
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক: চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে জার্মানিতে নতুন গাড়ি বিক্রি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। নভেল করোনাভাইরাসের ধাক্কা সামলে অর্থনৈতিক কার্যক্রম প্রত্যাবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে মাসটিতে বছরওয়ারি নতুন গাড়ি বিক্রি বেড়েছে ৮ শতাংশেরও বেশি। স্থানীয় সময় সোমবার কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানালেও নতুন করে সংক্রমণ বৃদ্ধি দুশ্চিন্তায় ফেলেছে সংশ্লিষ্টদের। খবর এএফপি।
কেবিএ ফেডারেল ট্রান্সপোর্ট অথরিটি জানিয়েছে, গত মাসে জার্মানির রাস্তায় নতুন গাড়ি নেমেছে ২ লাখ ৬৫ হাজার, যা ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরের চেয়ে ৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। মূলত মহামারী শুরু হওয়ার পর মাসটিতে এই প্রথম নতুন গাড়ির রেজিস্ট্রেশন বেড়েছে। মার্চের দিকে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ফের মে মাসে জার্মান অর্থনীতির কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু তার পরও আগস্টে দেশটিতে বছরওয়ারি নতুন গাড়ি বিক্রি কম হয়েছে ২০ শতাংশ। তাছাড়া ২০২০ সালের প্রথম নয় মাসে বছরওয়ারি জার্মান গাড়ি বিক্রির পরিমাণ এখনো প্রায় ২৫ শতাংশ কম।
ইওয়াই বিশ্লেষক পিটার ফাজ বলেন, ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। পুনরায় ইতিবাচকভাবে গাড়ি বিক্রি বাড়ছে। কিন্তু তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, গাড়ি বিক্রিতে শেষ কয়েক মাসের ‘সামান্য উন্নতি’ পুরো বছরের ক্ষতি পূরণ করতে পারবে না। কারণ ২০২০ সালের প্রথম কয়েক মাসে বৈশ্বিক মহামারী নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধে সরকার লকডাউনসহ বিভিন্ন বিধিনিষেধ জারি করে। ফলে ক্রেতারা কার্যত তাদের বাড়িতে অবস্থান করতে বাধ্য হন। ফলে ওই সময় গাড়ি বিক্রিতে অভূতপূর্ব পতন হয়। এ অবস্থায় ফাজ মনে করছেন, বছর শেষে জার্মান নতুন গাড়ির বাজার পুরোপুরি বিপদমুক্ত হতে পারবে না।
করোনা পরিস্থিতিতে অর্থনীতি রক্ষায় অভূতপূর্ব প্রণোদনা ঘোষণার পাশাপাশি বিভিন্ন সহায়ক কার্যক্রম হাতে নেয়। এসব কার্যক্রমের মধ্যে অন্যতম হলো বিক্রি শুল্ক সাময়িকভাবে কর্তন করা। সরকারের এ উদ্যোগের ফলে গাড়ির মতো দামি পণ্যের বিক্রি বেড়েছে। তাছাড়া পরিবেশবান্ধব গাড়িতে বিশেষ ভর্তুকি দেয়ার কারণে বৃদ্ধি পেয়েছে ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ির বিক্রি। তবে দেশটির গাড়িবাজারের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে দেশটিতে মহামারী-পরবর্তী বিবর্তনের ওপর। জার্মানি তার ইউরোপীয় প্রতিবেশী অনেক দেশের থেকে কভিড-১৯ সংক্রমণ মোকাবেলায় ভালো করলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় ফের সংক্রমণের হার বাড়ছে।
ফাজ বলেন, আশা করছি ফের নতুন করে দেশব্যাপী লকডাউন জারি করতে হবে না। কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে জনজীবনের ওপর বিধিনিষেধ অবশ্যই অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যার প্রভাব পড়বে নতুন গাড়িবাজারের ওপরও।
(এসআর /৭ অক্টোবর ২০২০)