Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Wednesday, 29 Jul 2026 01:57
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক: নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর ফলে প্রায় ১০ কোটি মানুষ অতিদরিদ্র হয়ে পড়বে।

সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের প্রধান ডেভিড ম্যালপাস এক সতর্কবার্তায় এ কথা জানান। খবর-এএফপি।

ওয়াশিংটনভিত্তিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটি এর আগে পূর্বাভাস দিয়েছিল, কভিড-১৯ মহামারীর কারণে ছয় কোটি মানুষ অতিদরিদ্র হয়ে পড়বে। কিন্তু সর্বশেষ এ পূর্বাভাসে ১০ কোটি কিংবা তারও বেশি মানুষ অতিদারিদ্র্যে পড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে যদি নভেল করোনাভাইরাস মহামারী আরো কয়েক মাস অব্যাহত থাকে।

বার্তা সংস্থা এএফফিকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ডেভিড ম্যালপাস বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে দরিদ্র দেশগুলোকে দেয়া ঋণে সুদের পরিমাণ কমানো দরকার ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর। এছাড়া অনেক দেশই তাদের ঋণ পরিস্থিতি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।

ম্যালপাস বলেন, ঋণ ঝুঁকি বাড়ছে এবং এজন্য নতুন বিনিয়োগকারীদের সামনে যে দুঃসময় এসেছে, তাদের সামনে আশা জাগানো দরকার।

এরই মধ্যে অগ্রসর অর্থনীতির জি২০ভুক্ত দেশগুলো দরিদ্র দেশগুলোকে দেয়া ঋণের সুদ প্রত্যাহার করেছে। মহামারীতে এ পর্যন্ত প্রায় আট লাখ মানুষের প্রাণহানি এবং আড়াই কোটি মানুষের আক্রান্তের ঘটনায় দরিদ্র দেশগুলোর জন্য এ সুবিধা আগামী বছর পর্যন্ত বহাল রাখবে জি২০ভুক্ত দেশগুলো।

তবে ম্যালপাস বলেন, এ সুবিধা দরিদ্র দেশগুলোর জন্য যথেষ্ট বিবেচিত হবে না। এরই মধ্যে তাদের নাগরিকদের সুরক্ষাজাল নিশ্চিতে ব্যর্থ হওয়া দরিদ্র দেশগুলো আগামী কয়েক বছরেও ঋণ পরিশোধে সক্ষমতা অর্জন করবে না।

ম্যালপাস মনে করেন, সামনের দিনগুলোয় মন্দা না শ্লথগতি দেখা দেবে, তা নির্ভর করছে প্রত্যেক দেশ কীভাবে তাদের ঋণদায় কমায় তার ওপর। যে দেশগুলোর উচ্চ ঋণঝুঁকি রয়েছে, তারা মন্দা বা শ্লথগতিতে পড়বে—এটি ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

২০২১ সালের জুন নাগাদ ১০০টি দেশের জন্য ১৬ হাজার কোটি ডলার অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। অবিলম্বে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় গত জুন নাগাদ ২ হাজার ১০০ কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু এর পরও অতিদারিদ্র্য বাড়ছে এবং বর্তমানে ন্যূনতম মজুরি দিনে ১ দশমিক ৯০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

ম্যালপাস বলেন, মহামারীর ফলে কর্মী ছাঁটাই ও সাপ্লাই চেইনে বিঘ্নের ফলে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে এবং এতে খাদ্য সংগ্রহ কঠিন ঠেকেছে। এসব কারণে মানুষ অতিদারিদ্র্যে পড়ছে।

নতুন নিয়োগ পাওয়া বিশ্বব্যাংকের মুখ্য অর্থনীতিবিদ কার্মেন রেইনহার্ট চলমান অর্থনৈতিক সংকটকে ‘মহামারীকালীন মন্দা’হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে ওই সংজ্ঞায়ন নিয়ে ততটা উল্লসিত নন ম্যালপাস।

তিনি বলেন, আমরা এটাকে শ্লথগতি হিসেবে অভিহিত করতে পারি। তবে এখন আমাদের মনোযোগ হতে পারে কীভাবে বিভিন্ন দেশকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করতে পারি।

বেসরকারি খাতের ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো যে ঋণ অব্যাহতি দিচ্ছে, তাতে ‘হতাশা’ ব্যক্ত করেছেন ম্যালপাস।

ঋণ অব্যাহতির জন্য ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স একটি কাঠামো দাঁড় করালেও জুলাইয়ের মাঝামাঝি নাগাদ কোনো সদস্য ব্যাংকের এখনো আবেদন পাওয়া যায়নি।

ম্যালপাস বলেন, কোন দেশের ঋণের আকার কেমন, এ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখার ওপর দাঁড়িয়ে এটা নিশ্চিত করা যাবে কীভাবে ঋণগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তা করা যাবে।

(এসএএম/২২ আগস্ট ২০২০)