Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Thursday, 30 Jul 2026 00:00
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: নিয়ন্ত্রিত পণ্যের রফতানি সীমায়িত করবে এমন নতুন ও কঠোর আইন সামনে নিয়ে এসেছে চীন। এই নিয়ম প্রাথমিকভাবে মনোযোগ দিয়েছে সামরিক প্রযুক্তি এবং চীনের জাতীয় সুরক্ষাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এমন অন্যান্য পণ্যের নিয়ন্ত্রণের দিকে। খবর বিবিসি।

বিস্তৃতভাবে এটি বিশ্বাস করা হচ্ছে যে প্রতিক্রিয়াটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের একই ধরনের কর্মকাণ্ডের একটি জবাব। টিকটক, হুয়াওয়ে ও টেনসেন্ট এর বিরুদ্ধে এরই মধ্যে আমেরিকার প্রযুক্তি জগতে যে কঠোর বিধিব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তার শিকারে পরিণত হতে হয়েছে। এর মাঝে মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মাঝে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধকে নতুন করে উসকে দিতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

এর আগে ২০১৮ সাল থেকে মূলত এ দুটি অর্থনৈতিক জায়ান্টের মধ্যে বাণিজ্য সংঘাতের সূত্রপাত হয়। কিন্তু এ বছর সংঘাত আরো তীব্র রূপ ধারণ করেছে।

টেক শীতল যুদ্ধ
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন চীনা ফার্মগুলোর ওপর নির্বাহী আদেশ জারি করেছে, যেখানে বলা হয়েছে, কোম্পানিগুলো চীন সরকারের সঙ্গে নিজেদের তথ্য শেয়ার করছে। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের অধ্যাপক অ্যালেক্স কাপরি বলেন, চীনের নতুন রফতানি আইন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রযুক্তি যুদ্ধের একটি প্রতিক্রিয়া বলা যেতে পারে এবং এখান থেকে চীন নিজের সুবিধাগুলো আদায় করে নিতে চাইছে।

বিবিসির সঙ্গে কথা বলার সময় মি. কাপরি আরো বলেন, এখানে আরেকটি বিষয়, যা আমার কাছে খুবই আগ্রহোদ্দীপক মনে হয়েছে তা হলো, চীন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) এবং অ্যালগরিদমকেও এই রফতানি নিয়ন্ত্রণের আওতায় রেখেছে।

এটা যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা টিকটকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উৎসাহিত হয়েছিল। চীনা সরকার এই এআই ভাগাভাগি করতে চায়নি, যোগ করে বলেন কাপরি।

কাপরি বিশ্বাস করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের এই বাণিজ্যযুদ্ধ জো বাইডেনের অধীনেও একই পথ অনুসরণ করবে। তিনি বলেন, আমরা চীনের সঙ্গে ঠাণ্ডা যুদ্ধে অবস্থান করছি, এটা মূলত টেক কোল্ড ওয়ার।

নতুন আইন কী?
রফতানি নিয়ন্ত্রণ আইন ‘নিয়ন্ত্রিত পণ্যে’র অনেকগুলো বিভাগে প্রতিষ্ঠিত, যেখানে নিউক্লিয়ার, সামরিক সরঞ্জাম এবং সামরিক ও বেসামরিক উভয় উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যায় এমন পণ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া এ আইনের অধীনে সেই পণ্যগুলোকেও রাখা হয়েছে, যেগুলো চীনের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

পাশাপাশি এও বলা হয়েছে যে, রফতানিকারকদের অবশ্যই লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে, যদি তারা কোনো নিয়ন্ত্রণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত পণ্য রফতানি করতে চায়।

নিয়ন্ত্রিত পণ্যগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্যও এই আইনের আওতায় থাকবে। আপত্তিকর লেনদেনের ক্ষেত্রে এ আইন অনুযায়ী ১০ গুণ জরিমানা দিতে হবে, যা ৭৬ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

আইনটি বিদেশী সংস্থা কিংবা স্বতন্ত্র ব্যক্তিকেও শাস্তি দেয়ার জন্য অনুমোদন দেয়। যেখানে বলা হয়েছে, বেইজিং এটাকে ব্যবহার করে বৈশ্বিকভাবে সংবেদনশীল প্রযুক্তির বেচাকেনাকে সীমায়িত করতে পারে।

এদিকে আইনটি দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে এই ভাবনায় দুর্লভ খনিজ পদার্থগুলোর দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। চীন হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুর্লভ খনিজ পদার্থ সরবরাহকারীদের অন্যতম। যা স্মার্টফোন থেকে শুরু করে উইন্ড টারবাইনেও নানাভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

কাপরি বলেন, যখন দুর্লভ খনিজের প্রসঙ্গ সামনে আসে, তখন চীন ব্যাপকভাবে সুবিধা পেয়ে থাকে। কারণ ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে দুর্লভ খনিজ উত্তোলনের ক্ষমতার সঙ্গে চীনের নাম জড়িয়ে রয়েছে।

(ডিএফই/০২ ডিসেম্বর ২০২০)