
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: চলমান বৈশ্বিক মহামারীর প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে গত সপ্তাহে নতুন করে বেকার ভাতার আবেদন করেছে ৩২ লাখ মার্কিন নাগরিক। এ নিয়ে মধ্য মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে বেকার ভাতার আবেদনের সংখ্যা পৌঁছল ৩ কোটি ৩৩ লাখে, যা মোট মার্কিন শ্রমশক্তির ২০ শতাংশ। খবর বিবিসি।
মার্কিন শ্রম বিভাগ জানিয়েছে, সাপ্তাহিক হিসাবে মার্চের তুলনায় বর্তমানে বেকার ভাতার আবেদনের সংখ্যা কমছে। কিন্তু তার পরও যে হারে মানুষ আবেদন ও ভাতা গ্রহণ করছে, তা সংশ্লিষ্টদের চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। এমনকি দেশের কিছু অঞ্চলে পুনরায় অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালুর প্রক্রিয়া শুরু হলেও আবেদনের সংখ্যা বাড়ছেই।
ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের প্রধান ইউএস অর্থনীতিবিদ পল অ্যাশওয়ার্থ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এখনো মানুষ উল্লেখযোগ্য হারে বেকার ভাতার আবেদন করছে, যা খানিকটা হলেও হতাশাজনক। এর মানে হলো, খুব সামান্যসংখ্যক কর্মীই পুনরায় কাজ করার জন্য ডাক পাচ্ছেন।
এরই মধ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় উবার, লিফট ও এয়ারবিএনবির মতো বহু কোম্পানি কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মধ্যে টিকে থাকতে এ পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে কোম্পানিগুলো। মূলত বর্তমানে মার্কিন অর্থনীতিজুড়েই নভেল করেনাভাইরাসের প্রভাব অনুভূত হচ্ছে। জীবিকা সংকটে পড়েছেন স্বাস্থ্য, রেস্তোরাঁ ও প্রশাসনিক খাতে কর্মরতরা। এ পরিস্থিতিতে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ১৫ শতাংশ বা তারও বেশি হতে পারে। অথচ মাত্র দুই মাস আগেও দেশটিতে বেকারত্বের হার ছিল মাত্র ৩ দশমিক ৫ শতাংশ, যা ছিল ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
যুক্তরাষ্ট্রে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। খুচরা বিক্রি কমেছে অভাবনীয় মাত্রায়। মূলত ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পর দেশটিতে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের এমন পতন আর দেখা যায়নি। আর এ সময়ে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বেকারত্বের হার।
এদিকে অ্যাপার্টমেন্ট মালিকদের সংগঠন দ্য ন্যাশনাল মাল্টিফ্যামিলি হাউজিং কাউন্সিল জানিয়েছে, গত মাসে তাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভাড়াটিয়া পুরো ভাড়া পরিশোধ করতে পারেনি। প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক ম্যাথিউ ডেসমন্ড বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে এই স্বাস্থ্য সংকট দেশে ভয়াবহ গৃহহীনতার সংকটে পরিণত হবে।
(এসএএম/০৯ মে ২০২০)