Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Wednesday, 29 Jul 2026 03:50
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: গত ৪ আগস্টে বৈরুত বন্দরের বিপর্যয়কর বিস্ফোরণের পর তার অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন লেবানি নাগরিকরা। ওই বিস্ফোরণের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে হিমশিম খাচ্ছে লেবানি পরিবারগুলো। দেশের অর্থনৈতিক মন্দার কারণে অনেকেই যখন জীবিকা উপার্জন করতে হিমশিম খাচ্ছিল, তার মধ্যে এখন তাদেরকে নিজেদের ঘরবাড়ি বসবাস উপযোগী করে তোলার জন্য অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সহায়তা একেবারেই দেখা যাচ্ছে না এবং প্রতিশ্রুত আন্তর্জাতিক সহায়তাও ঢিমেতালে আসছে।

শীতকাল ও বর্ষা মৌসুমে সপ্তাহখানেক দূরে থাকায় দাতা সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করছে যে বিশাল এই মেরামত ও পুনর্গঠনমূলক কাজের জন্য তাদের কাছে পর্যাপ্ত সময় বা সম্পদ না-ও থাকতে পারে।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, বৈরুতের দুই লাখ বাসাবাড়ির মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদের মধ্যে তিন হাজার বাসাবাড়ির অবস্থা এতই ভয়াবহ যে সেখানে বর্তমানে বসবাস করা অসম্ভব।

ঘরবাড়ি হারানো বিস্ফোরণের অনেক ক্ষতির একটি মাত্র। এত প্রাণহানি ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে যে এক মাস পরও শহরটি থেকে শোকের বাতাস যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনো মানুষ ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে তাদের শোক ও ট্রমার কথা জানাচ্ছে।

বিস্ফোরণের সঙ্গে জাতিসংঘ ও ফ্রান্সের যৌথ আয়োজনে একটি সভায় ৩৪ কোটি ৪৫ লাখ ডলারের একটি জরুরি তহবিলের আবেদন করা হয়। কিন্তু এ পর্যন্ত তহবিলের মাত্র ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ সংগৃহীত হয়েছে।

নরওয়েজিয়ান রিফিউজিস কাউন্সিল ফর লেবাননের উপদেষ্টা এলেনা ডিকোমাইটিস বলেন, প্রতিশ্রুত অর্থের ৮ কোটি ৪৫ লাখ ডলার ঘরবাড়ি মেরামতের জন্য বরাদ্দের কথা ছিল। কিন্তু এ পর্যন্ত মাত্র ১৯ লাখ ডলার বিতরণ করা হয়েছে।

দাতা সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে যে তহবিলের পরিমাণ যথেষ্ট নয়। এলেনা বলেন, শীত ও বৃষ্টিপাত অক্টোবরের প্রথম দিকে শুরু হতে পারে। আমরা নিশ্চিত কয়েক হাজার ঘর সময়মতো মেরামত করা যাবে না।

লেবাননে আগে থেকেই নাজুক পরিস্থিতিতে বসবাস করে আসছে অনেক মানুষ, যাদের মধ্যে রয়েছে ১০ লাখ সিরীয় শরণার্থী। তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বিস্ফোরণে গৃহহীন মানুষগুলো। শীতের মধ্যে তারা সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকবে।

লেবাননের ব্যাপক বিস্তৃত দুর্নীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়, বরং বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও জাতিসংঘের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেবে। আর্থিক সহায়তা আসছে—এমন কথা শুনতে শুনতে বৈরুতের অনেক বাসিন্দাই বিরক্ত। কারণ এখন কোনোমতে বেঁচে থাকতেই তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

ডলারের বিপরীতে দেশীয় মুদ্রার মানে ব্যাপক অবনমন হয়েছে, দ্রব্যমূল্য আকাশচুম্বী, আমদানি থমকে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় দ্রুত সহায়তা না এলে আরো বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সামনে দাঁড়াবে লেবানন।

(ডিএফই/৭ সেপ্টেম্বর ২০২০)