
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: চীনের পার্লামেন্টে পাস হওয়া বিতর্কিত হংকং নিরাপত্তা আইন ভঙ্গের শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। বিলটিতে সই করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং।
হংকং এর চলমান পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে আইনটির প্রয়োজন ছিলো বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম। এদিকে, হংকংয়ে নিরাপত্তা আইন পাস করায় চীনের তীব্র সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
চীনের পার্লামেন্টে পাস হওয়া বিতর্কিত নিরাপত্তা আইনের প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত আছে হংকংয়ে। এরমধ্যেই বুধবার নানা আয়োজনে যুক্তরাজ্যের কর্তৃত্ব থেকে চীনের কাছে হস্তান্তরের ২৩তম বার্ষিকীর আয়োজন করা হয় আধা স্বায়ত্ত্বশাসিত অঞ্চলটিতে। ‘এক দেশ দুই নীতির’ ফর্মুলার অধীনে ১৯৯৭ সালে চীনের কাছে হংকংকে ফিরিয়ে দেয় যুক্তরাজ্য।
এদিন আয়োজনে অংশ নিয়ে আইনটিকে স্বাগত জানান অঞ্চলটির প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম। আইনটিকে সাংবিধানিক ও যুক্তিসংগত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ আইনে হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসন ক্ষুন্ন হবে না।
হংকংয়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনটির প্রয়োজন ছিলো। গতবছরের জুন থেকে হংকংয়ে যে সহিংসতা শুরু হয়েছিল তা কমাতেই কেন্দ্রীয় সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানাবো, আমাদের দেশের জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখার অধিকারকে সম্মান করুন।
এদিকে, মঙ্গলবার পাস হওয়া বিলটিতে সই করেছেন প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। এর ফলে বিলটি এখন আইনে পরিণত হলো। যারা আইনটি ভঙ্গ করবে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছে।
আইনটি নিয়ে নিজের হতাশা ব্যক্ত করেছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েন।
তিনি বলেন, আইনটি হংকংয়ে এক দেশ দুই নীতিকে হুমকির মুখে ফেলবে।
উদ্বেগ জানিয়েছেন যুক্ত্যরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও। আর আইনটি পুনর্বিবেচনায় চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে আইনটিকে স্বাগত জানিয়েছে কিউবাসহ ৫০ এর অধিক দেশ।
হংকংয়ে চলমান অস্থিরতা ও গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় মঙ্গলবার নিজেদের পার্লামেন্টে নিরাপত্তা আইনটি পাস করে চীন।
(এএইচএন/০১ জুলাই ২০২০)