
নরসিংদী প্রতিনিধি, বিনিয়োগবার্তা : অবশেষে চাঁদাবাজি মামলায় এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ আমিরগঞ্জ ইউপি সদস্য গোলজার হোসেন জেল হাজতে আছেন। আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের ভাটিবদরপুর গ্রামের প্রবাসী রফিকুল ইসলাম রবির স্ত্রী শেফালী বেগমের দায়ের করা চাঁদাবজি মামলা গত বুধবার (১৯ আগস্ট) আদালতে আত্মসমর্পন করলে বিজ্ঞ আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেয়। এদিকে জেল হাজতে থেকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য ইউপি সদস্য গোলজার হোসেন বাদী পক্ষকে প্রাণনাশসহ বিভিন্ন হুমকি-দমকি দিয়ে যাচ্ছে।
মামলার এজাহার ও বাদীনি বক্তব্যে জানা যায়, নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ড সদস্য গোলজার হোসেন এলাকার একজন চিহ্নিত চাঁদাবাজ। সে পুরো ওয়ার্ড জুড়ে তার একছত্র আধিপত্য বিস্তার করে সন্ত্রাসীদের লালন-পালন করে চাঁদাবাজি করে আসছে। সম্প্রতি ইউনিয়নের ভাটিবদরপুর গ্রামের দুবাই প্রবাসী রফিকুল ইসলাম রবির দীর্ঘদিন প্রবাস জীবন শেষ করে দেশে এসে পরিবার-পরিজন নিয়ে কিছু করে দু’বেলা দুটো খেয়ে বাঁচার তাগিদে খালি জায়গা ভাড়া নিয়ে তাতে ইট, বালুর ব্যবসা শুরু করে। তার এই ব্যবসাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। তার ব্যবসার দিকে নজর পড়ে চাঁদাবাজ ইউপি সদস্য গোলজার হোসেনের। সে জামেলা করার পায়তারায় রবির ব্যবসাস্থলে অবৈধ ভাবে ইট, বালু ফেলে ব্যবসার বিঘ্ন ঘটাতে থাকে। গত ১০ জুলাই ইউপি সদস্য গোলজার হোসেন তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে অস্ত্রে-সস্ত্রে সজ্জ্বিত হয়ে ট্রাক ভরে রবির ইট, বালু তুলে নিয়ে যেতে থাকে। এ সংবাদে রবি তার ব্যবসাস্থলে ছুটে এসে বাধা প্রদান করলে গোলজারের ইশারায় তার সন্ত্রাসী বাহিনী রবির উপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে রবিকে গলা চেপে শ্বাস রোধে হত্যার চেষ্টা চালায় তারা। এসময় স্বামীকে প্রাণে বাঁচাতে মামলার বাদীনি ছুটে আসে এবং স্বামীর প্রাণ রক্ষা করে। সে সময় সন্ত্রাসীরা বাদীনি গলায় থাকা একটি এক ভরি ওজনের গলার স্বর্ণে চেইন ও কানের ধুল ছিনিয়ে নেয়। পরে গোলজার বাহিনী ব্যবসা করার জন্য তাদের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী নচেৎ ব্যবসা করতে দিবেনা। চাঁদার টাকা দিতে রবি দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনা কয়েক অনলাইন টেলিভিশনে সংবাদও প্রকাশ করা হয়। এ বিষয়ে থানায় মামলা করতে গেলে রায়পুরা থানা পুলিশ মামলা গ্রহন না করায় বাদ্য হয়ে বাদীনি শেফালী বেগম আদালতের স্মরণাপন্ন হয়। আদালত বাদীনি শেফালী বেগমের আবেদন আমলে নিয়ে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আবেদনটি এজাহার ভুক্ত করে আদালতে পেশ করা নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুফিয়া বেগমের আবেদন গত ২ আগস্ট এজাহার ভুক্ত করে তার নথি আদালতে প্রেরণ করে। এদিকে চাঁদাবাজ আর সন্ত্রাসীদেও অত্যাচারে দেশে শান্তিতে ব্যবসা-বানিজ্য করা যাবেনা, বিষয়টি অনুধাপন করে। মামলা ১ নং স্বাক্ষী রফিকুল ইসলাম রবি পূণরায় দুবাই ফেরত যান।
অপরদিকে চাঁদাবাজ ইউপি সদস্য মামলা এজাহার ভুক্তির খবরে গত ১৯ আগস্ট স্বশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পন কওে জামিন আবেদন করলে। আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেয়। সেই থেকে তিনি জেল হাজতে আছেন।
বাদীনি শেফালী বেগম জানান, জেল হাজতে থেকে গোলজার মামলা তুলে নিতে হুমকি- দমকি দিয়ে যাচ্ছে এমনকি পুরো পরিবারকে শেষ করে দিবে বলে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে যাচ্ছে। এমতবস্থায় বাদীনি শেফালী বেগম পরিবার-পরিজন নিয়ে আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে অসহায় দিন যাপন করছে।
এব্যাপারে আমিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো: নাসির উদ্দিন খান এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি অবগত আছেন বলে জানান। তিনি বলেন ইউপি সদস্য গোলজার হোসেন যদি সত্যি এ ঘটনায় জড়িত থাকেন তবে সে তার সাজা ভোগ করবে।
(এসএইচআর/এসএএম/২৩ আগস্ট ২০২০)