Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Sunday, 27 Sep 2026 10:16
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা: হাতে সময় মাত্র দুই মাস। নভেম্বর নির্বাচনের আগে আমেরিকার দুই রাজনৈতিক শিবির ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকান দুই পক্ষেরই পাখির চোখ ভারতীয়-মার্কিন ভোটাররা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোট পূর্ববর্তী সমীক্ষায় বোঝা যাচ্ছে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। ফলে প্রায় ২৫ লাখ ভারতীয়-মার্কিনের ভোট নির্ণায়ক শক্তি হয়ে উঠতে পারে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে এই ভোট ব্যাঙ্ককে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন, রোববার তা আরও একবার প্রমাণিত হলো। রিপাবলিকান প্রার্থীর প্রথম নির্বাচনী টেলিভিশন বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে। তার একটা বড় অংশ জুড়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে আমেরিকার হিউজটনে বিশাল সমাবেশ করেছেন মোদি। ২০১৯ সালের নির্বাচনের বেশ কিছুদিন আগে আমেরিকায় তাঁর জনপ্রিয়তা প্রমাণ করতে গিয়েছিলেন মোদি। সেখানে প্রায় ৫০ হাজার ভারতীয়-মার্কিনের উপস্থিতিতে ‘হাউডি মোদি’ শো হয়েছিল। যেখানে উপস্থিত ছিলেন ট্রাম্পও। প্রকাশ্যে মোদি-ট্রাম্পের গলায় গলায় বন্ধুত্বের সেখানেই সূচনা।

মোদি সেই অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, যে কোনও কথা বলতে গেলেই প্রথম বাক্যে ট্রাম্পের নাম চলে আসে। আর মোদির ভূয়সি প্রশংসা করেছিলেন ট্রাম্প। নিজেদের এবং দুই দেশের বন্ধুত্বের কথা বলেছিলেন। ট্রাম্পের যে নির্বাচনী বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে, তার প্রথম ফ্রেমেই হিউস্টনের সেই বিশাল অনুষ্ঠানের ছবি। যেখানে দেখা যাচ্ছে মোদি এবং ট্রাম্প হাত ধরাধরি করে হাঁটছেন।

এখানেই শেষ নয়। ট্রাম্পের নির্বাচনী বিজ্ঞাপনে মোদির বক্তৃতার আরও অংশ আছে। নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট শেষ বিদেশ সফর করেছেন ভারতে। হাউডি মোদির মতো ভারতের আমেদাবাদ ভারতের প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পের সংবর্ধনা সভার আয়োজন করেছিলেন‘নমস্তে ট্রাম্প’। ওই অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদি কার্যত ট্রাম্পের হয়ে নির্বাচনী প্রচার করেছিলেন। ভারতীয়-মার্কিনদের কাছে সরাসরি ট্রাম্পের ফের নির্বাচিত করার আবেদন জানিয়ে মোদি বলেছিলেন, ট্রাম্প ভারতকে কী কী সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক কতটা গভীর। ট্রাম্পও ওই দিনের বক্তৃতায় মোদি এবং ভারতের ঢালাও প্রশংসা করেছিলেন। একই সঙ্গে বলেছিলেন, দেশের ভারতীয়-মার্কিনদের তিনি কতটা গুরুত্ব দেন। নমস্তে ট্রাম্পের ফুটেজও ব্যবহার করা হয়েছে ট্রাম্পের নির্বাচনী বিজ্ঞাপনে।

বেশ কিছু মাস আগের সেই অনুষ্ঠান থেকেই স্পষ্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ভারতীয়-মার্কিনদের ভোট কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বস্তুত, বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ভারতীয়-মার্কিন এবং চীনা-মার্কিনদের ভোট আমেরিকার ভোটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ট্রাম্প বুঝতে পারছেন, করোনাকালে যে ভাবে তিনি চীনকে আক্রমণ করেছেন তাতে চীনা-মার্কিনিদের ভোট তাঁর দিকে যাবে না। ফলে ভারতীয়-মার্কিনিদের ভোট তাঁর প্রয়োজন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরাও ভারতীয়-মার্কিনদের ভোটের প্রয়োজন বুঝতে পারছেন। এবং সে কারণেই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কমলা হ্যারিসকে ভাইস প্রেসিডেন্টের পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে আনা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত তাঁর প্রতিটি বক্তৃতায় কমলা তাঁর ভারতীয় এবং আফ্রিকান অতীত তুলে ধরছেন।

বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন, কমলা হ্যারিস ডেমোক্র্যাটদের ট্রাম্প কার্ড। ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের এই চালে দৃশ্যত খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছেন। ফলে প্রথমে কমলা হ্যারিসকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করার চেষ্টা করেছেন। এ বার মোদিকে নামিয়ে দিয়েছেন হ্যারিসের বিকল্প হিসেবে।

বাস্তব হলো, ভারতীয়-মার্কিনদের একটা অংশ মোদি ভক্ত। বিশেষত, পশ্চিম ভারতের ব্যবসায়ী গোষ্ঠী। গত কয়েক দশকে তাঁদের একটা বড় অংশ অ্যামেরিকায় গিয়ে বসবাস করছেন। এই অংশ বরাবরই রিপাবলিকানপন্থী। মোদির কথার গুরুত্ব তাঁদের কাছে খুবই বেশি। কিন্তু বাঙালি, দক্ষিণ ভারতীয়, মহারাষ্ট্র থেকে যাওয়া ভারতীয়রা আবার চিরাচরিত ভাবে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থক। কমলা হ্যারিস আসরে নামায় এই অংশের ভোটাররা এমনিই আরও বেশি ডেমোক্র্যাটপন্থী হয়ে গিয়েছেন। রিপাবলিকান ভোটারদেরও একাংশ ইতিহাসের সাক্ষী থাকতে ডেমোক্র্যাটদের এ বার ভোট দিতে পারেন। ট্রাম্প সেই অশনি সংকেত বুঝতে পেরেছেন বলেই নির্বাচনী প্রচারে মোদিকে ব্যবহার করে বসলেন। এতে লাভ হবে কি না, তা সময়ই বলবে। সূত্র: রয়টার্স, এনডিটিভি

(ডিএফই/২৪ আগস্ট, ২০২০)