
নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা: নরসিংদী জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলে বিভাজন স্পশ্ট হয়ে উঠেছে। সোমবার শিবপুর থানা ও পৌর যুবদলের কর্মী সমাবেশে এ বিভাজন লক্ষ্য করেছে দলের নেতাকর্মীরা। নরসিংদী জেলা যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর থেকে বিডাজনের সুত্রপাত হলেও গতকাল তা প্রকাশ্য রূপ পায়। এ নিয়ে জেলা যুবদলের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
জানা যায়, আগামীদিনে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামকে বেগবান করতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর অঙ্গ-সংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজাতে নির্দেশ দেয় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সে লক্ষ্যে জাতীয়তাবাদী যুবদলের বিভিন্ন থানা, পৌর, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিগুলো পুন: গঠনে দেশের প্রত্যেকটি বিভাগের জন্য যুবদলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির ৭ জন করে সদস্যয়ের সম্বন্নয়ে বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটি করে দেয়া হয়। বিভাগীয় কমিটিগুলোকে জেলা কমিটির সাথে সম্বন্নয় করে বিভিন্ন ইউনিট কমিটি গঠন করতে গাইড লাইন দিয়ে দেয় দলীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। নরসিংদী জেলার বিভিন্ন ইউনিট কমিটিগুলো গঠনে ঢাকা বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত সাংগঠনিক কমিটি দলনেতা জাকির হোসেন নান্নু তার দলের সকল সদস্যদের নিয়ে তিনদিনের সাংগঠনিক সফরে নরসিংদী আসে। সফরের প্রথম দিন গতকাল সোমবার নরসিংদীর শিবপুরের শেরপুরস্থ জেলা বিএনপির সহ সভাপতি মনজুর এলাহীর বাগানবাড়ীতে অনুষ্ঠিত শিবপুর থানা ও পৌর কমিটির কর্মীসমাবেশে যোগ দেয় বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটির সদস্যরা। কমিটি সদস্যরা হলেন, সহ সভাপতি (দলনেতা) জাকির হোসেন নান্নু, বিভাগীয় সহ সভাপতি মজিবুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু, সহ সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম চৌধুরী, বিভাগীয় সহ সাধারণ সম্পাদক মোসারফ হোসেন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর তাহের বাবু ও বিভাগী সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মহসীন হোসেন বিদ্যুৎ। কর্মী সমাবেশে দেখা গেছে জেলা পযায়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা বেশ কয়েকজন নেতা অনুপস্থিত। তাদের অনুপস্থিতির বিষয়টি দলের বিভাজন বলে মনে করছেন অনেকেই। আবার অনেকেই মনে করছেন বিভিন্ন ইউনিটের পকেট কমিটিগুলোকে টাকার বিনিময়ে অনুমোদনের জন্য জেলার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা বেশ কয়েকজন নেতার কাছে অনুষ্ঠানের বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছে।
জেলা যুবদলের অনেক নেতাকর্মী বলেন জেলায় অনুষ্ঠিত কোন সাংগঠনিক অনুষ্ঠানে অন্য কোন নেতাকর্মীর উপস্থিতির বিষয়টি মূখ্য না হলেও জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক তাতে উপস্থিত না থাকাটা অনেকটাই হাস্যকর।
নরসিংদী জেলা যুবদলের (সুপার-৫ এর সদস্য) ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার হোসেন বলেন বিভাগীয় সাংগঠনিক টিম জেলা সফরে আসবেন তা আমরা অবগত নই।
জেলা যুবদলের (সুপার-৫ এর অপর একজন সদস্য) সাংগঠনিক সম্পাদক মো: মোকাররম ভূইয়া, বলেন কর্মী সমাবেশের বিষয়টি অবগত হলেও সঠিকভাবে দাওয়াত পাইনি বলে সেখানে যাওয়া সমিচিন মনে করিনি।
জেলা যুবদলের (সুপার-৫ এর অপর আরেকজন সদস্য) সিনিয়র সহ সভাপতি শাহেন শাহ সানু বলেন, কর্মী সমাবেশের আয়োজনের দায়িত্বে থাকা জেলা যুবদলের সভাপতি আমাদেরকে না জানিয়েই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। কখনও কোন অন্যায় ও অনিয়মের সাথে আপোষ করিনি তাই হয়তো আমাদেরকে পাশ কাটিয়ে কর্মীসমাবেশ করেছে তারা।
জেলা যুবদলের নেতাদের অনুপস্থিতির ব্যাপারে শিবপুর থানা যুবদলের সভাপতি অধ্যাপক একেএম মোজাম্মেল হকের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, অনুষ্ঠানের আয়োজনে আমরা ছিলাম। তবে তাদের অনুপস্থিতির বিষয়টি আমার মনেও প্রশ্নের উদয় হয়েছে। আগামী মিটিং আমি বিষয়টি উত্থাপন করবো।
নরসিংদী জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জাম হাসান বলেন, সুপার-৫ বলে এখন আর কিছু নেই। এখন পূর্ণাঙ্গ কমিটি । আর তাদেরকে দাওয়াত দেয়া হয়েছে। তাদেরকে যে দাওয়া দেয়া হয়েছে তার ফোন রেকর্ডও আছে।
জেলা যুবদলের সভাপতি মহসীন হোসেন বিদ্যুতের ০১৯২৩৬৪৩৯৬৭ এই নাম্বার ফোন দিতে তিনি তা রিসিভ না করায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
নরসিংদী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জাল হোসেন মাস্টার বলেন, অনুষ্ঠানে কে উপস্থিত আর কে অনুপস্থিত তা আমি অবগত নই। তবে আমি এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করব।
বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটির দলনেতা জাকির হোসেন বলেন, আমরা কমিটি গঠনের বিষয় আলাপ করতে নয় আজ আমরা কর্মীসমাবেশ করেছি। দলের বিভাজনের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, নরসিংদী জেলা যুবদলে বিভাজন আছে তা আমি অবগত। তবে তা দূর করতে কাজ করছি।
(এসএইচআর/এসএএম/২২ সেপ্টেম্বর ২০২০)