Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Monday, 27 Jul 2026 20:06
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক:  যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছেই। ফলে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে যে, চীন এবং ইতালির মতো যুক্তরাষ্ট্রেও হয়তো বিভিন্ন শহর অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে। এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা চীন এবং ইতালিতে।

অপরদিকে, সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যেও এই ভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০৪ এবং মৃত্যু হয়েছে ২৮ জনের।

গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসের প্রকোপ দেখা দেয়। এরপর থেকেই তা বিশ্বের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বব্যাপী এই ভাইরাসে ১ লাখ ১৯ হাজার ১৮৪ জন আক্রান্ত হয়েছে। অপরদিকে মারা গেছে ৪ হাজার ২৯৮ জন। এই ভাইরাসে আক্রান্ত ৬৬ হাজার ৬১৯ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

চীনের বাইরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে ইতালিতে। সেখানে এখন পর্যন্ত ১০ হাজার ১৪৯ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ৬৩১ জন। অপরদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানেও এই ভাইরাসের প্রকোপ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৮ হাজার ৪২ এবং মারা গেছে ২৯১ জন।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনার প্রকোপ ধরা পড়ার ১৪দিন আগে ইতালিতে প্রথম করোনায় আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
এদিকে, সোমবার রাতে কম্পিউটার বিজ্ঞানী এবং লন্ডনের ইউসিএল-এর প্রফেসর অব নেটওয়ার্কড সিস্টেমস অ্যান্ড পার্ট টাইম রোবোটিসিস্ট মার্ক হ্যান্ডলি এক টুইটে একটি গ্রাফ তুলে ধরেছেন। ইতালির তুলনায় অন্যান্য দেশগুলোতে কিভাবে এই ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে তা ওই গ্রাফের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে।

ইতালির পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। সেখানে রোগীদের বাঁচাতে না পেরে চিকিৎসকদের কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে। কোনোভাবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এদিকে, এক মার্কিন চিকিৎসক উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রও এমন পরিস্থিতিতে পড়বে কি-না তা এখনি বলা যাচ্ছে না। তবে এমন পরিস্থিতি হলে শহরগুলো অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে। আর এমন পরিস্থিতি কতদিন স্থায়ী থাকবে সেটাও নিশ্চিত নয়।

তিনি আরও বলেন, ইতালি এবং অন্যান্য দেশগুলোতে কি হয় তা দেখছি আমরা। তারা ভয়াবহ পরিস্থিতি পার করছে। লোকজন বাড়ির বাইরে বের হওয়ার অনুমতি পাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, আমাদের এ ধরনের অভিজ্ঞতা নেই। যারা আমাদের চেয়ে সামান্যও এগিয়ে আমরা তাদের কাছ থেকেও শেখার চেষ্টা করছি।

ইতালির বিভিন্ন প্রদেশে করোনার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ায় দেশটির ৬ কোটি মানুষ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। করোনার প্রকোপ ঠেকাতে লোকজনকে বাড়ির বাইরে বের না হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পুরো দেশজুড়েই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। দেশটির ২০টি প্রদেশের সবগুলোতেই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। দেশটিতে স্কুল-কলেজ, খেলাধুলা, জনসমাগমসহ সব ধরনের ইভেন্ট বাতিল করা হয়েছে।

আগামী ৩ এপ্রিল পর্যন্ত এই বিধি-নিষেধ জারি থাকবে বলে জানানো হয়েছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রেও যদি পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে তবে সেখানেও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হবে। ইতোমধ্যেই দেশটির বেশ কিছু অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।

(এসআর/ ১১ মার্চ, ২০২০)