
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: এবারের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের করপোরেট নেতাদের সিংহভাগের সমর্থন ছিল ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের প্রতি। গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীদের (সিইও) নিয়ে একটি জরিপ পরিচালনা করে ইয়েল স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট। এতে দেখা যায়, ৭৭ শতাংশ উত্তরদাতাই জানান, তারা নির্বাচনে বাইডেনকে ভোট দেবেন। আর ৬০ শতাংশের বেশি সিইও সে সময় আশা প্রকাশ করেছিলেন ৪৬তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে হোয়াইট হাউজে যাবেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তাদের সেই সমর্থন কাজে লেগেছে। আশাও পূরণ হয়েছে। রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পেছনে ফেলে তার উত্তরসূরি হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ইলেক্টোরাল ভোট ঝুলিতে পুরেছেন জো বাইডেন। তার এই জয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জো বাইডেনকে অভিনন্দন জানিয়ে শনিবার টুইটারে পোস্ট ও বিবৃতি দিয়েছেন ব্যবসায়িক নেতারা। দেখা যাক নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও নতুন প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কী বলছেন তারা—
জেমি ডিমন
সিইও, জেপি মরগান চেজ অ্যান্ড কোম্পানি
‘এখন সময় ঐকবদ্ধ হওয়ার। আমাদের নির্বাচনের ফলাফলের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত, যেমনটি আগে আমরা ছিলাম। আমাদের ভোটারদের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাতে হবে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনকে স্বাগত জানাতে হবে। যখন আমরা পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকব, তখনই আমরা শক্তিশালী হব। সম্মিলিতভাবে আমাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। রাজনৈতিক মতাদর্শ যা-ই হোক না কেন, আসুন আমরা এক হয়ে আমাদের এই অনন্য দেশকে আরো শক্তিশালী করে গড়ে তুলি।’
শেরিল স্যান্ডবার্গ
সিওও, ফেসবুক
‘আমাদের দেশটি বৈচিত্র্যপূর্ণ। এর সঙ্গে সংগতি রেখে একটি সরকার নির্বাচনে মার্কিনরা বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। কমলা হ্যারিসকে তার অসাধারণ অর্জনের জন্য অভিনন্দন। নেতৃত্ব নিয়ে একটি অদৃশ্য বাধা ও তথাকথিত রীতি ভেঙে দিয়েছেন তিনি। ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জনের জন্য নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকেও অভিনন্দন।
রব নিকোলস
প্রেসিডেন্ট ও সিইও, আমেরিকান ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন
‘আমাদের সংগঠন ও সদস্যরা বাইডেন প্রশাসন ও উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে মিলে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, আরো বেশি সুযোগ তৈরি ও সব মার্কিনের জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তৈরিতে কাজ করে যাবে। আমরা জানি, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া গতিশীল করতে আমাদের আরো বেশি কাজ করে যেতে হবে।’
থমাস জে ডনোহিউ
সিইও, ইউএস চেম্বার অব কমার্স
‘জনস্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার, অর্থনীতির পুনর্জাগরণ ও মার্কিন জীবনযাত্রা পুনর্গঠনে বাইডেন প্রশাসন ও উভয় দলের নেতাদের সঙ্গে একযোগে কাজ করে যাবে চেম্বার। আমরা বিদ্যমান অচলাবস্থা নিরসনে কাজ করে যেতে সর্বদা প্রস্তুত। আমরা সবসময়ই সম্মিলিতভাবে ও সুশাসনের ভিত্তিতে সবকিছু করার পক্ষে।’
জে টিমোনস
প্রেসিডেন্ট ও সিইও, ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ম্যানুফ্যাকচারার্স
‘মার্কিন নাগরিকরা কোনো দলের কাছ থেকেই গোঁড়ামি আশা করে না। তারা চায় স্মার্ট, স্থিতিশীল ও সমাধানকেন্দ্রিক সুশাসন। আমাদের চাওয়া হলো প্রতিযোগিতামূলক কর ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ, অভিবাসন নীতির গঠনমূলক সংস্কার, সম্প্রসারিত বাণিজ্য ও শক্তিশালী জনবল।’
-সিএনএন
(ডিএফই/০৯ নভেম্বর ২০২০)