
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: বাড়তি সময় পেয়েও আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার খালাস না নিয়ে বন্দরে ফেলে রেখেছিলেন পোশাকশিল্প মালিকেরা। এসব কনটেইনার বন্দরে রাখার ভাড়ায় আবারও ছাড় পেলেন তারা। সোমবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে বন্দর কর্তৃপক্ষ পোশাকশিল্প মালিকদের সুবিধা দিয়ে এই আদেশ জারি করেছে। পোশাকশিল্প মালিকেরা সুবিধা পেলেও সরকারি সংস্থার কারণে সবচেয়ে আর্থিক ক্ষতির শিকার হওয়া বাণিজ্যিক আমদানিকারকেরা কোনো ছাড় পাচ্ছেন না।
বন্দর কর্মকর্তারা জানান, ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটির সময় থেকে বন্দর দিয়ে আমদানি করা সব ধরনের কনটেইনার রাখার ভাড়ায় ছাড় দেওয়া হয়েছিল। সাধারণ ছুটির কারণে বেশিরভাগ সংস্থার সেবার আওতা সীমিত করায় এই ছাড় দেওয়া হয়। কিন্তু ছাড় দেওয়ার সুবিধা নিয়ে উল্টো বন্দরে কনটেইনার ফেলে রেখে জট তৈরি করায় ২০ এপ্রিলের পর সে সুবিধা প্রত্যাহার করে নেয় বন্দর। এখন আবার বিজিএমইএ’র চাপে এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
নতুন আদেশের বিষয়ে বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, বিজিএমইএ’র আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সুবিধা আগামী ৪ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে খালাস নেওয়া হলে শুধু বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ সদস্যদের আমদানি কনটেইনার রাখার ভাড়া দিতে হবে না।
বন্দরের ভাড়ার মাশুল হিসেব করে দেখা গেছে, এই সুবিধার কারণে প্রতিটি আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার রাখার ভাড়ায় সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা ছাড় পাচ্ছেন পোশাক শিল্প মালিকেরা। সবমিলিয়ে বন্দরে পড়ে থাকা প্রায় ১৩ হাজার কনটেইনারে সংগঠন দুটির সদস্যরা কমবেশি ২০-২৫ কোটি টাকা ছাড় পাচ্ছেন বলে প্রাথমিক হিসাবে ধারণা পাওয়া গেছে।
স্বাভাবিক সময়ে জাহাজ থেকে নামানোর পর চারদিন পর্যন্ত বিনাভাড়ায় কনটেইনার রাখা যায় বন্দরে। এরপর প্রথম ধাপে প্রতিটি কনটেইনারে ছয় ডলার, দ্বিতীয় ধাপে ১২ ডলার এবং শেষধাপে ২৪ ডলার করে ভাড়া দিতে হয়।
বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, এর আগে ভাড়ায় ছাড়ের সুবিধা দেওয়ায় পোশাকশিল্প মালিকেরা আমদানি পণ্য বন্দরে ফেলে রেখেছিলেন। এতে বন্দরে ভয়াবহ কনটেইনার জট তৈরি হয়। নতুন এই সুবিধার কারণে পোশাকশিল্প মালিকেরা বন্দরে পণ্য ফেলে রাখতে আরও এক সপ্তাহ বাড়তি সময় পাচ্ছেন। এতেই বন্দরে জট আরও তীব্র হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
বন্দরের সাম্প্রতিক এক হিসেবে দেখা যায়, বন্দর দিয়ে কনটেইনারে আমদানি হওয়া পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হলো পোশাকশিল্পের কাঁচামাল, সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি। এই হার মোট আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ।
(এএইচএন/ ২৮ এপ্রিল, ২০২০)