Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Thursday, 18 Jun 2026 02:26
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, শার্শা: দেশের সবচেয়ে বড় স্থল বন্দর বেনাপোল এলাকা মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রনে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা জিরো টলারেন্স ঘোষনা করলেও, অসাধু কিছু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের সহযোগিতায় দেদারছে চলছে মাদকের কারবার। মাদকের গডফাদাররা রয়ে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। আর এ কারনেই প্রতিদিন বিপুল পরিমানের মাদক পাচার হয়ে আসলেও ধরা পড়ছে সীমিত।

জানা গেছে, শার্শা-বেনাপোলের সীমান্তবর্তী পুটখালী, দৌলতপুর, গাতিপাড়া, বড়আচড়া, সাদিপুর, বাহাদুরপুর, দাউদখালী, রুদ্রুপুর, গোগা হরিসচন্দ্রপুর, ভুলাট, ধান্যখোলা, শালকোনা, শিকারপুর সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন ছোট ছোট মাদকের চালান নিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও মাদক বহনকারী প্রাশসনের হাতে আটক হলেও ধরা পড়ছে না মাদকের মুল ডিলার ও ঘাট মালিকেরা। শার্শা ও বেনাপোল সীমান্ত এলাকার মাদক পাচারের সাথে জড়িত থাকার অপরাধে অনেক শিশু, নারী ও বহনকারীদের আটক করলেও মুল হোতারা ধরা পড়ে না। মাদকের সাথে ধরা ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকারও কেউ ছাড়াতে আসে না।

সূত্রে আরও জানাগেছে, শার্শা-বেনাপোলের সীমান্তবর্তী পুটখালী, দৌলতপুর, গাতিপাড়া, বড়আচড়া, সাদিপুর, বাহাদুরপুর, দাউদখালী, রুদ্রুপুর, গোগা হরিসচন্দ্রপুর, ভুলাট, ধান্যখোলা, শালকোনা, শিকারপুর সীমান্ত দিয়ে আসা মাদক দ্রব্য বহনকারীরা শার্শার বাগআঁচড়া, জামতলা, টেংরা, সামটা, বাগাডাঙ্গা, কন্যাদাহ, রামপুর, গয়ড়া, বুরুজবাগান, সাতমাইল আমতলা, বালুন্ডা, মহিষাকুড়া, ইছাপুর এলাকায় গড়ে উঠা মাদক সিন্টিকেটের হাতে তুলে দেয়। তারপর ঐ মাদক দেশের বিভিন্ন জেলায় পৌছে যায়।

বাগ আঁচড়া পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,  গত মাসে বাগআঁচড়া এলাকায় মাদকসহ ধরা পড়েছে ২৪/২৫জন মাদক বহনকারী। জিজ্ঞাসাবাদে মাদক বহনকারীরা জানান মাদকের আসল মালিককে তারা জানেন না। সীমান্ত থেকে মাদক সিন্টিকেট তাদের হাতে মাদক বিভিন্ন গন্তব্যে পৌছে দেওয়ার জন্য তাদের হাতে ধরিয়ে দেয়। লাইন ম্যানের মাধ্যমে বহনকারীরা তাদের দায়িত্ব পালন করে। পুলিশের হাতে মাদকসহ আটক হওয়া ভুলোটের রানা জানান, প্রতি বোতল দূরত্ব বুঝে ১৫ থেকে ৫০ টাকা করে বহন খরচ পায় তারা।

বাগআঁচড়ার একজন খুচরা মাদক বিক্রেতা জানান, বর্তমানে তারা সীমান্ত এলাকা থেকে প্রতি বোতল ২১০/২৩০ টাকা করে কিনলেও তা বিক্রি করে সাড়ে ৫শ থেকে ৬শ টাকা করে।

জানা গেছে, করোনার কারনে শার্শা ও বেনাপোল এলাকায় মাদকের ব্যবসা দ্বীগুন হারে বৃদ্ধি পেয়েছ্। সেই সাথে বেড়েছে সেবনকারীও। শার্শা ও বেনাপোল এলাকার পৌরগেটসহ প্রায় অর্ধশত পয়েন্টে খুচরা মাদক বিক্রি হয় বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, শার্শা ও বেনাপেলের মহিষাকুড়া গ্রামের, শাহাবাজ আলী, মোস্ত্জুল মোড়ল মুন্না, বাবুল মিয়া, দক্ষিন বুরুজবাগান গ্রামের আয়নাল, জয়নাল, রজনী আক্তার, রুবেল, শহিদুল ইসলাম, খলিলুর রহমান, বারোপোতা গ্রামের আলা উদ্দিন, কন্যাদহের শফিয়ার রহমান সফি, হাসানুর বদ্দি, জদ্দিন, টেংরা গ্রামের কামাল হোসেন, সামটা গ্রামের খোকন, রবিউল ইসলাম, পশ্চিম কোটার আনোয়ার হোসেন, জাহান আলী সরদার, শরিফুল ইসলাম ড্রাইভার, লুৎফর রহমান, বাগআঁচড়া কলেজ রোডের, নজরুল ইসলাম, রানা, সম্রাট, গাজীর কায়বার রফিকুল ইসলাম, পুটখালীর আরিফুল ইসলাম, আরিফ হোসেন, জামাল উদ্দিন ও তরিকুল ইসলাম, কামাল হোসেন, আব্দুর রশিদ, দৌলতপুর গ্রামের আলাউদ্দিন আলাল, পলাশ হোসেন, মাহাবুর রহমান, মুনছুর আলী, ফরমান আলী, ইসলাম আলী, গাতিপাড়ার, অনিক হোসেন, রেজাউল ইসলাম, মহিউদ্দিন, লাল্টু মিয়া, পারভেজ, জহির হোসেন, বালুন্ডা গ্রামের কামাল হোসেন, এয়াকুব আলী, দাউদখালীর ডাবলু হোসেন, রুদ্রুপুর গ্রামের মিজানুর রহমান মিজান, পাড়ের কায়বার আমজাদ হোসেন, কালীয়ানি গ্রামের আব্দুল হামিদসহ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ীরা দেদারছে তাদের মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা প্রত্যেকে পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী হলেও রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এ ব্যাপারে শার্শা ও বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি বদরুল আলম খান ও মামুন খান বলেন, মাদকের ব্যাপারে কোন ছাড় নেই। মাদক ব্যাসায়ী যেই হোক তাকে ধরিয়ে দিয়ে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা বলেন প্রতিদিন তাদেও থানায় মাদকের বিরুদ্ধে কোন না কোন অভিযান আছে। তারা বলেন, মাদককে জিরো টলারেন্স আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিষয়টিতে প্রশাসনের দৃষ্টি প্রয়োজন।

(এমআই/এসএএম/১৫ নভেম্বর ২০২০)