
ড: মিহির কুমার রায়: বর্তমান সময়ে কৃষি পণ্যের মূল্য ও বাজার ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় তথা টেলিভিশনের টক শোতে ব্যাপক আলোচনা চলছে যা সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করার মত। বাজারে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, মরিচ, আদা, রসুন, ডিম,শাক-সবজিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় কৃষি পণ্যের দাম ক্রমাগত ভাবে বেড়ে চলছে যার শেষ কবে হবে কেউই বলতে পারছে না। এর সঙ্গে সম্প্র্রতি যোগ হয়েছে আলু যা ছিল একে বারেই অনাকাঙ্কিত।
বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মোটা স্বর্ণা জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৫০ টাকায়, প্রতি কেজি মসুর ডালের বিক্রি মূল্য বর্তমানে ৮০ টাকা, খোলা আটা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায় যার বিক্রয় মূল্য কিছুদিন আগেও ছিল ২৫ থেকে ২৬ টাকা, আলুর দাম প্রতি কেজি ২২ – ২৫ টাকা থেকে হঠাৎ করে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় উন্নিত হওয়ায় সবাই বিস্বিত যা এর আগে এই ধরনের আযোক্তিক আচরন আলুর ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। তারপর আসে ডিম প্রতি ডজন বর্তমানে ১২০ টাকা, শাক-শজ্বী প্রতি কেজি ৫০ টাকার নিচে তো নয়ই গত পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০-২৫০ টাকা কেজিতে যার প্রধান কারন হিসাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে জুলাই- সেপ্টেম্বরের দুই দফায় বন্যা। সীমিত আয়ের সাধারণ মানুষের এখন এক আতঙ্কের নাম মূল্য বৃদ্ধি যা অনেকের কাছে করোনার চেয়েও ভয়ঙ্কর বলে প্রতিয়মান হয়। এই মূল্য বৃদ্ধির কারন অনেকটা প্রাকৃতিকগত আবার কেউ কেউ বলছেন মানুষ্য সৃষ্ট যার পেছনে আছে নীতি-আদর্শহীন কিছু কিছু ব্যাক্তি বিশেষের কারসাজি, যাদের কাছে সরকারের নীতিনির্ধারক, গণমাধ্যম ও অর্থনীতিবিদগন মনে হয় দায় বদ্ধ হয়ে আছে। বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দাবি করেছে বর্তমানে সব নিত্য পণ্যেরই মজুত ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। যদি তাই হয় তাহলে দাম উত্তর উত্তর বেড়েই চলছে কেন বিশেষত: চাল, পেয়াজ ও আলু যে গুলো কম পচনশীল দ্ব্য যা নির্র্দ্দৃষ্ঠ সময় পর্যন্ত গোদাম জাত করে রাখা যায়।
প্রথমত : আসা যাক চালের ব্যাপারে যেখানে দেখা যায় দেশে করোনা পরিস্থিতি শুরুর প্রথম থেকেই মিলাররা কারসাজি করে সব ধরনের চালের দাম বাড়াতে থাকলেও সরকারের হস্তক্ষেপে সিদ্ধান্ত হয় সবচেয়ে উচ্চ মানের ৫০ কেজির এক বস্তা মিনিকেট চালের মূল্য (মিলগেট) ২ হাজার ৫৭৫ টাকা এবং মাঝারি ধরনের বিআর-২৮ চালের দাম ২ হাজার ২৫০ টাকা নির্ধারণ করলেও মিলাররা সেটা মানছে না, মিলগেটে প্রতি বস্তা মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৭৫০ টাকা যা এক মাসের ব্যবধানে সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা ব্যবধানে বিক্রি হচ্ছে আর সরকারের বেঁধে দেয়া দামের চেয়ে বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ টাকা বেশি দরে। এছাড়া মিল পর্যায়ে প্রতি বস্তা বিআর-২৮ জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩৫০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা যা এক মাসের ব্যবধানে মিল পর্যায়ে প্রতি বস্তা চাল ২৫০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে যা সরকারের বেঁধে দেয়া দামের চেয়ে ১৫০ টাকা বেশি ।
দ্বিতীয়ত: আসা যাক পেয়াজের মূল্যে যেখানে দেখা যায় গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে পেঁয়াজের বাজার অস্থির বিরাজ করায় এ বছরও একই কায়দায় হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় ভোক্তারা বিপাকে। যার বাজার মূল্য বর্তমানে দেশী পেয়াজ প্রতি কেজি ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে যদিও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পেঁয়াজ আমদানি করেও বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি সিন্ডিকেটের কারনে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা যায় দেশে পেঁয়াজের চাহিদা ৩০ লাখ টন আর উৎপাদন হয় ২২-২৪ লাখ টন যার বাদবাকি আমদানি করতে হয়। গত বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এ বছর সংকট সৃষ্টির আগেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পেঁয়াজ আমদানি করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে তা না হওয়ায় সংকটে সাধারণ ভোক্তা ক্ষতিগ্রস্থ হলো আর ব্যবসায়ী সম্প্রদায় লাভবান হলো। পেঁয়াজের বাজার অস্থিরতার পেছনে বৈধ আমদানির ছাড়পত্র, এলসি খোলার কাগজপত্র ছাড়া আমদানিকারকের কমিশন এজেন্ট, আড়তদার পরিচয়ে পেঁয়াজসহ কিছু ভোগ্যপণ্য ব্যবসায়ীর জনগণকে জিম্মি করার বিষয়টিকে দায়ী করছেন অনেকে। দেশের চাহিদার সিংহভাগ দেশীয় উৎপাদন দিয়ে মেটানো সম্ভব হলেও ব্যবসায়ীরা আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।
তৃতীয়ত: আসা যাক আলুর বাজার নিয়ে যেখানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলু সর্বোচ্চ ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে যা অকল্পনীয়। এই অবস্থায় দাম নিয়ন্ত্রণে প্রথম দফায় গত ৭ই সেপ্টেম্বর হিমাগার, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে আলুর দাম বেঁধে দেয় সরকার যা কার্যকর সম্ভব হয়নি। পরে হিমাগার মালিক ও ব্যসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী কেজিতে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০ অক্টোবর দাম পুর্ননির্ধারণ করে দেয় কৃষি বিপণন অধিদফতর এবং সেক্ষেত্রে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু ৩৫ টাকা, কোল্ডস্টোরেজ বা হিমাগার পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু ২৭ টাকা এবং পাইকারিতে ৩০ টাকা কেজি বেঁধে দেয়া হয়।কিন্তু এখন খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকা, পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ৩৫-৪০ টাকা আর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হিমাগার পর্যায়ে আলু বিক্রি হচ্ছে ৩৩-৩৬ টাকায়।
অনেকেই নিত্য ভোগ্যপণ্যের বাজার অস্থির হওয়ার পেছনে শক্তিশালী ভোক্তা সংগঠনের তৎপরতাকে দায়ী করছেন। ইতঃপূর্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন ওই খাতের ব্যবসায়ী, ভোক্তা ও প্রশাসনের লোকজন নিয়ে করণীয় বিষয়ে পরামর্শ সভা করে বিকল্প উৎস থেকে আমদানি করা, বাজার তদারকি জোরদার করে মজুদদারি ঠেকানো, আমদানিকারকের এজেন্ট পরিচয়ে অবৈধ পেপারলেস ব্যবসা বন্ধ, পেঁয়াজসহ নিত্যভোগ্য পণ্যের ব্যবসায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, বিকল্প বাজার হিসেবে খাদ্য বিভাগের আওতায় বাজারে ওএমএস চালু, টিসিবির মাধ্যমে খোলাবাজারে পণ্য বিক্রির উদ্যোগ ইত্যাদির মাধ্যমে অস্থিরতা ঠেকানোর নজির রয়েছে। সংকটের সময় কখনই সরকার নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রি হয় না যার মূল কারণ চাহিদা ও সরবরাহের সমস্যা। সে যাই হোক না কেন সরকারের কাছে জনগন দুটি জিনিস প্রত্যাশা করে যার একটি হলো আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রন এবং অপরটি হলো দ্রব্য মূল্যের উদ্ধগতি রোধ।
উপরের আলোচনা কৃষি পণ্য মূল্যের উর্দ্ধেগতিকে এক আঙ্গিকে বিশ্লেষন করা হয়েছে যা সরকারি তথ্য উপাত্তের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত এখন আসা যাক বাস্তবতার নিরিখে সার্বিক মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টির একটি নিরপেক্ষ বিশ্লেষন যা সময়ের দাবি বলে বিবেচিত। অর্থনীতির তত্ব বলছে চাহিদার সঙ্গে পণ্য মূল্যের যে সম্পর্ক তা বিপরিতমুখী অর্থাৎ দ্রব্য মূল্য বাড়লে চাহিদা কমবে এবং দ্রব্য মূল্য কমলে চাহিদা বাড়বে যা আবার মৌলিক নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সেই বিষয়টি বাজারে সংঘটিত হয়ে থাকে। যেখানে থাকে ক্রেতা ,বিক্রেতা ,পণ্য ও মূল্য এবং সংকট সমাধানে প্রথমে বাজারকে বুঝতে হবে যার প্রধান উপায় হলো পণ্যে ও চাহিদার সরবরাহের পরিমাণ নির্ণয় যার ভিত্তিতে পণ্যের মূল্য নির্ধারিত হবে যা অর্থনীতির সাধারন পাঠ। বাজারে তিন ধরনের স্টেক হোল্ডার পাওয়া যায় যেমন উৎপাদক,ব্যবসায়ী ও ভোক্তা এবং বাজার অর্থনীতির নিয়ম অনুসারে সরকার তাদের কার্যাবলিতে নিয়ন্ত্রনের চেয়ে সহযোগিতা করে থাকে।এমতাবস্থায় উৎপাদক,ব্যবসায়ী ও ভোক্তা একটি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে তাদের নিজ নিজ কার্য সম্পাদন করবে যেখানে সবকিছুই সন্তুষ্টির পথে চলাচল করবে যা বাজার অর্থনীতির মূলমন্ত্র এবং বর্তমান সরকার এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রতিযোগিতা কমিশন গঠন করেছে যার মূল কাজ হলো বাজারে কোন প্রকার অসংগতি দেখা দিলে এই কমিশনের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহন করা। বর্তমান সময়ে একটি প্রচলিত উক্তি যেমন সিন্ডিকেট বাজার ব্যবস্থায় শুনা যায় যা বিশেষত: চাল,পেঁয়াজ ও আলুর বাজার নিয়ন্ত্রনের ক্ষেত্রে বেশী প্রযোজ্য এটি হলো একটি সংগবদ্ধ গোষ্ঠি যারা সময় সময় মনোপলি আচরন করে থাকে বিশেষ পণ্যের ব্যাপারে যেমন পেয়াজের ক্ষেত্রে হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে ভারত বাংলাদেশে পেয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার সাথে সাথেই এক দিনের ব্যবধা প্রতি কেজি ৪০ টাকা থেকে ৯০ টাকায় উন্নীত হয় যদিও আভ্যন্তরীন বাজারে সরবরাহের কোন প্রকার ঘাটতি ছিল না এবং বানিজ্য মন্ত্রী বলেছেন সকল খরচ বিবেচনায় এনেও প্রতি কেজি পেয়াজ ৪৫ টাকার নিচে বিক্রি করা সম্ভব হয়ে উঠবে না। সরকারিতত্ব মতে গৃহস্থালি পর্যায়ে পেঁয়াজের চাহিদা১৮ লাখ ৩২ হাজার টন (২০১৯-২০২০), হোটেল রেস্তোরায় আরও ৫-৭ লাখ টন যোগ হলে দেশে পেঁয়াজের চাহিদা ২৫-২৬ লাখ টনের বেশি নয় এবং দেশে আমদানি হয়েছে ৫ লাখ ৫০ হাজার টন কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষন করা হয় এবং কয়েক মাস পর দাম বাড়লে তা বিক্রি করা হয় নগদ লাভের আশায়। তাই সব উৎপাদন এবং চাহিদার সঠিকতত্ব স্টেক হোল্ডারদের হাতে থাকতে হবে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহনের জন্য।বাজার সংক্রান্ত উপাত্ব সরবরাহ করার দায়িত্ব সরকারের এবং বাজারকে তার নিজ পথে কাজ করতে দিতে হবে নচেৎ বিপর্যয় অনিবার্য যা আমরা প্রতিনিয়তই দেখতে পাচ্ছি বাজার ব্যবস্থাপনায় কৃষি পণ্যের মজুরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূণ্য বাজার কার্যক্রমে যাদের কারনে অমৌসুমে ক্রেতারা কৃষি পণ্য পেয়ে থাকে এবং ব্যবসায়ীরা কতদিন মজুদ রাখবে তা বাজারের মূল্য স্থরই নির্ধারন করে দেবে যার জন্য কোন আাইনের প্রয়োগের প্রয়োজন নেই, তবে পণ্য সংরক্ষনের জন্য উপকরন যেমন সহজ শর্তে ঋন, প্রশিক্ষন বিশেষত সংরক্ষন পদ্বতির উপর ইত্যাদিও ব্যবস্থা করা যেতে পারে। আমাদের প্রধান খাদ্য চাউল ব্যতীত প্রায় সব কৃষি পণ্যের কমবেশি ঘাটতি রয়েছে এবং কৃষক কোন ফসল কোন জমিতে কতটুকু করবে তা সে অনেকের চেয়ে বেশি বুঝে বললে ভুল হবেনা যা চাপিয়ে দেয়ার কোন বিষয় নয় যা নির্ভর করবে জমির উৎপাদিকা শক্তি, প্রযুক্তি ও কৃষকের লাভ লোকসানের হিসাবের উপর এই ধরনের একটি পরিস্থিতিতে আমাদো করনীয় হবে: ১. ক্রমাগত ভাবে বাজার বিশ্লেষন ও বাজার তাদারকি করা যাদের দায়িত্বে থাকবে যথাক্রমে সরকারের কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ও ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষ বাজার বিশ্লেষনে বেড়িয়ে আসবে আমাদের উৎপাদন, চাহিদা,সরবরাহ ও বাজার মূল্য ধরা যাক বর্তমানে সবচাইতে আলোচিত হচ্ছে পেঁয়াজের বাজার নিয়ে এবং এফএও বলছে বাংলাদেশে হেক্টর প্রতি ফলন যেখানে ৯.৭৮ টন সেখানে ভারতের ফলন ১৬.১৬ টন কিন্তু বারি কর্তৃক উদ্ভাবিত শীতকালীন পেঁয়াজ জাতের ফলন হিক্টর প্রতি ১৭-২২টন এবং গ্রীন্মকালীন বারি-২ জাতের ফলন হেক্টর প্রতি ১৮-২২ টন বর্তমানে যে ২ লাখ ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ হচ্ছে সেখানে গড়ে হেক্টর প্রতি ফলন যদি ১৫ টন করা যায় তবে দেশে বার্ষিক উৎপাদনের পরিমান দাড়াবে ৩৫ লাখ টনেরও বেশী হলেও আধুনিক সংরক্ষনের ব্যবস্থা না থাকায় ৩০% পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে থাকে। এ ধরনের ক্ষতির পরিমাণ যদি ১০% কমিয়ে আনা যায় তবে দেশের মোট ভক্ষন যোগ্য পেঁযাজের পরিমান দাড়াবে ৩১.৫০ লাখ টন যার ফলে ঘাটতি জনিত র্দুভোগ থেকে আমরা মুক্তি পেতে পারি। তারপরও পেয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হলে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে পেঁয়াজ সংরক্ষনের ব্যবস্থা করা, পেঁয়াজের মূল্য কৃষকবান্ধব হওয়া, রবি মৌসুমের পালাপাশি খারাপ মৌসুমেও পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের উবু্দ্ধ করা ইত্যাদি। ২.আলুতে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ ও নেপালে রপ্তানির রেকর্ড রয়েছে তারপরও মূল্য বাড়ার কারন সরবরাহের ঘাটতি নয়, সেটা ব্যবসায়িদের তথা কোল্ডষ্টোরেজ মালিকদের কারসাজি মাত্র যা বাজার মনিটরিং মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব হবে।৩. সবজী উৎপাদনে দেশ কেবল স্বয়ংসম্পূণৃই নয়, বিশ্বেও তৃতীয় স্থানে থাকলেও কৃষক এবং ভোক্তা উভয়ই ক্ষতিগ্রস্থ বর্তমান সময়ে যার কারন শজ্বী উৎপাদন এলাকা গুলোতে বন্যার প্রাদুর্ভাব যা এ্কটি মৌসুমী সংকট, ৪. পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে ২৫ লাখ ক্ষুদ্র্র বা অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যবসায়ী ও ১৮টি মন্ত্রণালয় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত। এখন আমাদের উচিত হবে নিরাপদ খাদ্যের মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করার জন্য কৃষিবান্ধব নীতি-সহায়তা দেয়া এবং তার বাস্তবায়ন করা। এ উদ্যোগ কৃষক থেকে ভোক্তা সবার সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সম্ভব। তাহলেই জাতি হিসেবে আমরা এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম সুস্থ-সবল হিসেবে বেড়ে উঠব; ৫. ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের বিপরীতে টিসিবি অথবা অন্য কোনো উপায়ে পণ্যের সরবরাহ বাড়ালে দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে। পেঁয়াজ, আলু, আদাসহ বেশ কয়েকটি পণ্য আছে, তা পচনশীল। এগুলো বেশিদিন ধরে রাখা যায় না। ফলে বিকল্প উপায়ে সরবরাহ বাড়লে এমনিতে ব্যবসায়ীরা পণ্য ছেড়ে দেবে। পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার রক্ষায় বিভিন্ন আইন আছে এগুলোও বাস্তবায়ন করতে হবে। পণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখার পাশাপাশি যাতে কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ ক্রেতার সাধ্যের মধ্যে রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজন হলে আমদানিনির্ভর পণ্যগুলোর সরবরাহ ঠিক রাখার জন্য আমদানির পরিমাণ বাড়িয়ে মজুত স্বাভাবিক রাখতে হবে। তা হলেই মূল্য সংকট থেকে জাতি বেরিয়ে আসতে পাড়বে।
লেখক: অধ্যাপক (অর্থনীতি), ডিন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ও সিন্ডিকেট সদস্য, সিটি ইউনির্ভাসিটি ও সাবেক জৈষ্ঠ্য সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবীদ সমিতি, ঢাকা।
(কেএইচকে/এসএএম/২৯ নভেম্বর ২০২০)