
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: ভারতের লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে ছয় বছর ধরেই ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) সমর্থন দিয়ে আসছে ব্যবসায়ীদের সংগঠন দ্য কনফেডারেশন অব অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স (সিএআইটি)। এর মধ্য দিয়ে সংগঠনটি ভারতের ক্ষমতাচর্চা, খুচরা পণ্যবাজার, ই-কমার্স এবং প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নীতিনির্ধারণে অন্যতম অনুঘটকে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি মোদি সরকারের প্রতি সংগঠনটির সমর্থনে ভাটা পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যবসায়ীদের এ অসন্তোষের মূলে রয়েছে দেশটির অর্থনৈতিক মন্দা এবং অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের প্রতি কেন্দ্র সরকারের মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের বিমাতাসুলভ আচরণ।
এ অবস্থায় বর্তমান ব্যবসা পরিস্থিতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে জাতীয় পরিচালনা পরিষদের সভা ডেকেছ সিএআইটি। ৫-৬ মার্চ দুদিন এ সভা অনুষ্ঠিত হবে বিহারের পাটনায়। প্রসঙ্গত, এ বছরই বিহারের বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
গত রোববার এক বিবৃতিতে সিএআইটির পক্ষ থেকে বলা হয়, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর দেশের ব্যবসায়ীরা দারুণভাবে আশান্বিত হয়েছিলেন। তারা ভেবেছিলেন, দেশে ব্যবসায়ীদের প্রতি সরকারের চিরাচরিত মনোভাবের পরিবর্তন ঘটবে। কিন্তু সত্যি হলো, কোনো কিছুরই পরিবর্তন হয়নি। ব্যবসায়ীরা এখনো আগের মতোই অবহেলিত। তারপরও তারা মোদি সরকারের ওপর ভরসা রাখছেন। বিশেষ করে ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র শিল্পের বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক মনোভাব তাদেরকে আশা দেখাচ্ছে।
সিএআইটির সভাপতি বি সি ভার্টিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক প্রবীণ খাণ্ডেলওয়াল বলেন, শুরু থেকেই মোদি সরকারের ডিজিটাল ইন্ডিয়া, ডিজিটাল পেমেন্টস ও জিএসটির (গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স) মতো নীতির সপক্ষে দেশজুড়ে প্রচারণায় অংশ নিয়েছে সিএআইটিসহ অন্য ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। এমনকি কালো টাকার বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে নোট বাতিলের সিদ্ধান্তে বহু সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার পরও ব্যবসায়ীরা সরকারের পক্ষেই ছিলেন। অথচ মোদি সরকারের নির্বাহী পরিষদ ইচ্ছা করেই ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোকে অবহেলা করছে।
সিএআইটি ব্যবসায়ীদের দাবির একটি দীর্ঘ তালিকা সরকারের কাছে উত্থাপন করেছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের যন্ত্রণার কারণ হয়ে ওঠা জটিল জিএসটি পদ্ধতি নিয়ে পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছিলেন তারা। কিন্তু এসব দাবির বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এছাড়া ভারতের ই-কমার্সে বৈশ্বিক ডিজিটাল জায়ান্টদের অংশগ্রহণের ফলে তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, ই-কমার্সের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক বৃহৎ কোম্পানিগুলো ভারতের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ধ্বংস করে দিচ্ছে। সরকার বারবার সতর্ক করার পরও তারা ভারতে ব্যবসার ক্ষেত্রে অনৈতিক চর্চা জারি রেখেছে। এমনকি দুই বছর আগে ই-কমার্সভিত্তিক বেশ কয়েকটি কোম্পানির বিরুদ্ধে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তদন্ত শুরু করলেও, এখন পর্যন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। তাছাড়া প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রচলিত বিধি মানা হচ্ছে না।
এদিকে সিএআইটি মুদ্রা স্কিমের ব্যবস্থাপনা নিয়েও নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করেছে। সংগঠনটি বলছে, ‘মুদ্রা যোজনার’ আওতায় কয়েক ট্রিলিয়ন রুপি বিতরণ করা হলেও, প্রকৃত অর্থে যাদের এ ঋণ সুবিধা পাওয়ার কথা তারা পাননি। ফলে দেশে নন-পারফর্মিং অ্যাসেটের (এনপিএ) পরিমাণ বাড়ছেই। এ পরিস্থিতিতে খাণ্ডেলওয়াল আশঙ্কা করছেন, দেশের বাণিজ্য ও ব্যবসা-সংক্রান্ত বিষয়ে মোদিকে সঠিক তথ্য দেয়া হচ্ছে না।
এদিকে ফেব্রুয়ারিতে ভারতের কারখানা কার্যক্রমের প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়েছে। অথচ এর আগের মাসেও প্রবৃদ্ধি ছিল আট বছরের সর্বোচ্চ। ফেব্রুয়ারিতে ভারতের আইএইচএস মার্কিটের নিক্কেই ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) দাঁড়ায় ৫৪ দশমিক ৫ পয়েন্ট, যা জানুয়ারিতে ছিল ৫৫ দশমিক ৩ পয়েন্ট। তবে রয়টার্সের এক জরিপে পিএমআই ৫২ দশমিক ২ পয়েন্ট হওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। মূলত চাহিদা ও উৎপাদন কমে যাওয়ায় কারখানা কার্যক্রমে এ নিম্নগতি দেখা দেয়।
সূত্র: বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও রয়টার্স
(এসআর/ ০৩ মার্চ, ২০২০)