Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Thursday, 24 Sep 2026 12:33
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা: চলমান মহামারি করোনায় ইতোমধ্যেই সমাজের বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তথা জনস্বার্থে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে, জাতির এই দুঃসময়ে মানবতার দূত হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছেন মানবিক তরফদার মোহাম্মদ রুহুল আমিন। এরই ধারাবহিকতায় ফুটবল খেলা ছেড়ে রাজমিস্ত্রির কাজ করা নারায়ণগঞ্জের আরিফ হাওলাদার, ফরিদপুরের ফরিদপুরের ঝাড়ুদার রিপন কুমার দাস এবং খুলনার ইজিবাইক চালক মো. হাসান আল মামুন- এই তিনজনের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। ইতোপূর্বে তাদের দুর্দশার কথা মিডিয়ায় প্রকাশিত হলে মর্মাহত হন বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ও বাংলাদেশ ফুটবল ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং বন্দরের শীর্ষ টার্মিনাল অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার মোহাম্মদ রুহুল আমিন।

এরই প্রেক্ষিতে গতকাল রোববার (১৯ জুলাই) অন্য পেশায় যোগ দেওয়া তিন অসহায় ফুটবলারকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে ৫০ হাজার টাকা তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন এবং তাদের আবার মাঠে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছেন দেশের এই শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক।

তিন খেলোয়াড়কে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ফুটবলাররা দেশের ভবিষ্যৎ। আজ যে তিন ফুটবলার ফুটবল ছেড়ে ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছেন; তারা কিন্তু সবাই ভালো ভালো ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। তাদের অবস্থা এমন হবে কেন! এর দায় বাফুফের। তার সঠিক পরিকল্পনার। তারা যদি নিয়মিত খেলা মাঠে রাখত, সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খেলা শেষ করে নতুন লিগ চালু করত তাহলে রিপন, আরিফদের ফুটবল ছেড়ে রাজমিস্ত্রি, দিনমজুরের কাজ করতে হতো না। ১২ বছরেও ফুটবলের অবকাঠামো দাড় করাতে পারেনি বাফুফে। আজ ফুটবলারদের এই অবস্থা আমি লজ্জিত। এ লজ্জা শুধু আপনার- আমার নয়। এই লজ্জা পুরো বাঙালি জাতির।

আর্থিক সহায়তা পেয়ে খুলনার হাসান আল মামুন বলেন, ‘আমি ফুটবলার ছিলাম। পরিবারকে বাঁচাতে ফুটবল ছেড়ে দিনমজুরের কাজ করছি। রুহুল আমিন স্যারকে অনেক ধন্যবাদ। তিনি আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। অর্থনৈতিক কষ্টের কারণে এক সময় আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলাম। আজ নতুন জীবন দিলেন তিনি।’ ফুটবল ছেড়ে ঝাড়ুদারের কাজ বেছে নেয়া ফরিদপুরের রিপন কুমার দাস বলেন, ‘আমার পরিবার খুব অসহায়। তরফদার রুহুল আমিন স্যার আমার দুরবস্থার কথা জানতে পেরে তার অফিসে ডেকে নিয়ে এসেছেন। আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি অনুশীলনের সুযোগ দিয়েছেন। আমি কৃতজ্ঞ।’

করোনাভাইরাসের কারণে সব ধরনের ফুটবল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক খেলোয়াড় অসহায় জীবন-যাপন করছেন।তাদের মধ্যে আরিফ, রিপন ও মামুন অন্যতম।তিনজনই প্রতিভাবান ফুটবলার ছিলেন। আরিফ সর্বোচ্চ লিগে খেলে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে না পেরে চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে যোগ দিয়েছিলেন। এ মৌসুমে কোন ক্লাব তাকে নেয়ইনি। ফুটবলার হওয়ার চ্যালেঞ্জে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে না পেরে পরিবারের হাল ধরতে আরিফ হাওলাদার বেছে নেন রাজমিস্ত্রি পেশা।

ফরিদপুরের রিপন দাস ২০১২ সালে এয়ারটেল রাইজিং স্টার চ্যাম্পিয়ন দলের হয়ে ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ক্লাবে ১০ দিন অনুশীলন করেছিলেন; কিন্তু চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের ওপরে উঠতে পারেনি। খুলনার ইজিবাইক চালক হাসান আল মামুন খেলেছেন বাসাবো তরুণ সংঘের হয়ে।

ইতোমধ্যেই এই শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক দেশের ২০০জন কোচকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে অন্যসব সেক্টরের মতো দেশের ক্রীড়াঙ্গণও থমকে গেছে। কোথাও খেলা নেই। মাঠে ফুটবল নেই। ফুটবল না থাকার কারণে আমাদের ফুটবলার তৈরির কারিগর কোচদেরও কোনো কাজ নেই। তৃণমূল থেকে যারা দিন-রাত কাজ করে ফুটবলার তৈরি করতেন, তারা আজ ঘরবন্দি।

মানবিক মানুষ মিশন একাত্তরকে বলেন, আমরা যারা তৃণমূলে ফুটবল নিয়ে কাজ করি তাদের সবার স্বল্প আয়ের ফুটবলার এবং কোচদের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়ানো উচিত । মেধাবীরা যাতে ফুটবল বিমুখ না হন, তারা যাতে ফুটবলের সঙ্গেই থাকেন সে জন্যই স্বল্প আয়ের ফুটবলার এবং কোচদের পাশে দাঁড়াতে চাই আমরা।দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অসহায় দেশবাসীর মধ্যে যথাসাধ্য ত্রাণ, হ্যান্ড গ্লভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক ইত্যাদি সরঞ্জামাদি দিয়েছি।এছাড়াও দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংবাদকর্মী ও ফুটবল কোচদের সর্বদা প্রণোদনা দিয়ে আসছি। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও সাধ্যমত সহযোগিতা অব্যাহত রেখে দেশের মানুষের পাশে থাকব।

উল্লেখ্য, দেশের ফুটবল জগতকে আরও সমৃদ্ধ রাখতে তরফদার মোঃ রুহুল আমিনকে দেশীয় ফুটবলের শীর্ষ নেতৃত্বের জায়গাটায় দেখতে চেয়েছিলেন বাংলাদেশের অগনিত মানুষ, দর্শক, ভক্ত ও বোদ্ধাগণ। তবে ফুটবলের শীর্ষ নেতৃত্বের সেই জায়গায় না থাকলেও তিনি ঠিকই থাকছেন দেশের আপামর জণসাধারণের পাশে। বিশেষ করে সমাজের নিম্ন ও দুস্থ্য শ্রেণির মানুষের পাশে। আর সবসময়ের মত থাকছেন খেলার সাথে সম্পৃক্ত অসহায়দের পাশে।মানবিক মানুষ তরফদার মো. রুহুল আমিন আগামীতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে জানিয়ে সবার দোয়া চেয়েছেন।

(শামীম/২০ জুলাই ২০২০)