Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Thursday, 18 Jun 2026 11:28
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা: টানা ১২ কিলোমিটার নদীপথ সাঁতার কেটে এলাকায় চাঞ্চল্যসহ রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন নরসিংদী আলোকবালির বকুল। এ অসাধ্য কাজটি সাধন করলেন নরসিংদী সদর উপজেলার আলোকবালি ইউনিয়নের খোদাদিলা গ্রামের সিদ্দিকী বকুল নামে এক পল্লী চিকিৎসক । বকুল আলোকবালি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ডাক্তার সিদ্দিকুর রহমানের দ্বিতীয় ছেলে। আর এই ১২ কিলোমিটার নদীপথ সাঁতার কেটে পাড়ি দিতে তার সময় লাগে ৫ ঘন্টা ১০ মিনিট।

জানা যায়, আলোকবালীস্থ প্রবাসী কল্যান সংস্থার কুয়েত প্রবাসী মনির হোসেন তারা, রবিউল ইসলাম ও দুবাই প্রবাসী সোহরাফ হোসেন সম্মিলিতভাবে একটা ঘোষণা দেয় যে ব্যক্তি মনিপুরা বাজার বা খোদাদিলা ঘাট থেকে সাঁতার কেটে নরসিংদী লঞ্চঘাট যেতে পারবে তাকে বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করা হবে। এলাকার প্রবাসীদের ঘোষণাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহন করেন আলোকবালি ইউনিয়নের খোদাদিলা গ্রামের সিদ্দিকী বকুল নামের ওই পল্লী। ছোট বেলা থেকে বিভিন্ন সাঁতার প্রতিযোগিতায় বিজয়ী বকুল ঘোষণার শর্ত মোতাবেক রবিবার সকাল ১০টায় রায়পুরা উপজেলার মনিপুরা বাজার ঘাট থেকে সাঁতার শুরু করে এবং একটানা ৫ ঘন্টা ১০ মিনিট সাঁতার কেটে বেলা ৩টা ১০ মিনিটে নরসিংদীর লঞ্চঘাট পৌছেন। এসময় তার সাঁতার দেখতে কয়েক’শ এলাকাবাসী নৌকা যোগে নদীপথে তাকে অনুস্মরণ করতে দেখা যায়। তার এই টানা ৫ ঘন্টা ১০ মিনিটের সাঁতার কাটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্য ফেইসবুকে সরাসরি (লাইভ)প্রচার করে আলোকবালি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ সভাপতি সাকিল খান। আর ফেইসবুকে সরাসরি প্রচার করা বকুলের সাঁতার দেখতে মেঘনা পাড়ে ভীর জমায় শত শত উৎসুক মানুষ।সাঁতার শেষ করে পল্লী চিকিৎসক বকুল নরসিংদী লঞ্চঘাটে পৌছলে বন্ধু-বান্ধব ও এলাকাবাসী তাকে জড়িয়ে ধরে এবং তার গলায় টাকার মালা পড়িয়ে বরন করে নেন।

বকুলের দীর্ঘপথ সাঁতার কেটে পাড়ি দেয়ার বিষয়টি আলোকবালি ইউনিয়নসহ আশপাশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। পুরো চরাঞ্চল জুড়ে সবার মুখে শুধু একটা কথা এটা কি করে সম্ভব করলো বকুল।

পল্লী চিকিৎসক সিদ্দিকী বকুলের ভাই ফাহিম সিদ্দিকী জানান, তার ভাই ডা, সিদ্দিকী বকুল ছোট বেলা থেকেই এলাকার একজন নামকরা সাতারু ছিলেন। তিনি কোনদিন কোন সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দ্বিতীয় হননি। বরাবরই প্রথম থেকেছেন। তিনি আরও জানান, প্রবাসীদের ঘোষণাকে তার ভাই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে গত দু’দিন আগে গোপনে মনিপুরা থেকে সাঁতার কেটে নরসিংদী লঞ্চঘাট গিয়ে তার প্রশিক্ষণ শেষ করেন। এতে করে তার মনোবল আরও দৃঢ হয় এবং তিনি মানুষিকভাবে চ্যালেঞ্জ সম্পূর্ণ করতে তৈরি হন।

 

এব্যাপারে ডা, সিদ্দিকী বকুল তার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, ‘ আমি পেরেছি, সত্যিই আমি পেরেছি। আজকের এই চ্যানেঞ্জের সফলতা ভবিষ্যতে আমাকে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার অনুপ্রেরণা জোগাবে।আমি বিশ্বে বুকে বাংলাদেশের নাম লেখাতে চাই। এ জন্য আমি এলাকাবাসীসহ নরসিংদী জেলাবাসীর দোয়া কামনা করছি।’

 

(এসএইচআর/এসএএম/২৩ আগস্ট ২০২০)