Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Tuesday, 28 Jul 2026 02:31
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি কমাতে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে ব্যাংকের কার্যক্রম সীমিত করা হচ্ছে। সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে অনেক শাখা। যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যে কয়েকটি ব্যাংক তাদের শাখা বন্ধ করা শুরু করেছে।

তবে বেশিরভাগ দেশে ব্যাংকসহ সব ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলা আছে। কয়েকটি দেশের কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পরিস্থিতি যত খারাপই হোক না কেন, তারা ব্যাংক বন্ধের অনুমোদন দেবন না। কারণ এটি একটি জরুরি সেবা। মানুষ এউ দুঃসময়ে ব্যাংকিং সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলে মানবিক বিপর্যয় চরম হয়ে উঠবে।

যে কয়েকটি পেশা করোনাভাইরাসে সংক্রমণের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ তার মধ্যে ব্যাংকিংও আছে। কারণ মুদ্রা লেনদেনের মাধ্যমে ভাইরাসটি সহজেই ছড়াতে পারে। কাঁচ, লোহা, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন পদার্থের উপর এই জীবাণু ৯ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। তবে কাগজের উপর কতদিন বেঁচে থাকতে পারে সে সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা যায়নি।

অন্যদিকে জীবাণুটি কাশির ড্রপলেটে ৯ ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।

বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না নিলে করোনাভাইরাস ব্যাংক কর্মীদের জন্য অন্যদের চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কারণ তাদেরকে মুদ্রার নোট হাতে নিতে হয়। আবার কিছু নির্দিষ্ট সার্ভিসের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের মুখোমুখী হতে হয়। গ্রাহকদের মধ্যে কোনো করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি থাকলে তার হাঁচি, কাশি থেকে সহজেই জীবাণুটি ব্যাংক কর্মীদের দেহে ও ব্যাংকের অন্যান্য স্থানে ছড়াতে পারে। এ বাস্তবতা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি ব্যাংক তাদের কিছু শাখা সাময়িকভাবে বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ ব্যাংক জেপিমর্গান চেজ অ্যান্ড কোম্পানি তাদের ৫ হাজার শাখার মধ্যে ২০ শতাংশ বা ১ হাজার শাখা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর এসব শাখা বন্ধের প্রক্রিয়া গতকাল বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) শুরু হয়েছে।

ব্যাংকটির বাকি ৪ হাজার শাখাতেও কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটাল ওয়ান ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশন তাদের ৪৬১টি শাখার মধ্যে ২৫ শতাংশ শাখা আপাতত বন্ধ রাখবে। আর এর অর্ধেকই হচ্ছে নিউইয়র্ক সিটিতে অবস্থিত শাখা। গত সোমবার প্রতিষ্ঠানটি এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়াভিত্তিক ব্যাংক মিড পেন ব্যাংক গত বুধবার তাদের সব শাখা বন্ধ করে দিয়েছে।

জার্মানির বার্লিনার স্পার্কাস ব্যাংক গত ১৭ মার্চ ঘোষণা দিয়েছে, তাদের দুই তৃতীয়াংশ শাখা আগামী ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখবে।

দেশটির কমার্স ব্যাংক জানিয়েছে, তারা বার্লিনে অবস্থিক ৫৫ শাখার মধ্যে ৪০টি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিচ্ছে। তবে বাকি ১৪টি শাখা খোলা থাকবে। আর এসব শাখা থেকে অন্যান্য শাখার গ্রাহকরাও অভিন্ন সেবা নিতে পারবেন।

তবে জার্মানির অন্যতম শীর্ষ ব্যাংক ডয়েচে ব্যাংক জানিয়েছে, তারা আপাতত তাদের ব্যাংকের কোনো শাখা বন্ধ করার কথা ভাবছে না। তারা দেশ ও দেশের বাইরের সামগ্রিক পরিস্থিতি মনিটর করছে। পাশাপাশি ব্যাংকের কর্মী এবং গ্রাহকদের নিরাপত্তা কীভাবে আরও বাড়ানো যায় সেই চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

(এসআর/২১ মার্চ, ২০২০)