Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Wednesday, 29 Jul 2026 02:59
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক:  করোনা মহামারীর প্রভাবে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিপর্যস্ত অস্ট্রেলীয় অর্থনীতির সংকোচন হয়েছে রেকর্ড ৭ শতাংশ। আর এর মধ্য দিয়ে প্রায় তিন দশকে প্রথম মন্দায় প্রবেশ করল অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রায় ১০ শতাংশ সংকোচনের ফলে মন্দায় পড়েছে লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ব্রাজিলও। এর আগে সোমবার ভারত জানায়, এপ্রিল-জুনে এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির জিডিপির সংকোচন হয়েছে ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ। এ অবস্থায় করোনাকালে বড় অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে শুধু চীনই প্রবৃদ্ধিতে রয়েছে বলা চলে।

মূলত ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধে বিশ্বব্যাপী গৃহীত পদক্ষেপের কারণে আন্তর্জাতিক ও দেশজ অর্থনৈতিক কার্যক্রমের বৃহদাংশ স্থবির হয়ে পড়ে। সরকারগুলো কোটি কোটি ডলারের প্রণোদনা প্রকল্প হাতে নেয়ার পরও মন্দা কিংবা সংকোচনের মুখে পড়ছে একের পর এক দেশের অর্থনীতি। সম্প্রতি এশিয়া থেকে ইউরোপ পর্যন্ত অর্থনীতির যে চিত্র প্রকাশিত হচ্ছে, তাতে উদ্বেগ বাড়ছে বৈ কমছে না। বিশেষ করে গতকাল অস্ট্রেলিয়ার মন্দার খবর ভাইরাসের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতির গভীরতর সংকটেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার অর্থমন্ত্রী জশ ফ্রাইডেনবার্গ বলেন, দেশের অর্থনীতির ওপর কভিড-১৯-এর ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে। এ মহামারীজনিত এবারের মন্দা দেশটির টানা ২৮ বছরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতি টানল। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে এর আগে তিন মাসের তুলনায় দেশটির অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে ৭ শতাংশ। আগের প্রান্তিকে এ সংকোচন হয়েছিল শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ। পরপর দুই প্রান্তিকের সংকোচন কার্যত অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিকে মন্দায় ঠেলে দিয়েছে।

জুন প্রান্তিকে লকডাউনের প্রভাবে অস্ট্রেলিয়ার গৃহস্থালি ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য সংকোচন হয়েছে। অন্যদিকে কর্মঘণ্টার পতন হয়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। অথচ সামাজিক সুবিধার আওতায় প্রদানকৃত অর্থের পরিমাণ বেড়েছে ৪০ শতাংশেরও বেশি। কিন্তু এ সময় অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়িক কার্যক্রম, বিশেষ করে আমদানি ও রফতানি উভয়ই কমেছে। মূলত দেশটি আগে থেকেই দীর্ঘস্থায়ী খড়া ও দাবানলের কারণে অর্থনেতিক সংকটের মধ্যে পড়ে। এর ওপর করোনার আঘাত সংকটকে আরো তীব্রতর করেছে। এ অবস্থায় অর্থনীতির সুরক্ষায় বিপুল আর্থিক প্রণোদনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জশ ফ্রাইডেনবার্গের মতে, এ পদক্ষেপ না নেয়া হলে অর্থনৈতিক বিপর্যয় আরো গভীর হতো। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিটি নাগরিক জানে যে কভিড-১৯ দেশের বিভিন্ন খাতের ওপর কী ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। সত্যি বলতে, তাদের জীবনে এমন পরিস্থিতি আর কখনই আসেনি।

নভেল করোনাভাইরাস বিশ্বজুড়ে শুধু স্বাস্থ্য সংকটই সৃষ্টি করেনি, একই সঙ্গে বিপর্যয়ের মুখে ফেলেছে বাণিজ্যিক কার্যক্রম। ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের অচলাবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এরই মধ্যে দুই যুগের মধ্যে সর্বোচ্চ সংকোচনের মুখে পড়েছে ভারতের অর্থনীতি। অন্যদিকে ফিলিপাইনে নগদ অর্থের অভাবে বিনিয়ম প্রথায় ঝুঁকতে বাধ্য হচ্ছে দেশটির উপার্জনহীন মানুষ। ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে তারা খাদ্যের জন্য বিভিন্ন জিনিসপত্র বিনিময় করছে।

রাজধানী ম্যানিলায় ১৪ হাজার সদস্যের মধ্যে বিনিময় পরিচালনাকারী এক ওয়েবসাইটের পরিচালক চার্লস রামিরেজ বলেন, লোকজনের হাতে টাকা নেই। এখন তারা বাধ্য হয়ে বস্তুগত বিভিন্ন জিনিসের বিনিময়ে খাবার সংগ্রহ করছে। অবশ্যই এ পরিস্থিতি হতাশাজনক। কারণ দীর্ঘদিন ধরে একজন মানুষ যেসব জিনিস জমিয়েছে, এখন তা বেঁচে থাকার জন্য অন্যকে দিয়ে দিতে হচ্ছে।

এদিকে লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ব্রাজিলের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থনেতিক সংকোচন হয়েছে ৯ দশমিক ৭ শতাংশ, যা দেশটিকে মন্দার মুখে ফেলেছে। ব্রাজিলিয়ান ইনস্টিটিউট অব জিওগ্রাফি অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকস জানায়, বর্তমানে দেশটির জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) ২০০৯ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটকালীন পর্যায়ে রয়েছে। মূলত ১৯৯৬ সালের পর ব্রাজিলের অর্থনীতিতে চলতি বছরের এপিল-জুন প্রান্তিকের মতো এত বড় পতন আর হয়নি।

এ অবস্থায় সারা বিশ্বে বড় অর্থনৈতিক দেশগুলোর মধ্যে মন্দা এড়াতে পেরেছে কেবল চীন। গত বছর নভেম্বরের দিকে চীন থেকে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে দেশটি প্রথম লকডাউনে যায়। আর এখন চীনে কভিড-১৯ সংক্রমণ প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে দ্বিতীয় প্রান্তিকে আগের প্রান্তিকের তুলনায় চীনের জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রথম প্রান্তিকে চীনের অর্থনীতির পতন হয়েছিল ১০ শতাংশ।

অন্যদিকে অর্থনৈতিকভাবে অনেকাংশেই পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল দক্ষিণ স্পেন। পর্যটন সেবা প্রদানকারী এক সংস্থার পরিচালক গেমা পেরেজ বারিয়া বলেন, মহামারী পুরো ব্যবসা পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে। বর্তমানে এখানে পর্যটকের সংখ্যা অনেক কম। যারা বেড়াতে আসছেন, তাদের সবাই স্পেনের বাসিন্দা। অথচ মহামারীর আগে এখানকার আঙুরক্ষেত দেখতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকদের সমাগম হতো। এখন ঠিক কবে এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তা বলা যাচ্ছে না।

মূলত স্পেনের মতো পুরো ইউরোপের অর্থনীতিও এখন সংকটাপন্ন। জুন পর্যন্ত তিন মাসে অঞ্চলটির জিডিপির পতন হয়েছে ১২ দশমিক ১ শতাংশ। কিন্তু এখানে ভাইরাসের সংক্রমণ যেন কমছেই না। এ পরিস্থিতিতে নতুন করে লকডাউনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর ফের লকডাউন জারি করা হলে অর্থনীতির ক্ষত আরো বড় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এএফপি।

(এসআর/৩ সেপ্টেম্বর ২০২০)