Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Monday, 27 Jul 2026 23:46
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা:  করোনাভাইরাস মহামারীতে বৈশ্বিক অর্থনীতি যখন ধুঁকছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রথম ধাপের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েক মাসে ভাইরাসের উৎসস্থল চীনের ওপর দিয়ে যে ঝড় বয়ে গেছে, সেজন্য তাদের পক্ষে চুক্তির শর্ত মেনে চলা অত্যন্ত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। খবর এএফপি।

ভয়ানক ভাইরাসটি অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ভূখণ্ডেও হানা দিয়েছে এবং এর সংক্রমণ নিয়ে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে।

জানুয়ারিতে স্বাক্ষরিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আগামী দুই বছরের মধ্যে ২০১৭ সালের তুলনায় ২০ হাজার কোটি ডলারের অধিক মূল্যের মার্কিন পণ্য ক্রয়ে সম্মত হয়েছিল চীন। ২০১৮ সালে বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনীতির মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হলে তারা একে অন্যের শতকোটি ডলারের পণ্যে শুল্ক আরোপ করে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বিভিন্ন দেশের সরকার জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যে প্রভাব পড়েছে, তাতে চীনের পক্ষে চুক্তির শর্ত মেনে চলা সম্ভব কিনা সে বিষয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় শতাধিক দেশ কোয়ারান্টাইন, ভ্রমণে সম্পূর্ণ বা আংশিক নিষেধাজ্ঞা ও সব ধরনের জনসমাবেশ বন্ধের মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রও ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ঘোষণা করেছে এবং চীন ও ইইউসহ বেশির ভাগ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নিষিদ্ধ করেছে।

লন্ডনের স্কুল অব অরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজের (এসওএএস) চায়না ইনস্টিটিউটের প্রধান স্টিভ স্যাং বলেন, দুদেশের সরকারের জন্যই করোনাভাইরাস বড় আকারের প্রতিবন্ধকতা আকারে হাজির হয়েছে। বিশ্ববাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, তেলের দাম রেকর্ড নেমে এসেছে এবং চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সতর্কবাণী, যেকোনো পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি গত বছরের ২ দশমিক ৯০ শতাংশের নিচে নেমে আসবে।

এমন পরিস্থিতিতে স্যাং বলেন, আমি খুব অবাক হব যদি ওয়াশিংটন ও বেইজিং প্রাথমিক ধাপের বাণিজ্য চুক্তির শর্ত মেনে চলতে সক্ষম হয়।

ব্যাপক আকারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ফলে শুধু চীনের ভোক্তা ব্যয় ও ম্যানুফ্যাকচারিংই বিঘ্নিত হয়নি, বরং বিশ্বের পুরো সাপ্লাই চেইনই

সংকটে পড়েছে।

বিভিন্ন কোম্পানি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলছে, গত বছর প্রথমে বাণিজ্যযুদ্ধে ব্যবসা-বাণিজ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল, তারপর হানা দেয় করোনাভাইরাস।

কিনঝু রুইইউয়ান ট্রেডিং কোম্পানি চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানি পুনরায় শুরু করেছিল কিন্তু তাদের বিক্রি গত বছরের তুলনায় অন্তত ২০ শতাংশ কমেছে বলে জানান কোম্পানিটির মহাব্যবস্থাপক লি। স্বাস্থ্য সংকট শেষ হলে কীভাবে তারা ব্যবসা চাঙ্গা করবেন, সে ব্যাপারে নিশ্চিত নন তিনি।

নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে চীনের রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ দশমিক ২০ শতাংশ কমেছে। এছাড়া বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিটির আমদানি কমেছে ৪ শতাংশ।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান টিএস লম্বার্ডের অর্থনীতিবিদ ররি গ্রিন বলেন, প্রাথমিক ধাপের বাণিজ্য চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের যে পরিমাণ কৃষি পণ্য আমদানিতে চীনের ওপর বাধ্যবাধকতা ছিল, তা হুমকিতে ফেলেছে করোনাভাইরাস।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য, সামুদ্রিক খাদ্য, উড়োজাহাজ, মেশিনারি ও ইস্পাতের মতো তৈরি পণ্য এবং জ্বালানি পণ্য অধিক হারে আমদানিতে সম্মত হয়েছিল চীন। কিন্তু চুক্তির বেঁধে দেয়া সময়সীমার মধ্যে আমদানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা চীনের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করেন গ্রিন।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেই ভাইরাসের প্রভাব জেঁকে ধরেছে। ইউরোপ থেকে আগমন নিষিদ্ধ ঘোষণার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে রেকর্ড দরপতন হয়েছে। করোনা ইস্যুতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপড়েনেরও সৃষ্টি হয়েছে। অতি সম্প্রতি কভিড-১৯ রোগটির জন্য বেইজিংকে দোষারোপ করছে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে চীনও এ ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়াচ্ছে যে করোনাভাইরাস আসলে যুক্তরাষ্ট্রেরই সৃষ্টি।

(এসআর/ ১৬মার্চ, ২০২০)