
বিনিয়োগবার্তা, নরসিংদী প্রতিনিধি : নরসিংদীর শিবপুরে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামীর হাতে স্ত্রী ও বাড়িওয়ালাসহ ৩ জন খুন হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও দুইজন।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের কুমরাদী গ্রামের এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় পুলিশ ঘাতক স্বামী বাদল মিয়াকে আটক করেছে। সে কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার চর কায়েরী গ্রামের ইছহাক মিস্ত্রি ছেলে। বাদল মিয়া পেশয় একজন কাঠ মিস্ত্রি।
নিহতরা হলেন, নাজমা বেগম (৪৫), তাজুল ইসলাম (৬০)ও মনোয়ারা বেগম (৫০)। আহতরা হলো বাড়ির মালিক তাজুল ইসলামের মেয়ে কুলকুসুম (২২)ও নিহত নাজমার প্রথম পক্ষের ছেলে সোহাগ ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার ভোরে বাদল মিয়া ও তার স্ত্রী নাজমা বেগমের মধ্যে ঝগড়া হচ্ছিল। ঝগড়ার এক পর্যায়ে সে তার স্ত্রীকে ছুরি দিয়ে হত্যা করে। এদিকে ঘরের মধ্যে তাদের চিৎকার চেচামেচি শুনে বাড়ি ওয়ালা ও আশপাশের মানুষ এগিয়ে আসে। এসময় তারা দেখে ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় বাদলের স্ত্রী নাজমা বেগমের নিথরদেহ পড়ে আছে। তারা তাকে শান্ত করতে চাইলে বাদল মিয়া হাতের ছুরি দিয়ে রাড়িওয়ালা তাজুল ইসলাম ও বাড়ীওয়ালার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম ও তাদের মেয়ে কুলসুমকে এলোপাথারী ছুরি দিয়ে পোছাতে থাকে। এদিকে চোখের সামনে মায়ের মৃতদেহ দেখতে পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে নাজমা বেগমের প্রথম পক্ষের সন্তান কিশোর সোহাগ। সে একটি বাঁশ দিয়ে বাদল মিয়ার মাথায় আঘাত করে। আঘাত প্রাপ্ত হয়ে বাদল মিয়া সোহাগকেও ছুরিকাঘাতে আহত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মনোয়ারা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন এবং তাজুল ইসলামের অবস্থা বেগতিক দেখে ঢাকায় নিয়ে যাবার পরামর্শ দিলে পথিমধ্যে তার মৃত্যূ হয়। আহত কুলসুম ও সোহাগ শিবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং বাদল মিয়া নরসিংদী সদর হাসপাতালে পুলিশি পাহাড়ায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনার পর পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমানসহ নরসিংদী পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।
এ ব্যাপারে শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। খুনিকে আটক করা হয়েছে এবং লাশ ময়নাতন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে । তদন্ত সাপেক্ষে খুনের ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যাবে।
(এসএইচআর/এসএএম/১৩ সপ্টেম্বের ২০২০)