
প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাকা: কৃষি মন্ত্রণালয় বাজেটে বরাদ্দের টাকা খরচ করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান।
তিনি বলেন, বরাদ্দ দেয়া হয় যদি তা ব্যয় বা খরচ করতে কেন পারে না তা দেখার দরকার। কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দলীয় জেষ্ঠ্য নেতা। তার মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ দেওয়া টাকা খরচ করতে পারে না কেন আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না।
গতকাল রোববার রাতে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ আয়োজিত ‘প্রাক বাজেট আলোচনা-২০১৭: আসন্ন বাজেট ও কৃষিখাত’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান ক্রয় পদ্ধতি ভেঙ্গে যদি ইউনিট পদ্ধতি করা হয় তাহলে দুর্নীতি আরো বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। মধ্যস্বত্বভোগী ও বিভিন্ন কারণে ধান ক্রয়ে আমরা যে মূল্য ঘোষণা করি তা দিতে পারি না, এটাও বাস্তব সমস্যা।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রবৃদ্ধিতে গ্রাম-গঞ্জ থেকে শুরু করে প্রতিটি সেক্টরের অংশগ্রহণ রয়েছে। আমরা প্রায়ই বলি বিনিয়োগ হচ্ছে, বিনিয়োগ দরকার। বিনিয়োগ তো হচ্ছে। আমরা যে বিনিয়োগ করছি তাই যথেষ্ট। যে মা একটি চুলায় রান্না করছে, একটি বাচ্চাকে স্কুলে পাঠাচ্ছে, একটি প্রাণী লালন পালন করছেন তিনিও বিনিয়োগ করছেন। অথচ আমরা বিনিয়োগ বলতে মনে করি মাইক্রোসফটের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানরা আসবে, কোটি কোটি বিনিয়োগ করবে। এটা আমরা চাই না। কৃষির মাধ্যমে আমাদের গ্রামে-গঞ্জে যে বিনিয়োগ হচ্ছে তাই যথেষ্ট।
তিনি বলেন, কৃষিতে শ্রমিক সংকট প্রায়ই দেখা যায়। অন্য খাতে শ্রমিক আছে কাজ নেই। কাজের সংকট। অথচ কৃষি খাতে শ্রমিক পাওয়া যায় না। এটা ভালো লক্ষণ। আমরা চাই কৃষি খাতে শ্রমিক সংকট আরো প্রকট হোক। তাহলে এর মর্ম বুঝা যাবে। কৃষি দুর্যোগ মোকাবেলা ফান্ড, জলবায়ু পরিবর্তন ফান্ড ব্যবহারসহ কৃষিবিদদের দেয়া প্রস্তাব সরকার বিবেচনা করবে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ ইব্রাহীম খালিদ বলেন, কৃষি পণ্য, ফলমূল ও শাক-সবজি সংরক্ষণের জন্য সরকার চারটি কোল্ড স্টোরেজ করার কথা বললেও করেনি। কোল্ড স্টোরেজ হলে এসব পণ্য নষ্ট হবে না, সংরক্ষণ করা সহজ হবে। সরকারি পর্যায়ে না হলে বেসরকারি খাতে এ কোল্ড স্টোরেজ করার সুযোগ দেয়া উচিত। কোল্ড স্টোরেজ করতে উৎসাহ প্রদানের জন্য এর যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক সুবিধা, প্রযুক্তি সুবিধা ও ঋণ সহায়তা দেয়া উচিত।
তিনি বলেন, কৃষকদের নগদ সহায়তা দিতে আমরা ১ কোটি কৃষকের একাউন্ট খুলেছি। নগদ সহায়তা ব্যাংকে দেয়ার ফলে টাকা নয় ছয় হয়নি। কিন্তু এরপর থেকে হাতে হাতে দেয়ার পর তা কিছুটা নয়ছয় হয়েছে। এখনো ৪০ লাখ একাউন্ট সচল আছে। কৃষিতে উৎসাহ প্রদানে আবার সেই নগদ সহায়তা চালু করা উচিত। এছাড়া কৃষি যন্ত্রাংশ ক্রয়ে কৃষককে সুবিধা, গবেষকদের অবসর বয়স বৃদ্ধি ও তাদের জন্য আলাদা বেতন স্কেলের সুপারিশ করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ এর সভাপতি কৃষিবিদ এএমএম সালেহ বলেন, কৃষিতে আরো বিপ্লব ঘটাতে হলে কৃষি ঋণ ২ থেকে ৩ শতাংশ করা উচিত। কৃষিতে নগদ সহায়তার চেয়ে এগ্রো প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিকে সুবিধা প্রদান করলে কৃষি ও কৃষক বেশি উপকৃত হবে। এছাড়া কৃষি কর্মকর্তাদের যানবাহন সমস্যা দূর, গবেষণায় ভাতা বাড়ানো ও গবেষকদের সুবিধা বাড়ানোর সুপারিশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ড. জাহাঙ্গীর আলম, স্বাগত বক্তব্য রাখেন কৃষিবিদ খায়রুল আলম প্রিন্স। এছাড়া ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ভাগ্যবতী বণিক, প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আইনুল হক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
(এসএএম/ ২২ মে ২০১৭)