
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার কমায় চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণ চূড়ান্ত পর্যায় অতিক্রম করে নিচের দিকে নামছে বলে দাবি স্বাস্থ্য বিভাগের। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে তাল মেলাচ্ছে সিটি কর্পোরেশনও।
তবে পরীক্ষার সংখ্যা বাড়াতে না পারলে, সংক্রমণের চূড়া নির্ধারণ সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। চট্টগ্রামে একমাসে শনাক্ত সাড়ে ৬ হাজারসহ মোট আক্রান্ত ১০ হাজার ছাড়িয়েছে।
৩ এপ্রিল চট্টগ্রামে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ১০০ জন অতিক্রম করতে সময় লেগেছিল এক মাস দু’দিন। আর ৫০০ জন পেরুতে সময় লেগেছে মাত্র ৯ দিন। তার পরের সাতদিনে রোগীর সংখ্যা এক হাজার। শেষ দেড় মাসে রোগীর সংখ্যা পেরিয়েছে দশ হাজার। বর্তমানে রোগী সংখ্যা ১০ হাজার ১৮০ জন।
সিভিল সার্জনের দাবি, করোনার বিশেষত্ব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জুন মাসের শেষেই চূড়ান্ত পর্যায় অতিক্রম করে এসেছে। আর মেয়র বলছেন, পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার এ মাসে নেমে এসেছে।
সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, চট্টগ্রামে মৃত্যুর হার গত কয়েকদিনে অনেক কমে এসেছে। সবদিকই ইতিবাচক।
মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, পরীক্ষার সংখ্যা বাড়লে শনাক্তের সংখ্যাও বাড়বে। কিন্তু পার্সেন্টেজ বাড়েনি, বরং কমেছে।
চট্টগ্রামে প্রথম করোনা রোগী মারা যান ১২ এপ্রিল। এরপর এক মাসেরও কম সময়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছে যায় একশোতে। আর সবশেষ রোববার (৫ জুলাই) ৬ জনসহ বর্তমানে মৃতের সংখ্যা ১৯৫ জন।
হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীর সংখ্যা কমছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দাবি করলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, নানা জটিলতায় করোনা আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতালের চেয়ে বাসাতেই চিকিৎসা নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের চিফ কনসালটেন্ট ডা. মোহাম্মদ আবদুর রব বলেন, হাসপাতালে রোগী ভর্তির হার অনেক কমে গেছে। চাপও অনেকটা কমে গেছে।
এখনো নমুনা দেয়ার পর দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আগে প্রতিদিন ৬শ থেকে ৭শ নমুনা পরীক্ষা হলেও এখন তা ১৩শ ছাড়িয়েছে। কিন্তু পরীক্ষার হার বাড়িয়েই চূড়ান্ত সময় নির্ধারণের কথা বলছেন চিকিৎসক।
জনস্বাস্থ্য রক্ষা অধিকার কমিটির আহ্বায়ক ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, অন্তত ১ মাস টেস্ট করে যেতে হবে। তারপর বলা যাবে যে এটা কমছে কি বাড়ছে। এখনও এটা আগের মতোই আছে, বাড়ছেও না, কমছেও না।
চট্টগ্রামে বর্তমানে বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতালগুলো ছাড়াও দু’টি ফিল্ড হাসপাতাল এবং ৬টি আইসোলেশন সেন্টারে করোনা রোগীদের সেবা দেয়া হচ্ছে।
(এএইচএন/ ০৭ জুলাই ২০২০)