Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Wednesday, 29 Jul 2026 20:50
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: চরম পরীক্ষার মধ্য দিয়ে দিন পার করছে যুক্তরাজ্যের পুঁজিবাজার। বিগত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে চলছে দেশটির মূলধনি বাজারের নেতিবাচক প্রবনতা।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে (ব্রেক্সিট) গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার চার বছর অতিবাহিত হলেও এর ভূত তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে যুক্তরাজ্যের পুঁজিবাজারকে। ২০১৬ সাল থেকেই প্রতি বছর পারফরম্যান্সের দিক থেকে এ বাজার প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যান্য পুঁজিবাজারের চেয়ে পিছিয়ে থাকছে। ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা কাটিয়ে বাজার যখন আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, তখনই আবার হানা দিল নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। সবকিছু মিলিয়ে খুব ক্রান্তিলগ্ন পার করছে বৃটিশদের পুঁজিবাজার। খবর ব্লুমবার্গ।

খবরে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের পুঁজিবাজারের ব্লু-চিপ সূচক এফটিএসই-১০০। চার বছর ধরেই সূচকটির পারফরম্যান্স অন্যান্য শীর্ষ সূচকের চেয়ে অনেক কম। পাউন্ডভিত্তিক লেনদেনে বর্তমানে বাজারটির অবস্থা চার বছর আগে ব্রেক্সিট গণভোট হওয়ার ঠিক আগের পর্যায়ে রয়েছে। আর ডলারভিত্তিক লেনদেনের পারফরম্যান্স আরো খারাপ, যা চার বছর আগের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কম।

বরিস জনসন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর বাজারের পরিস্থিতি কিছুটা ভালো হতে শুরু করেছিল। কিন্তু করোনা এ ঊর্ধ্বযাত্রা ভেস্তে দিল। মাহামারীটির কারণে যেসব দেশ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার মধ্যে যুক্তরাজ্য একটি। করোনা ও জ্বালানির দরপতন মিলে বৃহৎ মূলধনি এফটিএসই-১০০ সূচককে টেনে নামিয়েছে। যুক্তরাজ্যের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত জ্বালানি কোম্পানিগুলোর প্রায় ১২ শতাংশ এ সূচকের আওতায় রয়েছে।

টানা কয়েক বছরে পারফরম্যান্সের এই অধোঃগতি বৈশ্বিক মূলধনি বাজারে যুক্তরাজ্যের শেয়ারগুলোর ডিসকাউন্ট চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ইউবিএস ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের অ্যাসেট অ্যালোকেশনে যুক্তরাজ্য হলো সবচেয়ে পছন্দের মূলধনি বাজার। প্রতিষ্ঠানটি মনে করছে, সাম্প্রতিক সময়ে পারফরম্যান্স ভালো না হলেও জ্বালানির দর আবার বাড়লে বিনিয়োগকারীরা ব্রিটিশ মূলধনি বাজার থেকে ভালো রিটার্ন পেতে শুরু করবেন।

ইউবিএস ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট বলেছে, ‘ভ্যালু স্টকগুলোর দর বাড়তে শুরু করলে বিনিয়োগকারীরা আবার উপকৃত হবেন। ব্রিটিশ পুঁজিবাজার এই ভ্যালু স্টকগুলোর ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। এফটিএসই-১০০ সূচকের ৪০ শতাংশই ভ্যালু স্টকগুলোকে নিয়ে গঠিত।’

এ বিষয়টিই যুক্তরাজ্যের পুঁজিবাজারকে বর্তমানে বেশ চাপের মধ্যে রেখেছে। এমনিতে এটি হাই-ডিভিডেন্ড মার্কেট হিসেবে পরিচিত। কিন্তু করোনার প্রভাবে রয়েল ডাচ্ শেলের মতো জ্বালানি কোম্পানিগুলো ব্যবসায়িকভাবে সংকটের মধ্যে রয়েছে। এটি পুঁজিবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

গত সপ্তাহে ব্রিটিশ শেয়ারগুলোর মূল্যায়ন কমিয়েছেন সিটিগ্রুপের বিশ্লেষকরা।

তারা বলেছেন, এ বাজারে বিপুল পরিমাণে পাওনা লভ্যাংশের পাহাড় জমা হয়ে গেছে। আর এ লভ্যাংশের এক-চতুর্থাংশের বেশি ঝুঁকিতে থাকা জ্বালানি কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে আসার কথা।

চলতি মাসে ব্যাংক অব আমেরিকা পরিচালিত ফান্ড ম্যানেজার সার্ভে অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য এখন তহবিল ব্যবস্থাপকদের কাছে সবচেয়ে অপছন্দের একটি বাজার। জরিপটিতে এ বাজারের ২৯ শতাংশই আন্ডারওয়েটে রয়েছে বলে দেখানো হয়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের শেয়ারগুলোয় অ্যালোকেশন চলতি মাসে বেড়েছে মাত্র ৪ শতাংশীয় পয়েন্ট, যা এখনো দীর্ঘমেয়াদি গড়ের অনেক নিচে রয়েছে।

(এসএএম/২৫ জুন ২০২০)