Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Tuesday, 28 Jul 2026 23:53
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: জিনজিয়াংয়ে সংখ্যালঘু উইঘুর জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন চালানোর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ১১ চীনা কোম্পানিকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এক ঘোষণায় এ তথ্য জানায়।

এতে বলা হয়, মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে কোম্পানিগুলোকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে হংকং ইস্যুসহ সর্বশেষ উইঘুর ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মহলে আরো কোণঠাসা হয়ে পড়ল এশিয়ার এ পরাশক্তিটি। খবর রয়টার্স ও এএফপি।

পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং প্রদেশে অন্তত ১০ লাখ উইঘুর জনগোষ্ঠীকে প্রায় বন্দির মতো জীবনধারণে বাধ্য করায় বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উত্থাপন করে আসছিল মানবাধিকার গ্রুপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো।

সর্বশেষ সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো উইঘুরসহ অন্যান্য মুসলিম সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর সদস্যদের জোরপূর্বকভাবে শ্রমদানে বাধ্য করার সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি পোশাক কোম্পানি ও দুটি সরকারি সংস্থা রয়েছে। সংস্থা দুটির বিরুদ্ধে উইঘুর ও অন্যান্য সংখ্যালঘু গোষ্ঠীকে আরো দমনের জন্য বায়োমেট্রিক ডাটা সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনুমোদন ছাড়া কোনো মার্কিন কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবে না। জিনজিয়াংয়ে সংখ্যালঘুদের দমন-পীড়নের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এর আগেও ৩৭টি কোম্পানিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী উইলবার রস সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, বেইজিং তাদের নাগরিকদের দমাতে সক্রিয়ভাবে জোরপূর্বক শ্রমদানে বাধ্য করা, নির্যাতনমূলকভাবে ডিএনএ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ প্রকল্প চালানোর নিন্দনীয় চর্চা করে থাকে। তিনি আরো বলেন, এ পদক্ষেপ এটা নিশ্চিত করবে যে আমাদের পণ্য ও প্রযুক্তি সংখ্যালঘু মুসলিম জনসংখ্যার ওপর চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ঘৃণ্য হামলায় ব্যবহূত হবে না।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যে নয়টি কোম্পানির বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ তোলে সেগুলো হচ্ছে—চ্যাংজি এসকুয়েল টেক্সটাইল, হেফেই বিটল্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি, হেফেই মেইলিং, হেতিয়ান হালিন হেয়ার অ্যাকসেসরিস, হেটিতায়া তাইদা অ্যাপারেল, কেটিকে গ্রুপ, নানজিং সিনার্জি টেক্সটাইলস, ন্যানচেং ও-ফিল্ম টেক এবং তানইওয়ান টেকনোলজি।

উইঘুরদের ওপর ভবিষ্যতে নিপীড়নের চর্চা জারি রাখতে ডিএনএ সংগ্রহ ও জেনেটিক বিশ্লেষণের অভিযোগে জিনজিয়াং সিল্ক রোড ও বেইজিং লিয়ুহির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এদিকে নতুন এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলে মন্তব্যে অপারগতা প্রকাশ করে ওয়াশিংটনের চীনা দূতাবাস।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে নতুন এ নিষেধাজ্ঞা দিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। দুই সপ্তাহ আগেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে বেশ কয়েকজন চীনা কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এ পদক্ষেপ দুই পক্ষের মধ্যে বৈরিতা আরো বৃদ্ধি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চীনের সঙ্গে একটি ব্যাপক বাণিজ্য চুক্তির আশায় ২০১৮ ও ২০১৯ সালে উইঘুরদের ওপর নির্যাতন নিয়ে চীনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি মোটামুটি স্থগিত রেখেছিলেন ট্রাম্প। তবে চলতি বছরের শুরু থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন চীনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যায়। দেশটির বিরুদ্ধে নভেল করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, তথ্য গোপনের অভিযোগ আনেন ট্রাম্প ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা। সম্প্রতি পাস হওয়া চীনের হংকং বিষয় নিরাপত্তা আইনেরও সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্র।

উইঘুর নিপীড়ন নিয়ে চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, এটা একবিংশ শতকের কলঙ্ক।

(এসএইচআর/এসএএম/২৫ জুলাই ২০২০)