
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: কভিড-১৯ মহামারী পরবর্তী অর্থনীতি চাঙ্গা করতে প্রযুক্তি খাতের ওপর জোর দিয়েছে ভারত সরকার। আর সরকারের এ লক্ষ্যে এবার দিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা।
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সংস্থা ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড সার্ভিস কোম্পানির (নাসকম) এক পূর্বাভাসে এ কথা বলা হয়েছে। খবর ইটি টেলিকম।
এতে বলা হয়, ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটির জিডিপিতে এআই প্রযুক্তির অবদান ৪৫০ থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারে বা ৫০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছবে।
‘আনলক ভ্যালু ফ্রম ডাটা অ্যান্ড এআই : দি ইন্ডিয়ান অপরচুনিটি’শীর্ষক প্রতিবেদনে নাসকম বলেছে, এ সময়ের মধ্যে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং পুনরুদ্ধারে এআই প্রযুক্তি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে। তবে এর জন্য নাসকম তাদের প্রতিবেদনে পাঁচটি বিষয়ের ওপর জোর দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এগুলো হলো স্ট্র্যাটেজি, ডাটা, টেকনোলজি স্ট্রাক, ট্যালেন্ট ও এক্সিকিউশন।
নাসকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত এ খাতের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে পারে, তাহলে হলিস্টিক ডাটা ইউটিলাইজেশন এবং এআই প্রযুক্তি বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে তারা। বিশেষ করে মহামারী ও অর্থনৈতিক সংকট পরবর্তী উদীয়মান দেশ হিসেবে এ খাত ভারতের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
নাসকমের এ প্রতিবেদন ও পরামর্শগুলো এরই মধ্যে ভারতের নেতৃস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তাব্যক্তিরা যাচাই-বাছাই করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে টাটা সন্স, উইপ্রো ও মাইক্রোসফট ইন্ডিয়া। এছাড়া নাসকমের এ পরামর্শ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সামনেও উপস্থাপন করা হয়েছে।
দেশটির ল অ্যান্ড জাস্টিস, কমিউনিকেশনস, ইলেকট্রনিকস এবং আইটিবিষয়ক মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, যেভাবে সরকার দেশের নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ ঘটাচ্ছে এবং এআই প্রযুক্তির ব্যবহার করছে, তাতে এখন ডিজিটাল ভারত আমরা সহজেই কল্পনা করতে পারছি। এছাড়া আগামীতে উদীয়মান যেসব প্রযুক্তি আসবে, সেগুলোর ব্যবহারও এ ভিশন বাস্তবায়নে সাহায্য করবে। তিনি আরো বলেন, এআই প্রযুক্তির পূর্ণাঙ্গ সুবিধা নিতে হলে এখন ভারতকে খোলা মনে এটি গ্রহণ করতে হবে।
নাসকমের এ প্রতিবেদনটি প্রকাশের জন্য আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে উইপ্রো চেয়ারম্যান রিশাদ প্রেমজি বলেন, ভারতের জন্য প্রযুক্তি খাতে কী অপেক্ষা করছে, সেটি এ প্রতিবেদনে ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ খাতের প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এখন পাইলট প্রকল্প থেকে এগুলো বাস্তবায়ন কীভাবে নিশ্চিত করা হবে সেটি গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ভালো আইডিয়া নিয়ে আমরা শুরু করতে পারি। পাইলট প্রকল্প চলতে পারে। কিন্তু আসল বিষয়টা হলো এটি ব্যাপক অর্থে বাস্তবায়ন। সেখানে কিন্তু আসল ম্যাজিক ও চ্যালেঞ্জ।
তবে এআই প্রযুক্তিবিষয়ক এ প্রতিবেদন নিয়ে খাতসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আরো অনেক আলোচনা হবে। বিশেষ করে দেশটির টেলিকম খাতসংশ্লিষ্টদের নিয়ে খুব দ্রুত একটি ভার্চুয়াল সামিটের আয়োজন করা হবে, যেখানে এ খাতের সম্ভাবনা, কৌশল ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে জানা গেছে।
নাসকসের চেয়ারম্যান ইউবি প্রাভীন রাও রিশাদ প্রেমজির মতো একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ভারতের এখন এ খাতের বিষয়গুলো বাস্তবায়নে সূক্ষ্ম নজর দেয়া দরকার। দেশের প্রতিটি খাতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো দরকার।
এদিকে নাসকমের প্রতিবেদনে ডাটাভিত্তিক অর্থনীতি তৈরির ক্ষেত্রে অন্যতম তিনটি পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এগুলো হলো জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট খাতে ডাটা সেট করা, ডাটা ও অ্যাসেটের জন্য মার্কেটপ্লেস তৈরিতে একটি প্রোগ্রাম চালু করা এবং ডাটার মান নিয়ন্ত্রণে ও কার্যকরে একটি কেন্দ্রীয় এজেন্সি তৈরি করা।
মাইক্রোসফট ইন্ডিয়ার সভাপতি মাহেশওয়ারি বলেন, ভারতের জন্য ডাটা এবং এআই প্রযুক্তির হাব হওয়ার বড় সুযোগ রয়েছে। আর সেটির জন্য এখনই উপযুক্ত সময় ভারতে ভাইব্রেন্ট এআই ইকোসিস্টেম তৈরি করার।
নাসকমের প্রতিবেদনে এআই প্রযুক্তির গুরুত্ব উল্লেখ করে বেসরকারি খাত ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের বিষয়েও বলা হয়েছে। সংস্থাটির সভাপতি দেবজানি ঘোষ বলেন, ডাটা ও এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন খাত চালানোর ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এ প্রতিবেদনে সেগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। মূল্যবান এসব সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য সরকারের এখনই পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার।
(এসএএম/২০ আগস্ট ২০২০)