
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: মালয়েশিয়া প্রবাসী রায়হান কবির সম্প্রতি আল জাজিরায় একটি সাক্ষাৎকারে মালয়েশিয়ায় শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের বর্ণণা দেয়ার পর সমন জারি করায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে অভিবাসীদের সুরক্ষায় যুক্ত ২১টি সংগঠন।
এই সংগঠনগুলো সাংবাদিক ও প্রবাসীদের সকল হয়রানি থেকে বিরত থাকতে মালয়েশিয়া সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশন, ঢাকার পররাষ্ট্র, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্যোগী হয়ে রায়হান কবিরের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
করোনা মহামারিতে অবৈধ অভিবাসী শ্রমিকদের সঙ্গে মালয়েশিয়া সরকার অমানবিক আচরণ করছে মর্মে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা। ‘লকড আপ ইন মালয়েশিয়া’স লকডাউন’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদন নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।
‘১০১ ইস্ট’ অনুষ্ঠানে ২৫ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের ওই প্রতিবেদনে বাংলাদশি যুবক মো. রায়হান কবির একটি সাক্ষাৎকার দেন। সে কারণে দেশটির পুলিশ গত ৭ জুলাই রায়হানের সন্ধান চেয়ে এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ডাকা হয় আল-জাজিরার ৬ সাংবাদিক ও ৭ কলা-কৌশলীকে।
এই যৌথ বিবৃতিতে সই করেছে ব্র্যাক, রামরু, ওয়ারবি, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ), বিলস ওকাপ, বিএনএসকে, আইআইডি, কর্মজীবী নারী, হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি, বমসা, বাসুগ, ইনাফি, বিএনপিএস, ডেভকম, ইমা, আওয়াজ ফাউন্ডেশন, রাইটস যশোর, বাস্তব, ফিল্মস ফর পিস ফাউন্ডেশন ও মাইগ্রেশ নিউজ।
আলজাজিরায় প্রকাশিত তথ্যচিত্রটিতে রায়হান কবির তার পরিচিতদের উপর চালানো হয়রানি ও নিপীড়নের তথ্য তুলে ধরেছেন। এ কারণে এখন তাকে খুঁজছে পুলিশ ও ইমিগ্রেশন বিভাগ। তার ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। এমনকি তার সম্পর্কে তথ্য দিতে জনগনের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে। সেখানে তিনি এখন অনেকটাই ‘ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল’ বলে জানা গেছে। তবে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন এ ব্যাপারে কোন উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ আছে।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের খোঁজখবর রাখার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষন ব্যুরো (বিএমইটি) রায়হান কবিরের ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছে।
শুক্রবার মালয়েশিয়ার পুলিশ সদর দফতরে আইনজীবীর উপস্থিতিতে আল-জাজিরার ৬ সাংবাদিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি নিজেদের সাংবাদিকতার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়ে ওই তদন্তের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সূত্র-ডয়েচে ভ্যালে
(এএইচএন/ ১২ জুলাই, ২০২০)