
নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, চট্টগ্রাম: বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে ঈদের আগে কোনো মার্কেট এবং শপিংমল না খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী নেতারা।
শনিবার (৯ মে) দুপুরে নগরের দামপাড়ায় সিএমপি কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে তারা এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এদিকে গত শুক্রবার চট্টগ্রামের ১১টি মার্কেট ও শপিংমল না খোলার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা। তবে কেউ যদি তাদের মার্কেট খোলা রাখতে চান তাহলে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেট খোলা যাবে বলে জানিয়েছে সিএমপি।
মতবিনিময় সভায় সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান বলেন, মার্কেট বন্ধকালীন নগরীর সব বাজার ও বিপণিকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। তবে যারা সীমিত পরিসরে মার্কেট বা শপিংমল খোলা রাখতে চান তাদের শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেট খুলতে পারবেন। সেক্ষেত্রে আমরা কিছু নির্দেশনা দিয়েছি সেগুলো মেনে চলতে হবে। দোকানপাট, মার্কেট, শপিং কমপ্লেক্সে সিএমপির দেওয়া নির্দেশনার ব্যত্যয় ঘটলে তাৎক্ষণিক বন্ধ করে দেয়া হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রামের অন্যান্য শপিংসেন্টারের মতো টেরিবাজারও বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমাদের বড় মার্কেটগুলোর শুধু জাকাতের কাপড় গুদাম থেকে ট্রাকে ক্রেতাদের বাড়ি পৌঁছে দেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।
রিয়াজউদ্দিন বাজার এবং তামাকুমন্ডি লেইন মার্কেটও ঈদে বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন মার্কেট সমিতির নেতারা।
মতবিনিময় সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) আমেনা বেগম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) এস. এম. মোস্তাক আহমেদ খান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) শ্যামল কুমার নাথ, চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক অহিদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন), চিটাগাং উইমেন চেম্বারসহ নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজার, নিউমার্কেট, টেরিবাজার, জহুর মার্কেট, সানমার ওশান সিটি, ইউনেস্কো টাওয়ার, আমিন সেন্টারসহ বিভিন্ন দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার করোনাভাইরাসের সংক্রামণ দিনদিন বেড়ে যাওয়ায় শপিংমলগুলো ঈদের আগে না খোলার সিদ্ধান্ত নেয় চট্টগ্রামের বড় ১১টি শপিংমল। যদিও গত ৪ মে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো চিঠিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে ১০ মে থেকে শপিংমল ও দোকানপাট খোলা রাখা যাবে বলে জানানো হয়।
(এএএন/এসএএম/১০ মে ২০২০)