Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Wednesday, 22 Jul 2026 07:41
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাকা: দেশে যে পরিমাণ জ্বালানি রয়েছে তা চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয় জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

তিনি বলেন, ‘দেশে বছরে মোট জ্বালানি তেলের চাহিদা ৫৬ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ৪.২৭ লাখ মেট্রিক টন অভ্যন্তরীণ উৎস হতে পাওয়া যায়।অর্থাৎ ৫১.৭৩ লাখ মেট্রিক টন বিভিন্ন গ্রেডের জ্বালানি তেল আমদানিপূর্বক দেশের চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। বিগত ৯ বছরে ১৯ লাখ ৯৮ হাজার ৮৭৭ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়েছে।’

জাতীয় সংসদে রবিবার (৭ মে) পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে নির্বাচিত সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানিয়েছেন নসরুল হামিদ। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এদিন সংসদের অধিবেশন বিকেল সোয়া ৫টায় শুরু হয়।

নসরুল হামিদ সংসদকে জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৪শ’মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে উত্তোলিত হচ্ছে প্রায় দুই হাজার ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ দেশে দৈনিক প্রায় ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদার সিংহভাগই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বিভিন্ন দেশের ১০টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে জিটুজি ভিত্তিতে এবং আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রেডের পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে চাহিদা পূরণ করে আসছে। তবে অকটেন, পেট্রোল এবং কেরোসিনের চাহিদার সিংহভাগই অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে পূরণ হচ্ছে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ১৯ লাখ ৯৮ হাজার ৮৭৭ মেট্রিক টন ডিজেল, জেট-১, কেরোসিন, অকটেন, ফার্নেস অয়েল ও ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়েছে।

তেল-গ্যাস ও কয়লা অনুসন্ধান-উৎপাদনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

লুৎফা তাহেরের (মহিলা আসন-৪০) এক প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেছেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে দেশজ প্রাথমিক জ্বালানি তথা তেল, গ্যাস ও কয়লার অনুসন্ধান, উন্নয়ন ও উৎপাদনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ২০২১ সাল নাগাদ ৫৭টি কূপ ও ৩৩টি উন্নয়ন কূপ খনন করা হবে। এ ছাড়া ২৩টি পুরাতন কূপের ওয়ার্কওভার করা হবে। এ সকল কার্যক্রমের ফলে দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা এক হাজার থেকে এক হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়। এ ছাড়া গভীর ও অগভীর সমুদ্রে সার্ভে ও তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম চলছে।’

জ্বালানি তেলের মূল্য কমালে বিপিসি পুনরায় লোকসানী প্রতিষ্ঠানে হবে

পিরোজপুর-৩ আসনের এমপি মো. রুস্তম আলী ফরাজীর এক প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘দেশে ইতোমধ্যে গত ১এপ্রিল ও ২৫ এপ্রিল জ্বালানি তেলের মূল্যহ্রাস করা হয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য গত এক বছর ধরে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। বাস্ততার নিরিখে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য হ্রাস-বৃদ্ধির সাথে সাথে অভ্যন্তরে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস-বৃদ্ধি সম্ভব হয় না। ইতোপূর্বে ভর্তুকি মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রয় করায় ২৭ হাজার ৪১৯ কোটি ৮১ লাখ টাকার সরকারি ঋণের দায় এখনো বিপিসির উপর রয়ে গেছে। দ্বিতীয় দফায় জ্বালানি তেলের মূল্য কমানো হলে বিপিসি পুনরায় লোকসানী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে এবং ঋণ করে জ্বালানি তেল আমদানি করতে হবে।’

তিনি দাবি করেছেন, জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস করা হলে তার সুফল সাধারণ জনগণ সরাসরি উপভোগ করতে পারে না। অন্যদিকে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাসের পর আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সঙ্গতি রেখে পরবর্তীতে মূল্য সমন্বয় করা হলে তখন সাধারণ জনগণের উপর অধিক প্রভাব পড়বে। তাই সামগ্রিক বিবেচনায় আপাতত জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস করা সমচীন হবে না।

(এসএএম্ ০৭ মে ২০১৭)