
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: গ্রিসের সব থেকে বড় অভিবাসী শিবির ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে। গতকাল ভোরের দিকে লেসবস দ্বীপের মোরিয়া আশ্রয় শিবিরটিতে আগুন লাগে। ঠিক কী কারণে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে, তা না জানা গেলেও কেউ কেউ অভিবাসীদের দিকেই আঙুল তুলছে। অন্যদিকে অনেকেই দোষারোপ করছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনাকে ‘মানবিক বিপর্যয়’ বলে অভিহিত করেছেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো মাস। খবর বিবিসি।
প্রাথমিকভাবে মাত্র দুই হাজারের মতো অভিবাসীর জন্য মোরিয়া আশ্রয় শিবির স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে এখানে আশ্রয় নিয়েছে ৭০টিরও বেশি দেশের প্রায় ১৩ হাজার অভিবাসী। তবে ইনফোমাইগ্রেন্টসের তথ্য অনুযায়ী, এ শিবিরের ৭০ শতাংশ অভিবাসীই আফগানিস্তানের। গতকাল অগ্নিকান্ডের পর অভিবাসীদের অনেকেই শিবির এলাকা থেকে নিকটস্থ শহরে পালানোর চেষ্টা করেন। তাদের আটকাতে শিবির থেকে শহরমুখী সব রাস্তা ঘিরে রেখেছে দেশটির পুলিশ। তাছাড়া পরিস্থিতি বিবেচনায় চারদিনের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে সরকার।
এদিকে কিছু স্থানীয় বাসিন্দা নিকটস্থ একটি গ্রামের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় অভিবাসীদের ওপর হামলা করেছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। বিবৃতিতে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিবাসীদের মধ্যে ‘উত্তেজনা’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে সবাইকে পরিস্থিতি মোকাবেলায় ধৈর্য ধারণের জন্য অনুরোধ করা হয়।
স্থানীয় দমকল বাহিনীর প্রধান জানিয়েছেন, খুব স্বল্প সময়ের ব্যবধানে শিবিরের তিনটি স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে আগুনের সব থেকে বড় অংশ সকালেই নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হয়। তবে বিক্ষোভরত কিছু অভিবাসী অগ্নিনির্বাপণের কাজে বাধা দেয় বলে জানান এ কর্মকর্তা। এদিকে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন, অভিবাসী শিবিরের প্রায় পুরোটাতেই আগুন লাগে। সকালে দেখা যায়, অল্প কিছু তাঁবু আগুনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে, বাকি কিছুই অবশিষ্ট নেই।
লেসবসের ডেপুটি গভর্নর একটি স্থানীয় রেডিওতে বলেছেন, অভিবাসী শিবিরটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এ বিষয়ে গতকাল সকালেই এক জরুরি সভার ডাক দেন গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কাইরিয়াকোস মিতসোতাকিস। এছাড়া সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ঘটনাস্থলে ছুটে গেছেন।
এরই মধ্যে উদ্ভূত সংকট মোকাবেলায় গ্রিসকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্গারিটিস শিনাস গ্রিসের প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, কমিশন এ সংকটকালে গ্রিসকে প্রয়োজনীয় সব পর্যায়ে সরাসরি সহায়তা দেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। অন্যদিকে মোরিয়ার সব মানুষের আশ্রয় ও নিরাপত্তা এখন সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে জানিয়েছেন ইইউর স্বরাষ্ট্রবিষয়ক কমিশনার ইলভা জোহানসন।
এদিকে আশ্রয় শিবিরটিতে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। গ্রিক সংবাদ মাধ্যম এএনএ জানিয়েছে, করোনা সন্দেহে ৩৫ জনের মতো অভিবাসীকে আইসোলেশনে নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তারা তাদের পরিবার নিয়ে আইসোলেশনে যেতে অস্বীকৃতি জানান। আর ঠিক এর পরই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এছাড়া লেসবসের অন্যত্র দাবানল জ্বলছে। ফলে সেখান থেকেও তীব্র বাতাসের কারণে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে।
মূলত জনাকীর্ণ মোরিয়া আশ্রয় শিবিরের অভিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরেই মানবেতর অবস্থায় রয়েছেন। এরই মধ্যে পরিস্থিতি আরো বিপর্যয়কর করে তোলে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। সংক্রমণ শনাক্তের পর লকডাউন করা হয় পুরো শিবির, যা নিয়ে অভিবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
(ডিএফই/এসএএম/১০ সেপ্টেম্বর ২০২০)