Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Wednesday, 29 Jul 2026 14:34
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে বিদেশী বিনিয়োগের সুযোগ সীমিত রেখে নতুন একটি আইন জারি করেছে জাপান সরকার।‘ফরেন এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড ফরেন ট্রেড অ্যাক্ট’শীর্ষক নতুন আইনটি গত ৮ মে থেকে কার্যকর হয়েছে। তবে এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন শুরু হবে ৭ জুন থেকে। এরআগে এক মাস রূপান্তরকালীন হিসেবে রাখা হয়েছে।খবর ব্লুমবার্গ।

নতুন আইন অনুযায়ী, কোনো বিদেশী বিনিয়োগকারী নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোয় ১ শতাংশের বেশি শেয়ার কেনার পরিকল্পনা করলে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষকে তা আগে থেকেই জানাতে হবে। আগের নিয়ম অনুযায়ী ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে অবগত করা বাধ্যতামূলক ছিল।

জাপানে তালিকাভুক্ত মোট কোম্পানির অর্ধেকের বেশি নতুন এ বিধিনিষেধের আওতায় পড়বে। তবে আর্থিক ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের মতো কিছু নিবন্ধিত বিনিয়োগকারীর জন্য বেশকিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশনায় কোম্পানিগুলোকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। প্রথম ক্যাটাগরিতে থাকা কোম্পানিকে বিধিনিষেধের আওতা থেকে পুরোপুরি মুক্ত রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে প্রায় ৫০০ কোম্পানিকে, যারা পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ও প্রতিরক্ষার মতো কোর ইন্ডাস্ট্রিগুলোয় কাজ করে। এসব কোম্পানিকে নতুন বিধিনিষেধ পূর্ণাঙ্গভাবে মেনে চলতে হবে। আর তৃতীয় ক্যাটাগরিতে রয়েছে দেড় হাজারের বেশি কোম্পানি, যারা কোর ইন্ডাস্ট্রির বাইরে অন্য খাতে (যেমন সম্প্রচার, পরিবহন, ইত্যাদি) কাজ করে। এসব কোম্পানির জন্য বিধিনিষেধের কঠোরতা কিছুটা কম রাখা হয়েছে।

কোর ইন্ডাস্ট্রিতে কার্যরত কোম্পানিগুলোর মধ্যে টয়োটা মোটর করপোরেশন, সনি করপোরেশন, সফটব্যাংক গ্রুপ করপোরেশন অন্যতম। আর কোর ইন্ডাস্ট্রির বাইরের কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে নিনতেন্দো করপোরেশন, ফানুক করপোরেশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো।

জাপান সরকার বলছে, জাতীয় সুরক্ষা নিশ্চিতের জন্য নতুন আইনটি জারি করা খুব জরুরি ছিল। তবে সমালোচকরা বলছেন, এমন এক সময় আইনটি জারি করা হলো, যখন জাপান পুঁজিবাজারকে উন্নত করার চেষ্টা করছে। নতুন বিধিনিষেধ চালুর ফলে অ্যাক্টিভিস্ট ইনভেস্টিং কমে যাবে।

আইনটির খসড়া বিল তৈরির পর এ নিয়ে বেশ সমালোচনা হয়েছিল। এর পরই কিছু বিনিয়োগকারীকে এ বিধিনিষেধের আওতামুক্ত রেখে চূড়ান্ত আইন জারি করা হয়। এসব বিনিয়োগকারীর মধ্যে রয়েছে ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এজেন্সিতে নিবন্ধিত ব্যাংক, সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি, হেজ ফান্ড ও হাই-ফ্রিকোয়েন্সি ট্রেডার্স। এক্ষেত্রে যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে, এ ধরনের বিনিয়োগকারীরা তালিকাভুক্ত কোম্পানির পর্ষদ সদস্য হন না এবং কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় তাদের প্রভাব অনেক সীমিত।

মূলত বিদেশী রাষ্ট্রায়ত্ত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কথা মাথায় রেখেই নতুন আইনটি জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে চীনা বিনিয়োগ জাপানের জন্য বিশেষ মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দাইওয়া ইনস্টিটিউট অব রিসার্চের জ্যেষ্ঠ গবেষক ইউকি কানেমোতো বলেছেন, ‘আইনটির খসড়া তৈরির সময় নিশ্চিতভাবেই কর্তৃপক্ষের মাথায় চীনা বিনিয়োগের বিষয়টি ছিল।’

(এসএএম/১২ মে ২০২০)