Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Saturday, 26 Sep 2026 03:21
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

নরসিংদী প্রতিনিধি, বিনিয়োগবার্তা:  নরসিংদীর রায়পুরায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল সৃজনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, রায়পুরা উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের মোসাঃ সামসুন্নাহার এর নামে রেজিস্ট্রিকৃত জমির প্রধান দলিলে বর্ণিত চৌহদ্দি মুছে তাঁর জায়গায় মিথ্যা চৌহদ্দি সৃজন করে রায়পুরা অফিসের অধীন দলিল লিখক মিলন মিয়া চক্রের সহযোগিতায় জনৈক মোঃ ইউসুফ ভূইয়া চক্র সামসুন্নাহারের ৯ শতাংশ ভূমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারী ভূয়া দলিল রেজিস্ট্রি করে।

এব্যাপারে মোসাঃ সামসুন্নাহারের পুত্র ইঞ্জিনিয়ার সোহরাব উদ্দিন ভূঞা বাদী হয়ে নরসিংদী জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, দুর্নীতি দমন কমিশন, রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারি কমিশনার (ভূমি) রায়পুরা, নরসিংদী ও রায়পুরা প্রেসক্লাব, রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, রায়পুরা উপজেলার মামুদপুর গ্রামের মৃত: শাফিউদ্দিন ভূঞার স্ত্রী মোসাঃ সামসুন্নাহার বেগম ২০১৮ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর উক্ত সাব-রেজিস্ট্রিকৃত ৮৬৭৫নং হেবা ঘোষণাপত্র দলিল মূলে ৭ দশমিক ৮৭৫ শতাংশ জমির মালিক হন। চৌহদ্দি বিবরণে ছিল-উত্তরে: আর এস ১০১৬ দাগের অবশিষ্ট অংশ, দক্ষিণে: সরকারী রাস্তা,পূর্বে: আর এস ১০১৪ নং ও ১০১৫ নং দাগ এবং পশ্চিমে: গ্রহিত্রীর নিজ ও মোঃ ইউসুফ ভূইয়া এবং মসজিদ। উক্ত চৌহদ্দীর বিবরণের মধ্যে “পশ্চিম পাশের্ উল্লেখ করা গ্রহিত্রীর নিজ” কথাটি রেখে অবশিষ্ট অংশ তথা “ ও মোঃ ইউসুফ ভূইয়া এবং মসজিদ” কথাটি মুছে ফেলে জালিয়াতি করে অন্য আরেকটি দলিল করে জমি আত্মসাতের অপচেষ্টায় ভূমি দখল করতে গেলে সামসুন্নাহার বেগমের নজরে আসে। ঘটনাটি নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এলাকাবাসীসহ অভিযোগকারী এব্যাপারে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন।

প্রকাশ থাকে যে, উল্লিখিত দলিল লিখন মিলন মিয়া (সনদ নং-২২১) বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে রায়পুরার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে দালালী করে আসছে বলে এলাকাবাসী জানায়।

এব্যাপারে দলিল লিখক মিলন মিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, সামসুনাহারের নামে যে ৯ শতাংশ জমি আছে তা ওনারই আছে। ওই জমি পাশে একই দাগের আরো ১১ শতাংশ জমির মধ্যে ৫ শতাংশের মালিক হয়েছেন ইউসুফ ভূঁইয়া। যা এখনও রেকর্ড ভুক্ত হয়নি।

অভিযোগের ভিত্তিতে রাপুরার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুর রহমান খন্দকারের সাথের যোগাযোগ করলে তিনি জানান, অভিযোগের কোন কপি তিনি হাতে পাননি। তাকে ম্যানেজ করে দলিল লিখক মিলন মিয়ার দালালীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমন কোন বিষয় হলে তা আমি খতিয়ে দেখব।

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তবে তদন্ত না করে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারবো না।

এদিকে বিষয়টি জেলা রেজিষ্ট্রারের নজরে এলে বৃহস্পতিবার তিনি তার কার্যালয়ে ডেকে পাঠায়। তিনি তাদের কথা শুনে চৌহদ্দীসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র খতিয়ে দেখবেন এরজন্য তিনি ২৭ জানুয়ারী পর্যন্ত সময় চেয়ে নেন।

( শাহাদাৎ হোসেন রাজু / শাহরিয়ার /২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০)