
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: মুসলিমবিদ্বেষী ও বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের জেরে ভারতের দিল্লিতে ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গা-সহিংসতা থেমেছে। তবু কাটেনি ভয়। পুলিশের আশ্বাসে রাস্তায় বের হচ্ছে উত্তর-পূর্ব দিল্লির বাসিন্দারা। খুলছে দোকান-পাটও। তাদের আতঙ্ক কাটাতে বিভিন্ন রাস্তায় এখনও মার্চ করছে আধা সামরিক সেনা।
তবে দাঙ্গা-সহিংসতায় মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। শুক্রবারও হাসপাতালে আরো চার জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো পর্যন্ত সহিংসতায় বলির সংখ্যা ৪৩। এরমধ্যে ২১ জনই গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে প্রাণহানির এ সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
দাঙ্গার ঘটনায় মুসলিম দেশগুলোর সংগঠন ওআইসি-র বিবৃতির নিন্দা জানিয়েছে ভারতের মোদি সরকার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওআইসি’র বক্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যদিও দিল্লিতে এ দাঙ্গার ছাপ এখনও স্পষ্ট। ভয় আর আতঙ্ক নিয়েই শুক্রবার জুমার নামাজে অংশ নিয়েছে মুসল্লিরা।
মঙ্গলবার রাতের পর নতুন করে খুব বড় ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে। আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচনার মুখে দাঙ্গার ঘটনায় ৫১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দিল্লির উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় মুসলিমবিরোধী এ দাঙ্গার সূত্রপাত হয়। ইতোমধ্যেই হতাহত ২৫০ জনের একটি তালিকা তৈরি করেছে পুলিশ। আক্রান্ত প্রতি তিনজনের মধ্যে একজনের শরীর বুলেটের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত।
ভারতের রাজধানীর এমন পরিস্থিতিতে বদলি করা হয়েছে দিল্লির পুলিশ কমিশনারকে। নয়া পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। দাঙ্গা-সহিংসতায় মদত জুগিয়েছে যারা, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে সহিংসতার ঘটনায় ১৩০টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। গুলি চালানোর ঘটনায় আলাদা করে ৬৫টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযুক্তদের খোঁজে চলছে তল্লাশি।
উল্লেখ্য, ভারতের মুসলিমবিদ্বেষী নাগরিকত্ব আইন (সিএএ)-এর বিরুদ্ধে মুসলিমদের বিক্ষোভের ঘটনায় বরাবরই ক্ষুব্ধ দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনেও মুসলিমবিদ্বেষী তোপ দাগেন দলটির নেতারা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথসহ বহু নেতা জঙ্গিবাদী বক্তব্য দেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার সহিংসতায় উসকানি ছড়ান দিল্লির বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র। এরপরই দিল্লির পূর্ব অংশে মুসলমানদের বিরুদ্ধে শুরু হয় নজিরবিহীন হত্যাযজ্ঞ।
(এসআর/ ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০)