
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: ট্রাম্প প্রশাসনের উইচ্যাট নিষেধাজ্ঞা পরিকল্পনার বিরোধিতা করছে চীনের সঙ্গে ব্যবসা রয়েছে এমন বড় প্রায় সব যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান। তাদের মতে, এতে ক্ষতি হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর। গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস কর্মকর্তাদের কাছে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডজনখানেকেরও বেশি প্রতিষ্ঠান। খবর: রয়টার্স।
অভিযোগকারীদের মধ্যে অ্যাপল, ফোর্ড মোটর কোম্পানি, ওয়ালমার্ট ও ওয়াল্ট ডিজনির মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মঙ্গলবারের আলোচনায় হোয়াইট হাউস কর্মকর্তাদের কাছে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ স্বাক্ষরের প্রভাব তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো। অ্যাপের বিরুদ্ধে এ ধরনের পদক্ষেপের কারণে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান পিছিয়ে পড়তে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
আলোচনায় অন্যান্য অংশগ্রহণকারীর মধ্যে রয়েছে প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বল কোম্পানি, ইনটেল করপোরেশন, মেটলাইফ ইনকরপোরেট, গোল্ডম্যান স্যাকস গ্রুপ, মর্গান স্ট্যানলি, ইউনাইটেড পার্সেল সার্ভিস ইনকরপোরেট (ইউপিএস), মেরেক অ্যান্ড কো ইনকরপোরেট এবং কার্গিল ইনকরপোরেট।
অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
সম্প্রতি চীনভিত্তিক প্রযুক্তি কোম্পানি বাইটডান্স নিয়ন্ত্রিত শর্ট ভিডিও তৈরির সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ টিকটক ও টেনসেন্ট নিয়ন্ত্রিত টেক্সট ও ভয়েস মেসেজিং অ্যাপ উইচ্যাটকেও যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ করতে নির্বাহী আদেশে সই করা হয়েছে। উভয় নির্বাহী আদেশ কার্যকর হবে ৪৫ দিন পর। অর্থাৎ দেড় মাস পর বাইটডান্স ও টেনসেন্টের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের আর্থিক লেনদেন বন্ধ হয়ে যাবে এবং বন্ধ থাকবে প্রতিষ্ঠান দুটি নিয়ন্ত্রিত সেবা টিকটক ও উইচ্যাটের কার্যক্রম।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীনের শাক দল কমিউনিস্ট পার্টির কাছে সরাসরি তথ্য পৌঁছে দেয় এমন সফটওয়্যারগুলোর একটি হচ্ছে চীনের ভিডিও অ্যাপ টিকটক ও ম্যাসেঞ্জার অ্যাপ উইচ্যাট।
ভিডিও শেয়ারিংয়ের জনপ্রিয় অ্যাপ টিকটকের প্রতিষ্ঠান অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা চীন সরকারের নিয়ন্ত্রিত নয় বা সরকারের কাছে তথ্য সরবরাহ করে না। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে এরই মধ্যে টিকটকের প্রধান কার্যালয় চীন থেকে সরানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাইটডান্স। চীনের বাইরে প্রধান কার্যালয় নির্মাণে টিকটকের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে লন্ডন। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বাণিজ্য, করোনাভাইরাস ব্যবস্থাপনাসহ চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের নানা ইস্যুতে উত্তেজনা রয়েছে। এর মধ্যে চীনের মালিকানাধীন টিকটক এবং অন্যান্য সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত সেই উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
এর আগে ভারত টিকটক, উইচ্যাটসহ চীনা ৫৯টি অ্যাপ বন্ধ করে দেয়। নয়াদিল্লি এসব অ্যাপকে দেশের জন্য বিপজ্জনক অভিযোগ করে তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও ১৫ জুন লাদাখে চীনের সঙ্গে সীমান্ত-সংঘর্ষে ভারতের ২০ সেনা নিহত হওয়ার পর দিল্লি ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
(এএইচএন/ ১৬ আগস্ট, ২০২০)