
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: কক্সবাজার জেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা দিন দিন উদ্বেগজনকভাবে বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে, কক্সবাজার সদর উপজেলায়। এ পর্যন্ত কক্সবাজারের ৮টি উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত সদর উপজেলায় ২৫১ জন।
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. অনুপম বড়ুয়া জানান, শনিবার (৩০ মে) প্রকাশিত কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে ১৬৪ জন নমুনা পরীক্ষায় ২৯ জন পজেটিভ এসেছে। এতে নতুন আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ২৬ জন। অপর ৩ জন আক্রান্ত রোগীর ফলোআপ রিপোর্ট। নতুন শনাক্তের মধ্যে কক্সবাজার সদর উপজেলায় সর্বোচ্চ সংখ্যক আক্রান্ত রয়েছে, ২১ জন।
এছাড়া রামু উপজেলার ১ জন, চকরিয়া উপজেলার ১ জন, লোহাগাড়ার ১ জন, বান্দরবনের ১ জন, থানচির ১ জন রয়েছে।
গত ৫৯ দিনে মোট ৬৫০৭ জন সন্দেহভাজন রোগীর করোনা ভাইরাস টেস্ট করা হয় কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে স্থাপিত ল্যাবে। তারমধ্যে ৬৪৪ জনের রিপোর্ট করোনা পজেটিভ পাওয়া গেল। এর মধ্যে মহেশখালীতে ৩১ জন, টেকনাফে ২১ জন, উখিয়ায় ৮৬ জন, রামু ২৪ জন, চকরিয়ায় ১৫৭ জন, কক্সবাজার সদরে ২৫১ জন, কুতুবদিয়ায় ২ জন এবং পেকুয়ায় ৩৮ জন রয়েছে। এর সাথে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৩০ জন রোহিঙ্গা। অন্যান্যরা কক্সবাজার জেলার নিকটবর্তী বান্দরবান জেলার বাসিন্দা এবং চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, লোহাগাড়া ও সাতকানিয়ার বাসিন্দা।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের দেয়া তথ্য মতে, ইতিমধ্যে করোনায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন কক্সবাজার জেলায় মোট ১৪২ জন। আর মৃত্যুবরণ করেছেন ১১ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় সুস্থ হয়েছেন ২২ জন, মৃত্যুবরণ করেছেন ৯ জন, রামু উপজেলায় সুস্থ ২ জন, মৃত্যু ১ জন, চকরিয়ায় সুস্থ ৭০ জন, মৃত্যু ১ জন, পেকুয়ায় সুস্থ ২১ জন, মহেশখালীতে ২জন, উখিয়া ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সুস্থ ৭ জন ও টেকনাফে সুস্থ ৮ জন।
শনিবার কক্সবাজার পৌরসভায় কোভিড-১৯ রোগী সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধির বাস্তবতায় কক্সবাজার পৌরসভায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে অনলাইন প্লাটফর্মে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি, উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও ইউএনও (সদর) সংযুক্ত ছিলেন। সভায় করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে নানা সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, কক্সবাজার পৌরসভায় ওয়ার্ড কাউন্সিলর, সমাজ কমিটি, স্বাস্থ্য বিভাগ, পুলিশ বাহিনী, কমিউনিটি পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে তিনটি কুইক রেসপন্স টিম (এ, বি, সি) গঠন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কমিটি সমূহ আক্রান্তদের আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা, কন্টাক্ট ট্রেসিং, আক্রান্তদের খোঁজ খবর রাখা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানসহ সার্বিক দায়িত্ব পালন করবে। তাই এ ব্যাপারে সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।
(এএইচএন/ ৩০ মে ২০২০)