক্তভোগীদেরকে হুমকি-ধমকি দিয়ে থামিয়ে দিতে কিছু স্বদলীয় ব্যক্তি, পারিবারিক সদস্য, সামাজিক-পেশাগত-ব্যবসায়িক সহযোগী ও কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বান্ধবীকে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এমতাবস্থায় বাংলাদেশ কমিউনিটির অনেকেই মনে করছেন, নিজস্ব কমিউনিটিতে সহজ, সরল ব্যক্তিগণ যেন আর প্রতারিত না হয়, সেজন্য যাঁরা তার সাথে বাড়ীঘর কেনাবেচায় ও লেনদেনে যুক্ত রয়েছেন কিংবা যুক্ত হবার সম্ভাবনা ও ভাবনা করছেন তাঁরা যেন বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেন এবং সম্ভব হলে তাঁরাসহ অন্যরা যেন তারসাথে সকল প্রকারের লেনদেন করা থেকে একদম বিরত থাকেন।
তাছাড়া তারকাছে ব্যক্তিগত তথ্য প্রদানে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন অনেকেই, কারণ তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে জালিয়াতি, প্রতারণা করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগও রয়েছে; এসব একান্ত নিজস্ব ব্যক্তিগত তথ্যের মধ্যে রয়েছে: সোসাল সিকিউরিটি নাম্বার, ব্যাংক একাউন্ট নাম্বার, ব্যাংকে গচ্ছিত টাকার পরিমাণ, মাসিক ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বাৎসরিক আয় বিবরণী, ক্রেডিট কার্ড নাম্বার, ক্রেডিট কার্ডের সিকিউরিটি ডিজিট, প্রতিটি ক্রেডিট কার্ড দ্বারা সর্বোচ্চ নগদ উত্তোলন সীমা ও সপিং করার সর্বোচ্চ সীমা, জন্মতারিখ, ফোন নাম্বার, ইমেইল ঠিকানার পাসওয়ার্ড, আবাসস্থলের ঠিকানা, কর্মস্থলের ঠিকানা ইত্যাদি; কথায় না বলে, সতর্কতার মার নেই!
প্রসংগত মনে করিয়ে দেয়া দরকার, এই ধরনের ব্যক্তিরা সাধারণত একান্ত ব্যক্তিগত লাভালাভে দলীয় সংগঠন, সামাজিক, আঞ্চলিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, ব্যবসায়িক ও পেশাগত সংগঠনকে ঢাল ও তলোয়ার হিসেবে ব্যবহার করে থাকে; এই ব্যবহার করার কাজটি নিজস্ব স্বার্থে অতি কৌশলে জাকির চৌধুরীও ব্যবহার করে আসছে বলে জানা গেছে। সেজন্য রাজনৈতিক দল ও অন্যান্য সংগঠনকে তার বিষয়ে এখনই সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে, এবং এসব সংগঠনকে তার কাছ থেকে সাংগঠনিক পরিচয় ব্যবহারের সুযোগ কেড়ে নেয়া উচিত হবে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন।
(এইচসি/এসআর/এসএএম/ ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০)