
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক,: ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে। গতকাল দেশটির অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এমন সময় এ বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন, যখন নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে তীব্র মন্দার হাওয়া বইছে পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। ফলে এবারের বাজেটে এ সংকট থেকে উত্তরণকেই প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে, নেয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় জরুরি সরকারি পদক্ষেপ। খবর এএফপি ও গার্ডিয়ান
ঋষি সুনাকের গতকালের বাজেট উপস্থাপনের একদিন আগে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তার মাধ্যমে আরো কেউ সংক্রমিত হয়েছেন কিনা তা নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। এ অবস্থায় অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে জটিলতর পরিস্থিতিতেই বাজেট উপস্থাপন করতে হচ্ছে সাবেক অর্থমন্ত্রী সাজিদ জাভিদের উত্তরসূরি সুনাককে। উল্লেখ্য, গত মাসে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে সাজিদ ব্রিটেনের অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন।
সুনাক তার বাজেট প্রস্তাবের প্রাক্কালে বলেন, আমরা নভেল করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য সব প্রভাব নিয়ে ভাবছি। ব্যবসা, জনসেবাসহ যে খাতেই প্রভাব পড়ুক না কেন, তা মোকাবেলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ ও নীতি গ্রহণ করা হবে। ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাষ্ট্রায়ত্ত ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসকে চাহিদা অনুযায়ী সবকিছু সরবরাহ করা হবে। একই সঙ্গে সহায়তা করা হবে সেসব ব্যবসা খাতেও, যেগুলো ভাইরাসের প্রভাবে আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছে।
ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ প্রধান অ্যান্ড্রু বেইলি গত সপ্তাহে বলেছিলেন, ভাইরাসের কারণে সরবরাহ ঘাটতির কারণে যুক্তরাজ্যকেন্দ্রিক কোম্পানিগুলোর সহায়তার প্রয়োজন হবে। ১৬ মার্চ যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া বেইলি সহায়তার প্রয়োজন এমন ছোট ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকাও তৈরি করেন।
অন্যদিকে গতকালই এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ছোট ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে প্রণোদনা দেয়ার ঘোষণার পাশাপাশি অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনতে কমানো হয়েছে সুদহার। গতকাল মুদ্রানীতি কমিটি ব্যাংকের সুদহার শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পক্ষে ভোট দেয়। মূলত সুদহার হ্রাসের এ সিদ্ধান্ত বিদায়ী গভর্নর মার্ক কারনের নেয়া আরো বেশকিছু পদক্ষেপের অন্যতম। ঋষি সুনাকের বাজেটের সঙ্গে সংগতি রেখেই এসব পদক্ষেপের কথা ভাবা হয়। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়, কভিড-১৯ রোগের সংক্রমণে উদ্ভূত অর্থনৈতিক সংকট বেশ বিস্তৃত ও তীব্র হলেও তা বেশিদিন স্থায়ী হবে না। এ অবস্থায় ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের দায়িত্ব হলো যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও গার্হস্থ্য অর্থনীতি সচল রাখা। সুদহার কমানোর মতো পদক্ষেপ এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে ব্রেক্সিটের কারণে ব্রিটেনের এরই মধ্যে ৪০০ কোটি পাউন্ডের বেশি অতিরিক্ত খরচ হয়ে গেছে। ফলে বাজেটে এ বিষয়টিও প্রভাব ফেলবে।
বাজেট নিয়ে ট্রেডিং গ্রুপ ওএফএক্সের গবেষণা পরিচালক জেক ট্রাস্ক বলেন, বাজেটে সুনাককে খরচের পরিকল্পনা সীমিত করা ছাড়া উপায় নেই। কারণ নভেল করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাকে আরো বেশি পরিমাণ অর্থ আলাদা করে রাখতে হবে। এ অবস্থায় এবারের বাজেটে খুব বেশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প আশা করা যাচ্ছে না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় আর্থিক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে যুক্তরাজ্য। ভাইরাসের সংক্রমণ প্রশমিত না হলে অচিরেই মন্দার সম্মুখীন হতে পারে ব্রিটিশ অর্থনীতি। ফলে ঋষি সুনাককে বাজেট প্রণয়নে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানের সংকট ঠেকানোর পাশাপাশি কর্মীদের চাকরির সুরক্ষা ও অসুস্থ হলেও বেতন প্রদান নিশ্চিত করার জন্য কর পরিশোধের সময়সীমা পেছানোর প্রস্তাব করতে পারেন সুনাক। এক্ষেত্রে তিনি সাজিদ জাভিদের গৃহীত নীতি না ভেঙে খানিকটা পরিবর্তন আনবেন বলে মনে করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি জোর দিতে পারেন স্বল্পমেয়াদি প্রকল্প ও ব্যয়ে। এছাড়া সুনাক বন্যা প্রতিরোধে বরাদ্দ ২৬০ কোটি পাউন্ড থেকে বাড়িয়ে ৫২০ কোটি পাউন্ড করবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
(এসআর/ ১২ মার্চ, ২০২০)