
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: চীনের সামরিক কমপ্লেক্স ও আবাসিক এলাকায় টেসলা গাড়ি প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। প্রতিষ্ঠানটির গাড়িতে থাকা বিল্ড-ইন ক্যামেরা ও সেন্সর দিয়ে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহে ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি’ তৈরি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মার্কিন বিদ্যুতচালিত গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ ওয়াশিংটন – বেইজিংয়ের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ও কূটনৈতিক উত্তেজনার সর্বশেষতম চিত্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দায়িত্ব নেয়ার পর বিবাদ নিরসনে দুই পক্ষের সিনিয়র কর্মকর্তারা যখন আলাস্কায় আলোচনার টেবিলে, ঠিক তখনই টেসলা নিষিদ্ধের এ খবর সামনে এল। খবর ব্লুমবার্গ ও রয়টার্স।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের এ পদক্ষেপ জাতীয় সুরক্ষার কথা উল্লেখ করে চীনা টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের ব্যবস্থার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। পাশাপাশি চলমান আলোচনার বিষয়টিও এখানে সম্পর্কযুক্ত। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইউরেশিয়া গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ইয়ান রোমার বলেন, আমি মনে করি এ ঘোষণার সময়ের সঙ্গে দুই পক্ষের আলোচনার বিষয়টি সম্পর্কযুক্ত।
রেমন্ড জেমস অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের বিশ্লেষক পাভেল মোলচানভ বলেন, টেসলার ওপর সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞাগুলো যুক্তরাষ্ট্রে টেলিকম অবকাঠামোয় বেইজিংয়ের প্রবেশ নিয়ে হুয়াওয়ের প্রতি মার্কিন সরকারে বৈরিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল। এ ধরনের উদ্বেগ অতিরঞ্জিত হলেও এটা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত সংস্থাগুলোর জন্য বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।
এ আদেশে টেসলার মালিকদের তাদের গাড়ি সামরিক স্থাপনার বাইরে পার্ক করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। নির্দেশনা পাওয়া এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্লুমবার্গকে বলেছেন, চীনের সামরিক বাহিনীর এ আদেশের পর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম বিদ্যুত্চালিত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির গাড়ি অভ্যন্তরীণ ক্যামেরার মাধ্যমে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করছে, যা চীন সরকার দেখতে কিংবা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।
নিষিদ্ধ করার খবরের পর গতকাল টেসলা ইনকের প্রধান নির্বাহী ইলোন মাস্ক জানান, তার গাড়িগুলো গুপ্তচরবৃত্তিতে ব্যবহার করা হলে তার প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। ভার্চুয়াল একটি আলোচনায় মাস্ক বলেন, যেকোনো তথ্য খুব গোপনীয় রাখার জন্য আমাদের প্রবল উৎসাহ রয়েছে। যদি টেসলা চীন কিংবা অন্য কোথাও গুপ্তচরবৃত্তির জন্য গাড়ি ব্যবহার করে, তবে আমি আমার প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেব।
সামরিক এলাকার নিষিদ্ধের বিষয়টি নিউইয়র্ক শেয়ারবাজারেও প্রভাব পড়ে। গতকাল লেনদেনে টেসলার শেয়ারদর ৪ দশমিক ৪ শতাংশ পড়ে যাওয়ার পর শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কম থেকেই লেনদেন শেষ হয়েছে। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কারখানা তৈরির ক্ষেত্রে টেসলা সাংহাইয়ের কাছ থেকে দৃঢ় সমর্থন পেয়েছিল। সস্তা মাইক্রো ইভি আসার আগে চীনে সর্বাধিক বিক্রি হওয়া বিদ্যুত্চালিত গাড়ি ছিল টেসলার মডেল ৩ সেডান।
নিষেধাজ্ঞা দেয়া নোটিসটি চীনা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত হয়েছিল। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, টেসলা গাড়িগুলোর মাল্টি-ডিরেকশন ক্যামেরা ও আলট্রাসনিক সেন্সরগুলো ‘অবস্থান প্রকাশ করতে পারে’। এজন্য গোপনীয় সামরিক তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যানবাহনগুলোকে সামরিক এলাকা থেকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।
অন্যান্য গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো টেসলাও বেশ কয়েকটি ছোট ক্যামেরা ব্যবহার করে। গাড়ির বাইরে থাকা এ ক্যামেরাগুলো পার্কিং, অটোপাইলট ও সেলফ-ড্রাইভিংয়ের মতো কাজে সহায়তা করে। পাশাপাশি চালকের সুবিধার্থে রেয়ার ভিউ আয়নায়ও ক্যামেরা লাগানো থাকে।
সাংহাইয়ের নিকটবর্তী একটি গিগাফ্যাক্টরিতে মডেল ৩ এস ও মডেল ওয়াই এসইউভি তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এ সংস্থা। ২০১৯ সালের এপ্রিলে সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ইলোন মাস্ক টুইটে অভ্যন্তরীণ ক্যামেরা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যদি আপনার গাড়ি কোনো ধরণের দুর্ঘটনা কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হয় তবে আপনি পরবর্তীতে ভিডিওটি দেখে নিতে পারবেন।
(ডিএফই/২১ মার্চ, ২০২১)